এক মাস পর ভেসে উঠলো রাঙামাটির ঝুলন্ত সেতু
মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি :
কাপ্তাই হ্রদের পানি কমে যাওয়ায় এক মাসেরও বেশি সময় পর আবারও পুরোপুরি দৃশ্যমান হয়েছে রাঙামাটির পর্যটনের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতু। দীর্ঘদিন পানির নিচে তলিয়ে থাকার পর বুধবার (১৪ অক্টোবর) থেকে সেতুটি পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হয়েছে। এতে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে সেতু ঘিরে ফিরতে শুরু করেছে পর্যটকদের আনাগোনা। পাশাপাশি স্বস্তি ফিরেছে পর্যটনসংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীদের মধ্যে।
বুধবার বিকেলে রাঙামাটি পর্যটন কমপ্লেক্সের ব্যবস্থাপক আলোক বিকাশ চাকমা সেতুটি পর্যটকদের জন্য খুলে দেওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
তিনি জানান, চলতি বছর দ্বিতীয় দফায় গত ১১ সেপ্টেম্বর কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় ঝুলন্ত সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। পর্যটকদের নিরাপত্তার কথা বিবেচনা করে ওই দিন থেকেই সেতুতে প্রবেশ বন্ধ রাখা হয়। পরবর্তী সময়ে হ্রদের পানি কমে সেতুটি দৃশ্যমান হলে প্রয়োজনীয় সংস্কারকাজ শেষে বুধবার থেকে পর্যটকদের চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করা হয়।
সেতুটি পুনরায় খুলে দেওয়ায় রাঙামাটিতে পর্যটন কার্যক্রমে গতি ফিরবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তাঁদের প্রত্যাশা, দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে পর্যটকদের আগমন বাড়লে হোটেল-মোটেল, রিসোর্ট, পরিবহন ও নৌযানসহ পর্যটননির্ভর ব্যবসা-বাণিজ্যে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশি, চারপাশের পাহাড় আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে দাঁড়িয়ে থাকা ঝুলন্ত সেতুটি রাঙামাটির পর্যটন পরিচিতির অন্যতম প্রতীক। প্রতিবছর অসংখ্য দেশি-বিদেশি পর্যটক সেতুটি দেখতে ছুটে আসেন। স্থল ও জলপথে পর্যটন কমপ্লেক্স এলাকায় পৌঁছে সেতুতে ঘুরে বেড়ানো অনেক পর্যটকের ভ্রমণের অন্যতম আকর্ষণ।
তবে বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় প্রায় প্রতিবছরই সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে যায়। ফলে নিরাপত্তার স্বার্থে সাময়িকভাবে বন্ধ রাখতে হয় পর্যটকদের প্রবেশ। গত বছরও টানা ৮৫ দিন পানির নিচে ছিল সেতুটি। এতে পর্যটন কার্যক্রম ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়েন এ খাতের সঙ্গে জড়িত ব্যবসায়ীরা।
প্রতিবছর একই পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি রাঙামাটির পর্যটন খাতের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সেতুটি বন্ধ থাকায় পর্যটকেরা জেলার অন্যতম আকর্ষণটি উপভোগের সুযোগ থেকে বঞ্চিত হন। একই সঙ্গে পর্যটকদের আনাগোনা কমে যাওয়ায় ক্ষতির মুখে পড়েন পর্যটননির্ভর বিভিন্ন ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানের মালিক ও কর্মীরা।
পর্যটনসংশ্লিষ্টদের মতে, প্রতিবছর বর্ষা মৌসুমে সেতুটি পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ার বিষয়টি বিবেচনায় নিয়ে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। কাপ্তাই হ্রদের পানির সর্বোচ্চ উচ্চতা, সেতুর অবস্থান ও কাঠামোগত নিরাপত্তা বিবেচনায় কারিগরি সমীক্ষার ভিত্তিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে সেতুটি বন্ধ থাকার সময় কমানোর সম্ভাবনা খতিয়ে দেখা যেতে পারে।
১৯৮৬ সালে নির্মিত প্রায় ৩৩৫ ফুট দীর্ঘ রাঙামাটির এই ঝুলন্ত সেতু দুটি পাহাড়কে সংযুক্ত করেছে। দীর্ঘদিন পানির নিচে থাকার পর সেতুটি আবারও পর্যটকদের জন্য উন্মুক্ত হওয়ায় রাঙামাটির পর্যটন খাতে নতুন করে প্রাণচাঞ্চল্য ফেরার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।