কাপ্তাইয়ে ধনিয়া চাষে কৃষকের ঘাম,খরচের তুলনায় মিলছে না কাঙ্ক্ষিত লাভ
মো. জয়নাল আবেদীন, কাপ্তাই (রাঙামাটি) প্রতিনিধি:
রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে ধনিয়া চাষে ব্যস্ত সময় পার করছেন স্থানীয় কৃষকরা। জমি প্রস্তুত থেকে শুরু করে বীজ বপন, সার প্রয়োগ, কীটনাশক ও বিভিন্ন ওষুধ ব্যবহার, নিয়মিত পরিচর্যা—সব মিলিয়ে ধনিয়া চাষে কৃষকদের দিতে হচ্ছে কঠোর পরিশ্রম। তবে সেই পরিশ্রম ও উৎপাদন খরচের তুলনায় অনেক কৃষকই কাঙ্ক্ষিত লাভ পাচ্ছেন না।
স্থানীয় কৃষকদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ধনিয়া চাষে জমির পরিমাণ অনুযায়ী বীজ, সার, কীটনাশক ও শ্রমিকের পেছনে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় হয়। ধনিয়ার জমিতে নিয়মিত যত্ন নিতে হয়। সামান্য অবহেলা হলে রোগবালাই বা পোকামাকড়ের আক্রমণে ফলন কমে যেতে পারে। ফলে কৃষকদের অনেক সময় বাড়তি ওষুধ ও পরিচর্যার খরচ বহন করতে হয়।
একজন কৃষক জানান, প্রতিদিন একটি জমি থেকে প্রায় ২৫ থেকে ৩০ কেজি ধনিয়া সংগ্রহ করে বাজারজাত করা সম্ভব হয়। পাইকারি বাজারে প্রতি কেজি ধনিয়া প্রায় ৪০ টাকা দরে বিক্রি করলে ২৫ কেজিতে ১ হাজার টাকা এবং ৩০ কেজিতে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত পাওয়া যায়। কিন্তু এই আয় থেকে বীজ, সার, ওষুধ, শ্রমিকের মজুরি, জমি প্রস্তুত ও অন্যান্য খরচ বাদ দিলে কৃষকের হাতে প্রকৃত লাভ অনেকটাই কমে যায়।
অন্যদিকে, কৃষকের কাছ থেকে কম দামে ধনিয়া কিনে ব্যবসায়ীরা বাজারে তুলনামূলক বেশি দামে বিক্রি করছেন বলে অভিযোগ কৃষকদের। স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, কোনো কোনো ক্ষেত্রে প্রতি কেজি ধনিয়া ১২০ টাকা পর্যন্ত খুচরা বাজারে বিক্রি হতে দেখা যায়। ফলে উৎপাদনের মূল শ্রম ও ঝুঁকি বহন করেও কৃষক ন্যায্য মূল্য থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।
কৃষকরা বলেন, ধনিয়া চাষে শুধু অর্থ নয়, সময় ও শ্রমও অনেক বেশি দিতে হয়। সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত জমিতে কাজ করেও অনেক সময় উৎপাদন খরচের সঙ্গে বিক্রয়মূল্যের সামঞ্জস্য থাকে না। কৃষকের ঘাম ও পরিশ্রমের যথাযথ সম্মান এবং ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করা গেলে ধনিয়া চাষ আরও লাভজনক হয়ে উঠতে পারে।
কৃষকদের দাবি, স্থানীয় বাজারে ধনিয়ার ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, সরাসরি বাজারজাতের সুযোগ সৃষ্টি, কৃষি উপকরণের দাম সহনীয় পর্যায়ে রাখা এবং মধ্যস্বত্বভোগীদের দৌরাত্ম্য কমাতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে। এতে কাপ্তাইয়ের কৃষকরা ধনিয়া চাষে উৎসাহিত হওয়ার পাশাপাশি উৎপাদন বাড়িয়ে স্থানীয় বাজারের চাহিদাও পূরণ করতে পারবেন।