মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার

নিরাপদ পর্যটন নিশ্চিতে কক্সবাজারে হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিকদের সাথে মতবিনিময় সভা

নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:
সম্প্রতি ইনানী ও কলাতলীসহ বিভিন্ন স্থানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। পাটুয়ারটেকের টুপটুপ রিসোর্টের অগ্নিকাণ্ডে ১০ জনের প্রাণহানি হয়েছে। সমুদ্রে গোসলে নেমেও পর্যটকের মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এই মর্মান্তিক ঘটনাগুলোর প্রেক্ষিতে পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে জেলা প্রশাসন কক্সবাজারের আয়োজনে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, কটেজ ও রেস্তোরাঁ মালিক-ব্যবস্থাপক, সমিতি ও অংশীজনদের নিয়ে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মো: আ: মান্নান। উপস্থিত ছিলেন মাননীয় সংসদ সদস্য লুৎফুর রহমান কাজল ও অ্যাডভোকেট শামীম আরা বেগম স্বপ্না। আরও ছিলেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক), পুলিশ সুপার, ট্যুরিস্ট পুলিশ, কউক সচিব, ফায়ার সার্ভিস, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিপিডিবি, সিভিল সার্জন ও স্থানীয় সরকারের কর্মকর্তারা। সঙ্গে ছিলেন হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, রেস্তোরাঁ মালিক সমিতি, ট্যুর অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনসহ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিগণ।

সভার শুরুতে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। এরপর বিদ্যমান আইন ও বিধিমালা, ফায়ার সেফটি, অবকাঠামো ও পর্যটক নিরাপত্তা নিয়ে খোলামেলা আলোচনা হয়। কর্মকর্তাগণের পাশাপাশি হোটেল মোটেল রিসোর্ট এর মালিক/প্রতিনিধিগণ তাদের বক্তব্যে নানাবিধ সমস্যা সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।

সভায় সর্বসম্মতিক্রমে সিদ্ধান্ত হয়, প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে ফায়ার লাইসেন্স, অগ্নিনির্বাপণ সরঞ্জাম, জরুরি বহির্গমন পথ ও কর্মীদের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক থাকবে। বিদ্যুতের ঝুঁকিপূর্ণ সংযোগ সংস্কার, অভিভাবক ছাড়া অপ্রাপ্তবয়স্কদের রুম বরাদ্দ নিষিদ্ধকরণ এবং সিসিটিভি ও গেস্ট রেজিস্টার সংরক্ষণও বাধ্যতামূলক হবে। প্রশাসন আশ্বস্ত করেছে, ব্যবসায়ীদের দাবির প্রেক্ষিতে লাইসেন্স প্রক্রিয়া সহজ করতে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেল’ চালু হবে। পাটুয়ারটেক-হিমছড়ি এলাকায় নতুন ফায়ার স্টেশনের প্রস্তাব উচ্চপর্যায়ে পাঠানো হবে। সৈকতে লাইফগার্ড, ফ্লাডলাইট ও সিসিটিভি জোরদার করা হবে এবং ইসিএ সংক্রান্ত বাস্তব সমস্যার সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে যাবে।

পর্যটক আসে আনন্দের খোঁজে, ফিরতে চায় নিরাপদ স্মৃতি নিয়ে। সেই বিশ্বাস রক্ষা করাই আমাদের অঙ্গীকার। নিরাপত্তা হোক কক্সবাজার পর্যটনের পরিচয়, সবার দায়িত্বে, সবার সহযোগিতায়।

ব্যবসায়ীদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে লাইসেন্সপ্রাপ্তির প্রক্রিয়া সহজ করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে ‘ওয়ান স্টপ সার্ভিস সেল’ চালুর আশ্বাস দেওয়া হয়। এ ছাড়া পাটুয়ারটেক-হিমছড়ি এলাকায় নতুন ফায়ার স্টেশন স্থাপনের প্রস্তাব ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানোর সিদ্ধান্ত হয়। সৈকতে লাইফগার্ডের কার্যক্রম জোরদার, ফ্লাডলাইট স্থাপন এবং সিসিটিভি নজরদারি বাড়ানোর বিষয়েও গুরুত্বারোপ করা হয়। পরিবেশগত সংকটাপন্ন এলাকা (ইসিএ) সংক্রান্ত বাস্তব সমস্যাগুলো পর্যালোচনা করে প্রয়োজনীয় সুপারিশ মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর বিষয়েও আলোচনা হয়।

পর্যটকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রশাসন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী এবং অন্যান্য অংশীজনের সমন্বিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

পর্যটকেরা কক্সবাজারে আসেন আনন্দ ও প্রশান্তির খোঁজে, ফিরে যেতে চান নিরাপদ ও আনন্দময় স্মৃতি নিয়ে। তাঁদের সেই প্রত্যাশা পূরণে নিরাপদ পর্যটনব্যবস্থা গড়ে তোলা সংশ্লিষ্ট সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। নিরাপত্তাই হোক কক্সবাজার পর্যটনের অন্যতম পরিচয়।

ক্যাটাগরি