অসংক্রামক রোগে মৃত্যু ৭১ শতাংশ, কার্যকর পদক্ষেপ জরুরি: জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কর্মশালা
বাংলাদেশে মোট মৃত্যুর প্রায় ৭১ শতাংশের জন্য দায়ী অসংক্রামক রোগ—এমন উদ্বেগজনক তথ্য উঠে এসেছে রাজধানীতে অনুষ্ঠিত এক জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক কর্মশালায়। বক্তারা বলেন, অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, বিশেষ করে অতিরিক্ত চিনি, লবণ (সোডিয়াম), স্যাচুরেটেড ফ্যাট ও ট্রান্স-ফ্যাটসমৃদ্ধ অতি-প্রক্রিয়াজাত খাবার উচ্চ রক্তচাপ, ডায়াবেটিস ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়াচ্ছে।
রাজধানীর ফারস হোটেল অ্যান্ড রিসোর্টস-এ আয়োজিত “বাংলাদেশে অসংক্রামক রোগ মোকাবিলা: উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ ও ফ্রন্ট-অফ-প্যাক লেবেলিং-এর ভূমিকা” শীর্ষক এ কর্মশালার আয়োজন করে প্রজ্ঞা (প্রগতির জন্য জ্ঞান), সহযোগিতায় ছিল Global Health Advocacy Incubator (GHAI)। এতে প্রিন্ট, টেলিভিশন ও অনলাইন মিডিয়ার ২৮ জন জ্যেষ্ঠ সাংবাদিক অংশগ্রহণ করেন।
কর্মশালায় জানানো হয়, দেশে প্রায় ৯৭ শতাংশ মানুষ নিয়মিত প্যাকেটজাত খাদ্য গ্রহণ করলেও প্যাকেটের পেছনের জটিল পুষ্টিতথ্য অধিকাংশ ভোক্তার কাছে বোধগম্য নয়। ফলে তারা খাদ্যের প্রকৃত পুষ্টিমান ও স্বাস্থ্যঝুঁকি না জেনেই খাদ্য নির্বাচন করেন। এ প্রেক্ষাপটে ফ্রন্ট-অফ-প্যাকেজ লেবেলিং (এফওপিএল) চালুর ওপর গুরুত্বারোপ করেন বক্তারা। এর মাধ্যমে খাদ্যের সম্মুখভাগেই “অতিরিক্ত” সতর্কবার্তা উল্লেখ থাকলে ভোক্তারা সহজেই স্বাস্থ্যঝুঁকি সম্পর্কে সচেতন হতে পারবেন।
বক্তারা জানান, বিশ্বে ইতোমধ্যে ৪৪টি দেশে এফওপিএল চালু হয়েছে, যার মধ্যে ১০টি দেশে এটি বাধ্যতামূলক। এসব দেশে ভোক্তাদের খাদ্যাভ্যাসে ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্য গ্রহণ কমেছে।
এছাড়া উচ্চ রক্তচাপসহ অসংক্রামক রোগ মোকাবিলায় স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর তাগিদ দেন বক্তারা। বর্তমানে এ খাতে মোট স্বাস্থ্য বাজেটের মাত্র ৪.২ শতাংশ ব্যয় করা হচ্ছে, যা প্রয়োজনের তুলনায় খুবই কম। ফলে কমিউনিটি ক্লিনিকগুলোতে নিয়মিত ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা যাচ্ছে না। টেকসই অর্থায়নের মাধ্যমে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও কমিউনিটি ক্লিনিকে ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা গেলে পরিস্থিতির উন্নতি সম্ভব বলে মত দেন তারা।
কর্মশালায় আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. সোহেল রেজা চৌধুরী, মুহাম্মাদ রূহুল কুদ্দুস, মর্তুজা হায়দার লিটন, নাদিরা কিরণ, মিজান চৌধুরী ও এবিএম জুবায়ের। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন রিয়াজ আহমদ এবং বিষয়ভিত্তিক উপস্থাপনা তুলে ধরেন সামিহা বিনতে কামাল ও শবনম মোস্তফা।