বাসি-পচা খাবার, নকল মসলা ব্যবহারে রাঙামাটির দুই রিসোর্টে ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা
অহিদুল ইসলাম অভি-রাঙামাটি জেলা প্রতিনিধি
রাঙামাটির বিভিন্ন রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইনে অভিযান চালিয়ে দুটি প্রতিষ্ঠানকে মোট ২ লাখ ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে। বুধবার (৭ অক্টোবর) জেলা সদরের বিভিন্ন রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।
অভিযানে সেবার মূল্য তালিকা প্রদর্শন না করা, বাসি-পচা খাবার সংরক্ষণ এবং অননুমোদিত নকল মসলা ব্যবহারের মতো অনিয়ম পাওয়া যায় বলে জানিয়েছে অভিযান সংশ্লিষ্টরা।
অভিযানে ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ আইন, ২০০৯-এর ৩৯ ও ৫২ ধারা ভঙ্গের দায়ে বার্গি রিসোর্টকে ২ লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। একই অভিযানে আইনের ৩৯ ধারা ভঙ্গের দায়ে রেজাং রিসোর্টকে ১০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।
জেলা প্রশাসনের সহকারী কমিশনার ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট মো. তামজিদ রহমানের নেতৃত্বে অভিযানটি পরিচালিত হয়। এতে জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তরের রাঙামাটি জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক রানা দেব নাথ উপস্থিত ছিলেন।
অভিযান সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, রাঙামাটির বিভিন্ন রিসোর্ট ও রেস্টুরেন্টে সেবার মূল্য যথাযথভাবে প্রদর্শন না করা এবং খাবার সংরক্ষণ ও মান নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছিল। এসব অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে বার্গি রিসোর্টে বাসি-পচা খাবার সংরক্ষণ এবং অননুমোদিত নকল মসলা ব্যবহারের বিষয়টি পাওয়া যায় বলে জানানো হয়েছে। এ ধরনের অনিয়মের কারণে পর্যটকদের খাবারের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
রাঙামাটিতে কাপ্তাই হ্রদ, পাহাড় ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি স্থানীয় খাবারও পর্যটকদের অন্যতম আকর্ষণ। শহর ও আশপাশের বিভিন্ন পর্যটন স্পটে ঘুরতে আসা দেশি-বিদেশি পর্যটকদের একটি অংশ স্থানীয় রেস্টুরেন্ট ও রিসোর্টে খাবার গ্রহণ করেন। ফলে এসব প্রতিষ্ঠানের খাবারের মান ও সেবার ওপর পর্যটকদের অভিজ্ঞতার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ নির্ভর করে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, কোনো রেস্টুরেন্ট বা রিসোর্টে খাবারের মান, সংরক্ষণ কিংবা সেবার ক্ষেত্রে অনিয়ম থাকলে তা সংশ্লিষ্ট ভোক্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। একই সঙ্গে এসব প্রতিষ্ঠানের সেবার মান নিয়ে নেতিবাচক অভিজ্ঞতা রাঙামাটির পর্যটন খাতের সামগ্রিক ভাবমূর্তিতেও প্রভাব ফেলতে পারে।
জেলা প্রশাসন সূত্রে জানা গেছে, পর্যটন মৌসুমকে সামনে রেখে রাঙামাটির বিভিন্ন রেস্টুরেন্ট, রিসোর্ট ও খাবারের প্রতিষ্ঠানে এ ধরনের অভিযান ও মনিটরিং কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। ভোক্তার সঙ্গে প্রতারণা, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে খাবার পরিবেশন কিংবা খাদ্য সংরক্ষণে অনিয়মের প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বুধবারের অভিযানে দুটি প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা করার মধ্য দিয়ে এ পর্যায়ে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। এর বাইরে কোনো তদন্ত বা পরবর্তী আইনগত প্রক্রিয়ার বিস্তারিত তথ্য অভিযানের সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানানো হয়নি।