বুধবার, ২৩শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৮ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য সংবাদ

‘​’মিস ইউ মা’ বার্তা ও পাহাড়ে উদ্ধার: নেপথ্যে ভারত ভ্রমণের লোভ

হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান প্রতিনিধি:

অভিভাবকদের অমতে ঘুরতে যাওয়া এবং ভারতে নিয়ে যাওয়ার লোভে পড়ে বান্দরবানের দুর্গম পাহাড়ে নিখোঁজ হওয়া সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী রাতুল দেবনাথকে (১৩) অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করেছে পুলিশ। নিখোঁজের মাত্র ১২ ঘণ্টার মাথায় বান্দরবান সদর থানার দুর্গম ‘১২ মাইল’ এলাকা থেকে তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় তাকে উদ্ধার করা হয়। রাতুল চাঁদপুর জেলার মতলব উত্তর উপজেলার ছেংগারচর বাজারের স্বর্ণ ব্যবসায়ী বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেবনাথের ছেলে এবং স্থানীয় ছেংগারচর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের ছাত্র।

পুলিশ ও পারিবারিক সূত্রে জানা গেছে, গত ২১ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ১১টার দিকে স্কুলের উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয় রাতুল। এর পর থেকেই তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোনটি বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজনেরা সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজ নিয়েও কোনো সন্ধান না পেয়ে মতলব উত্তর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। এর কয়েক ঘণ্টা পর, সন্ধ্যা সোয়া ৬টার দিকে রাতুলের ফেসবুক পেজে ‘Miss you Ma’ (মা, তোমাকে মনে পড়ছে) লেখা একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস ভেসে ওঠে, যা দেখে পরিবারের সদস্যদের মধ্যে চরম উদ্বেগ ছড়িয়ে পড়ে।

ঘটনার গুরুত্ব অনুধাবন করে চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমানের নির্দেশে তাৎক্ষণিক অভিযানে নামে পুলিশ। মতলব সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার জাবীর হুসনাইন সানীব ও মতলব উত্তর থানার ওসি মোহাম্মদ কামরুল হাসানের তত্ত্বাবধানে এসআই জীবন চৌধুরী ও এএসআই রবিউল হোসেনের সমন্বয়ে গঠিত একটি চৌকস দল উদ্ধার তৎপরতা শুরু করে। আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় রাতুলের অবস্থান চিহ্নিত করে বান্দরবান সদর থানা পুলিশের সহযোগিতায় দুর্গম পাহাড়ি এলাকা ‘১২ মাইল’-এ অভিযান চালিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে রাতুলকে পরিবারের জিম্মায় দেওয়া হয়েছে।

উদ্ধারের পর রাতুল জানায়, সে দীর্ঘদিন ধরে মা-বাবার কাছে ঘুরতে যাওয়ার বায়না করলেও তারা সম্মতি দেননি। এরই মধ্যে তার মায়ের এক আত্মীয় তাকে বান্দরবানের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখানোর পাশাপাশি ভারতে নিয়ে যাওয়ার প্রলোভন দেখায়। সেই প্রলোভনে পড়েই সে মা-বাবার অজান্তে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন করে পাহাড়ি অঞ্চলের উদ্দেশ্যে রওনা দিয়েছিল।

ছেলেকে অক্ষত অবস্থায় ফিরে পেয়ে স্বস্তি প্রকাশ করে রাতুলের বাবা বিশ্বজিৎ চন্দ্র দেবনাথ পুলিশের দ্রুত পদক্ষেপ ও দক্ষতার প্রতি ধন্যবাদ জানান। চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান এ বিষয়ে জানান, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং যেকোনো বিপদে দ্রুত সাড়া দেওয়া জেলা পুলিশের প্রধান দায়িত্ব, আর সেই লক্ষ্যেই পুলিশ কাজ করে যাচ্ছে।

ক্যাটাগরি