বুধবার, ৩০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য সংবাদ

কোতোয়ালী পুলিশের বিশেষ অভিযানে চুরি মামলায় হেলালসহ ৩ জন গ্রেফতার

চট্টগ্রাম নগরীর কোতোয়ালী থানা পুলিশের বিশেষ অভিযানে দোকান থেকে নগদ টাকা ও মোবাইল ফোন চুরির মামলায় মো. হেলালসহ তিনজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে। পুলিশের দাবি, গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে মো. হেলালের বিরুদ্ধে চুরি, মাদক ও দস্যুতা-সংক্রান্ত একাধিক মামলা রয়েছে।

পুলিশ জানায়, গত ৪ জুলাই রাত আনুমানিক ৩টা ৫৩ মিনিটে নান্টু দাশ নামে এক ব্যবসায়ী দোকান বন্ধ করার প্রস্তুতিকালে একটি খাকি রঙের শপিং ব্যাগে দুটি মোবাইল ফোন ও ব্যবসার নগদ ২ লাখ ১০ হাজার টাকা রেখে দোকানের ভেতরে যান। কিছুক্ষণ পর দোকান বন্ধ করার সময় ক্যাশবাক্সের ওপর রাখা ব্যাগটি দেখতে না পেয়ে তিনি সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করেন। ফুটেজে তিনজনকে অটোরিকশায় এসে একজনের মাধ্যমে ব্যাগটি নিয়ে দ্রুত চলে যেতে দেখা যায় বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এ ঘটনায় নান্টু দাশ কোতোয়ালী থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।

পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ), অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) ও এসি কোতোয়ালী জোনের সার্বিক দিকনির্দেশনায় এবং কোতোয়ালী থানার অফিসার ইনচার্জের নেতৃত্বে এসআই মো. মামুনুর রশিদের নেতৃত্বে একটি বিশেষ দল তদন্ত শুরু করে।

এর ধারাবাহিকতায় ২৪ সেপ্টেম্বর বাকলিয়া থানাধীন মাস্টারপুল বউ বাজার এলাকায় অভিযান চালিয়ে সিসিটিভি ফুটেজের ভিত্তিতে মো. হেলাল (২৭) ও মিজানুর রহমান ওরফে আলাউদ্দিনকে (২৬) গ্রেফতার করা হয়।

পুলিশ জানায়, জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে এবং চুরি করা মোবাইল ফোন তৃতীয় এক ব্যক্তির কাছে বিক্রি করার তথ্য দেয়। তাদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ওইদিন রাত সাড়ে ১১টার দিকে কোতোয়ালী থানাধীন পুরাতন রেলওয়ে স্টেশন এলাকা থেকে মো. মনিরুজ্জামান মনু (৫৫) নামে আরও একজনকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতার তিনজনকে আদালতে সোপর্দ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে পুলিশ। মামলাটি তদন্তাধীন রয়েছে।

পুলিশের নথি অনুযায়ী হেলালের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা

পুলিশের সিডিএমএস পর্যালোচনায় মো. হেলালের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামের চকবাজার, বাকলিয়া ও কোতোয়ালী থানা এবং কুমিল্লার হোমনা থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, দণ্ডবিধির ৩৯৯/৪০২, ৪৫৭/৩৮০/৪৬১ ধারাসহ সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একাধিক মামলা থাকার তথ্য পাওয়া গেছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

এর মধ্যে কোতোয়ালী থানায় ২০২৪ সালের একটি মামলায় দণ্ডবিধির ৪৫৭/৩৮০/৪৬১ ধারা এবং ২০২৫ ও ২০২৬ সালের পৃথক মামলায় ৩৯৯/৪০২ ধারার উল্লেখ রয়েছে। এছাড়া চকবাজার ও বাকলিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইন, ২০১৮-এর সংশ্লিষ্ট ধারায় একাধিক মামলা এবং কুমিল্লার হোমনা থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে একটি মামলার তথ্যও পুলিশের নথিতে রয়েছে।

তবে এসব মামলার প্রতিটির বর্তমান বিচারিক অবস্থার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য এই পুলিশি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়নি।

ক্যাটাগরি