রাঙামাটিতে ৮০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দিল সেনাবাহিনী।
মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি :
রাঙামাটিতে ৮০০ রোগীকে বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ দিল সেনাবাহিনী প্রতিনিধি: দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার মধ্যে থাকা অসহায়, দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য রাঙামাটিতে দিনব্যাপী বিনামূল্যে চিকিৎসাসেবা দিয়েছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। রাঙামাটি রিজিয়ন ও রাঙামাটি সিএমএইচের উদ্যোগে রাঙামাটি সদর হাসপাতালে আয়োজিত এ মেডিকেল ক্যাম্পে প্রায় ৮০০ রোগী চিকিৎসাসেবা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও প্রয়োজনীয় ওষুধ পেয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (৮ অক্টোবর) আয়োজিত ক্যাম্পে বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষকে চিকিৎসাসেবা দেন রাঙামাটি রিজিয়ন ও সিএমএইচের চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীরা। রোগীদের শারীরিক অবস্থা ও রোগের ধরন অনুযায়ী চিকিৎসা ও প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্য পরামর্শ দেওয়ার পাশাপাশি বিনামূল্যে ওষুধ বিতরণ করা হয়।
পার্বত্য চট্টগ্রামের দুর্গম ভৌগোলিক অবস্থান, যোগাযোগ ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা এবং চিকিৎসক ও চিকিৎসা সরঞ্জামের স্বল্পতার কারণে প্রত্যন্ত এলাকার অনেক মানুষ নিয়মিত ও মানসম্মত চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত হন। বিশেষ করে নিম্নআয়ের মানুষের জন্য চিকিৎসা ব্যয় অনেক সময় বড় বাধা হয়ে দাঁড়ায়। এমন পরিস্থিতিতে বিনামূল্যের এ চিকিৎসা ক্যাম্প স্থানীয় দরিদ্র ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের জন্য সহায়ক হয়েছে।
ক্যাম্পে চিকিৎসা নিতে আসা বিভিন্ন বয়সী নারী-পুরুষ চিকিৎসকদের কাছ থেকে রোগ সম্পর্কে পরামর্শ নেন। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ বিনামূল্যে পাওয়ায় তারা স্বস্তি প্রকাশ করেন।
মেডিকেল ক্যাম্প পরিদর্শন করেন রাঙামাটি জোন কমান্ডার। এ সময় তিনি চিকিৎসাসেবা নিতে আসা রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন এবং তাদের শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজখবর নেন। পরে তিনি ক্যাম্পে দায়িত্ব পালনকারী চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় করেন এবং সার্বিক কার্যক্রম সম্পর্কে অবহিত হন।
রোগীদের উদ্দেশে বক্তব্যে জোন কমান্ডার বলেন, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গমতা ও চিকিৎসাসেবার সীমাবদ্ধতার কারণে অনেক মানুষ প্রয়োজনীয় চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হন। বাংলাদেশ সেনাবাহিনী পার্বত্য অঞ্চলের সাধারণ মানুষের পাশে রয়েছে এবং তাদের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে কাজ করে যাচ্ছে। ভবিষ্যতেও এ ধরনের জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম অব্যাহত রাখার পাশাপাশি এর পরিধি আরও বাড়ানো হবে।
সংশ্লিষ্টরা জানান, এ ধরনের মেডিকেল ক্যাম্পের মাধ্যমে শুধু তাৎক্ষণিক চিকিৎসা ও ওষুধ সরবরাহ নয়, দুর্গম এলাকার মানুষের মধ্যে স্বাস্থ্যসচেতনতা বৃদ্ধিতেও ভূমিকা রাখা সম্ভব। পাশাপাশি প্রত্যন্ত জনগোষ্ঠীর কাছে স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দেওয়ার মাধ্যমে স্থানীয় পর্যায়ে পারস্পরিক যোগাযোগ ও সহযোগিতার সুযোগও তৈরি হয়।
স্থানীয়দের মতে, প্রান্তিক ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়িয়ে এ ধরনের উদ্যোগ পাহাড়ি অঞ্চলের মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। তাদের ভাষ্য, বিনামূল্যে চিকিৎসা, স্বাস্থ্য পরামর্শ ও ওষুধ পাওয়ায় অনেক দরিদ্র মানুষ উপকৃত হয়েছেন।