লামায় ‘মাতামুহুরি রিভার সাইড রিসোর্টে’ নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ, থানায় লিখিত আবেদন
নজরুল ইসলাম (লামা,বান্দরবান
বান্দরবানের লামায় অবস্থিত মাতামুহুরি রিভার সাইড রিসোর্টে নারী পর্যটককে ধর্ষণচেষ্টা, মারধর, চাঁদাবাজি ও ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগে থানায় লিখিত আবেদন জমা পড়েছে।
ভুক্তভোগী আবু ছিদ্দিক (৩৫), কক্সবাজার জেলার চকরিয়া উপজেলার জিন্দাবাজার এলাকার বাসিন্দা। তিনি লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করেন, গত ২৫ জুন দুপুরে তার পরিচিত দুই নারী পর্যটককে নিয়ে মানিকপুর ঘাট থেকে নৌকা ভ্রমণে বের হন। নৌকা ভ্রমণের সময় সঙ্গে থাকা এক নারী পর্যটকের হঠাৎ মাসিক (পিরিয়ড) শুরু হলে তিনি শারীরিকভাবে অসুস্থ হয়ে পড়েন। তাৎক্ষণিক জরুরি সহায়তার জন্য তারা কাছাকাছি থাকা মাতামুহুরি রিভার সাইড রিসোর্টে আশ্রয় নেন।
অভিযোগে বলা হয়, রিসোর্টে প্রবেশের পর রিসোর্টের মালিক রাশেদ কৌশলে তাদের একটি কক্ষে নিয়ে দরজা আটকে দেন। পরে অসুস্থ নারী পর্যটকের সুযোগ নিয়ে তার সঙ্গে আপত্তিকর আচরণ ও ধর্ষণের চেষ্টা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বাধা দিতে গেলে আবু ছিদ্দিককে মারধর করা হয়।
ভুক্তভোগীর অভিযোগ, এসময় রাশেদসহ আরও কয়েকজন তার মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেয় এবং সঙ্গে থাকা দুই নারীকে ভয়ভীতি দেখিয়ে বাথরুমে নিয়ে গিয়ে জোরপূর্বক আপত্তিকর ছবি ধারণ করে। একই সঙ্গে তাদের কানে থাকা স্বর্ণের দুল ছিনিয়ে নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
এছাড়া প্রাণনাশের ভয় দেখিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে নগদ ৪৮ হাজার টাকা এবং বিকাশের মাধ্যমে আরও ১ হাজার টাকা আদায় করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। পরে তাকে বিবস্ত্র করে ভিডিও ধারণ করে জোরপূর্বক স্বীকারোক্তি আদায় করা হয়। পাশাপাশি ঘটনাটি প্রকাশ করলে ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়।
ঘটনার পর ভুক্তভোগী ও সঙ্গে থাকা নারী পর্যটকরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েন। পরে বিষয়টি নিয়ে লামা থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করা হয়।
এ বিষয়ে লামা রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ও অ্যাডভোকেট সাদেকুল মাওলা ইরাক বলেন, “ভুক্তভোগীদের আইনি সহযোগিতায় সর্বোচ্চ সহায়তা করা হবে। ঘটনার সত্যতা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণে আমরা প্রশাসনকে সহযোগিতা করবো।”
তবে অভিযোগের বিষয়ে অভিযুক্তদের বক্তব্য জানা যায়নি। পুলিশ অভিযোগটি তদন্ত করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানা গেছে।