শনিবার, ২৬শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১১ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য সংবাদ

আলীকদমে কারবারীকে এলোপাতাড়ি কোপ: কুপিয়ে জখমের পর এলাকায় তীব্র আতঙ্ক

হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান প্রতিনিধি:

বান্দরবানের আলীকদমে নিজ ধানের খামারের কাছে এক ম্রো কারবারির ওপর একদল সশস্ত্র দুর্বৃত্ত হামলা চালিয়েছে। এতে রক্তাক্ত ও আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। হামলার পর পরই পুরো এলাকায় চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয় এবং একপর্যায়ে ওই কারবারির মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়ে।

স্থানীয় সূত্র ও ভুক্তভোগী পরিবার জানায়, বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) সকাল আনুমানিক ৭টা ৪০ মিনিটের দিকে চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের পাদুই পাড়ায় নিজ খামার থেকে মাত্র ৩০০ গজ দূরে অবস্থান করছিলেন ওই কারবারি। এ সময় ধারালো অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে একদল দুর্বৃত্ত অতর্কিতে তাঁর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে। আত্মরক্ষার সুযোগ না দিয়ে তাঁকে এলোপাতাড়ি কোপানো ও পেটানো হয়। হামলাকারীদের নৃসংশতায় ভুক্তভোগী কারবারির মুখ, চোখ ও মাথায় ধারালো অস্ত্রের অন্তত ৩টি গভীর ক্ষত সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া তাঁর পিঠে লাঠির প্রায় ৭টি মারাত্মক আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

অতিরিক্ত রক্তক্ষরণে তিনি গুরুতর আহত হলে চারদিকে তাঁর মৃত্যুর সংবাদ ছড়িয়ে পড়ে। পরে স্থানীয়রা তাঁকে উদ্ধার করে দ্রুত আলীকদম উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান। সেখানে তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে দায়িত্বরত চিকিৎসক উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ (চমেক) হাসপাতালে স্থানান্তর করেন। এ ঘটনায় কাইরি পাড়ার বাসিন্দা মেনরু ম্রো ও কাদিং ম্রোর ছয় সন্তান—লেংক্লাং ম্রো, মেনথন ম্রো, মেনলিউ ম্রো, মেনরুই ম্রো, মেনওয়াই ম্রো এবং তোম ওয়াই ম্রোর বিরুদ্ধে সরাসরি হামলার অভিযোগ তোলা হয়েছে।

হামলার সত্যতা নিশ্চিত করে আলীকদম থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) শাহেদ পারভেজ জানান, খবর পাওয়ার পরপরই আইনশৃঙ্খলা বাহিনী পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে নিয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে বা কোন পূর্বশত্রুতার জেরে এই হামলা হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। বিষয়টি বর্তমানে গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করা হচ্ছে। এদিকে, ঘটনার সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে জড়িতদের দ্রুত গ্রেফতার করে আইনের আওতায় আনার জোর দাবি জানিয়েছেন ক্ষুব্ধ এলাকাবাসী ও ভুক্তভোগীর পরিবার।

ক্যাটাগরি