বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য সংবাদ

উত্তর নাইল্যাছড়িতে বেওয়ারিশ কুকুরের উৎপাত: দুর্ঘটনা, আতঙ্ক ও অর্থনৈতিক ক্ষতিতে অতিষ্ঠ এলাকাবাসী

মোহাম্মদ মামুন কাউখালী (রাঙ্গামাটি) প্রতিনিধি:

রাঙ্গামাটির কাউখালী উপজেলার উত্তর নাইল্যাছড়ি এলাকায় বেওয়ারিশ কুকুরের উপদ্রব ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে। দীর্ঘ প্রায় ৮-৯ মাস ধরে কুকুরের সংখ্যা অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাওয়ায় স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা, শিশুদের ওপর হামলার চেষ্টা, গবাদিপশু ও হাঁস-মুরগির ক্ষয়ক্ষতিসহ নানা দুর্ভোগে পড়ছেন এলাকাবাসী।

রোববার (১৯ জুলাই) সকালে কুকুরের কারণে সড়ক দুর্ঘটনায় একজন মাদ্রাসা শিক্ষক আহত হন। স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উত্তর নাইল্যাছড়ি ইমাম গাজ্জালী (রহ.) সুন্নিয়া মাদ্রাসার শিক্ষক মো. নজিম উদ্দিন জীবন মোটরসাইকেলের পেছনের আসনে (পিলিয়ন) বসে কাউখালী বাজারের উদ্দেশ্যে রওনা দেন। পথে হঠাৎ একটি কুকুর মোটরসাইকেলের সামনে চলে আসলে চালক নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কে পড়ে যান। এতে শিক্ষকসহ দুজন আহত হন এবং মোটরসাইকেলটিরও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। তবে আল্লাহর রহমতে তাঁরা প্রাণে রক্ষা পান।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, উত্তর নাইল্যাছড়িতে ৮-১০টি কুকুরের একাধিক দল দিন-রাত ঘুরে বেড়াচ্ছে। বিশেষ করে কোমলমতি শিশু, বৃদ্ধ ও পথচারীরা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে রয়েছেন। কয়েকদিন আগে আসরের নামাজ শেষে এক শিশুকে ৭-৮টি কুকুর ধাওয়া করলে স্থানীয় এক ব্যক্তি এগিয়ে এসে কুকুরগুলোকে তাড়িয়ে শিশুটিকে রক্ষা করেন।

শুধু মানুষের নিরাপত্তাই নয়, বেওয়ারিশ কুকুরের আক্রমণে গৃহপালিত হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশুরও ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। সম্প্রতি স্থানীয় এক বাসিন্দার দুটি বড় মোরগ কুকুরের আক্রমণে মারা যায়, যার আনুমানিক মূল্য প্রায় দেড় হাজার টাকা।

স্থানীয়দের দাবি, কয়েক মাস আগে উত্তর নাইল্যাছড়ি জামে মসজিদের মাঠে একসঙ্গে ৪৬টি কুকুর দেখা গেছে। এসব কুকুর প্রধান সড়কে অবস্থান করায় যানবাহন চলাচলও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। এছাড়া বাড়ির আঙিনায় ঢুকে জুতা-স্যান্ডেল ও শুকাতে দেওয়া কাপড়চোপড় নষ্ট করার অভিযোগও রয়েছে। রাতের বেলায় কুকুরের দলবদ্ধ চিৎকার ও মারামারির কারণে এলাকাবাসীর ঘুম ব্যাহত হচ্ছে। অনেককে লাঠিসোটা হাতে নিয়ে রাতের অন্ধকারে মসজিদে কিংবা প্রয়োজনীয় কাজে যাতায়াত করতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে উত্তর নাইল্যাছড়ি জামে মসজিদের খতিব এবং উত্তর নাইল্যাছড়ি ইমাম গাজ্জালী (রহ.) সুন্নিয়া মাদ্রাসার সুপার ও পরিচালক মুহাম্মদ আরিফুল ইসলাম রেজভী বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী নির্বিচারে কুকুর নিধন নয়, বরং জলাতঙ্ক প্রতিরোধে টিকাদান ও বন্ধ্যাকরণ কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানান তিনি।

এলাকাবাসী উপজেলা প্রশাসন, প্রাণিসম্পদ বিভাগ এবং সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে দ্রুত বেওয়ারিশ কুকুর নিয়ন্ত্রণে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের আশঙ্কা, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে যেকোনো সময় বড় ধরনের দুর্ঘটনা বা প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।

ক্যাটাগরি