অসুস্থ বড় ভাইকে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি, সংগৃহীত অর্থের অর্ধেক ভাগাভাগি! ভোলাহাটে তদন্তের দাবি
এম. এস. আই শরীফ, প্রতিনিধি, ভোলাহাট (চাঁপাইনবাবগঞ্জ):
চাঁপাইনবাবগঞ্জের ভোলাহাটে অসুস্থ বড় ভাই আজিমকে সঙ্গে নিয়ে ভিক্ষাবৃত্তি করছেন ছোট ভাই রাজু। তাঁদের দাবি, প্রতিদিন ভিক্ষাবৃত্তির মাধ্যমে সংগৃহীত চাল, ডাল, ধানসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ নিজেদের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে নেন তাঁরা। বিষয়টি ঘিরে স্থানীয়ভাবে আলোচনা তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে অসুস্থ আজিমের আর্থিক নিরাপত্তা ও সরকারি সহায়তার যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করার বিষয়েও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ করা হয়েছে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে ভোলাহাট উপজেলার ৩ নম্বর দলদলী ইউনিয়নের মুশরীভূজা এলাকায় সাংবাদিক শরীফের সঙ্গে কথোপকথনে দুই ভাই তাঁদের জীবনযাপন ও ভিক্ষাবৃত্তির বিষয়ে বিভিন্ন তথ্য জানান।
বড় ভাই আজিমের ভাষ্য অনুযায়ী, একসময় তিনি রাজমিস্ত্রির কাজ করতেন। প্রায় তিন বছর আগে একটি নির্মাণাধীন ভবনে কাজ করার সময় ওপর থেকে স্ল্যাব পড়ে তিনি গুরুতর আহত হন। এরপর থেকে তাঁর শারীরিক সক্ষমতা কমে যায় এবং স্বাভাবিকভাবে কাজ করে জীবিকা নির্বাহ করা কঠিন হয়ে পড়ে। এ পরিস্থিতিতে জীবিকার প্রয়োজনে তাঁকে ভিক্ষাবৃত্তির ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে বলে জানান তিনি।
স্থানীয়ভাবে জানা যায়, অসুস্থ আজিমকে একটি ভ্যানে বসিয়ে রেখে ছোট ভাই রাজু ব্যাগ হাতে এলাকার বিভিন্ন বাড়িতে ঘুরে চাল, ডাল, খুদ, ধানসহ বিভিন্ন খাদ্যসামগ্রী ও নগদ অর্থ সংগ্রহ করেন। দুই ভাইয়ের দাবি, দিন শেষে সংগৃহীত অর্থ ও সামগ্রী তাঁরা সমানভাবে ভাগ করে নেন।
রাজু জানান, গত তিন বছর ধরে ভ্যান ভাড়া করে এবং একটি মাইক ব্যবহার করে তাঁরা এভাবে ভিক্ষাবৃত্তি করছেন। তাঁদের বাড়ি চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলার গোমস্তাপুর উপজেলার খয়রাবাদ এলাকায়।
এদিকে, বড় ভাই আজিম সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতা পান বলে জানা গেছে। তবে তাঁর শারীরিক অবস্থা, চিকিৎসার প্রয়োজন, ভাতার অর্থ কীভাবে ব্যয় হয় এবং দৈনন্দিন জীবিকা নির্বাহে তাঁর প্রকৃত আর্থিক চাহিদা কতটুকু—এসব বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য যাচাই করা প্রয়োজন।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দৃষ্টি আকর্ষণ
একজন অসুস্থ মানুষের জীবিকা নির্বাহের সংগ্রাম মানবিক সহায়তার দাবি রাখে। পাশাপাশি তাঁর আর্থিক অধিকার, চিকিৎসা এবং সরকারি সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করাও গুরুত্বপূর্ণ। এ অবস্থায় আজিমের শারীরিক অবস্থা ও আর্থিক প্রয়োজন সরেজমিনে যাচাই করে প্রয়োজনীয় সহায়তা প্রদানের জন্য সমাজসেবা অধিদপ্তর ও স্থানীয় প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছেন সচেতন মহল।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে দুই ভাইয়ের বক্তব্য, সংগৃহীত অর্থ ভাগাভাগির বিষয়টি এবং সরকারি প্রতিবন্ধী ভাতার ব্যবহার যাচাই করা হলে প্রকৃত পরিস্থিতি আরও স্পষ্ট হতে পারে। যাচাইয়ের ফলাফলের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ, চিকিৎসা সহায়তা ও পুনর্বাসনের উদ্যোগ নেওয়া গেলে আজিমের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখা সম্ভব হতে পারে।