সরকার ঐক্য চায়, কিন্তু একটি মহল বিভ্রান্তি ছড়াচ্ছে: প্রধানমন্ত্রী
সোহাগ শেখ, স্টাফ রিপোর্টার
বর্তমান সরকার দেশের সব মানুষকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে চায়। তবে সরকার যখন সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে, তখন একটি মহল নানা ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। একই সঙ্গে ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কোনো বক্তব্য বা দাবি থাকলে তা জনগণের প্রতিনিধিদের নিয়ে গঠিত জাতীয় সংসদে উপস্থাপন করা উচিত।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) রংপুরের রাধাগোবিন্দ মন্দিরে শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। এ সময় তিনি সনাতন ধর্মাবলম্বীদের নবমীর শুভেচ্ছা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ সব ধর্মের মানুষের দেশ। দেশের স্বাধীনতা অর্জন থেকে শুরু করে গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানেও সব ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে ধর্মীয় পরিচয় বিবেচনা না করে দেশের মানুষ স্বাধীনতার জন্য লড়াই করেছেন। বিভিন্ন ধর্ম, মত ও শ্রেণি-পেশার মানুষের সম্মিলিত প্রচেষ্টায় বাংলাদেশ স্বাধীনতা অর্জন করেছে। একইভাবে স্বাধীনতার পর বিভিন্ন সময়ে গণতন্ত্র হুমকির মুখে পড়লে মানুষ রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার দাবিতে রাজপথে নেমে এসেছেন। এসব আন্দোলনেও সব ধর্মের মানুষের অংশগ্রহণ ছিল।
২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে দেশের মানুষ স্বৈরাচারকে বিতাড়িত করেছে। সে সময় রাজপথের চিত্র পর্যালোচনা করলে দেখা যায়, বাংলাদেশে বসবাসকারী সব ধর্মের মানুষের সম্মিলন ঘটেছিল। দল-মত, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য আন্দোলনে অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি আরও বলেন, এসব ঘটনা প্রমাণ করে, বাংলাদেশ দীর্ঘকাল ধরে সব ধর্মের মানুষকে সঙ্গে নিয়ে এগিয়ে চলেছে। ভবিষ্যতেও যেন সব ধর্মের মানুষ শান্তিপূর্ণভাবে একসঙ্গে বসবাস করতে পারেন, সেটিই সবার প্রত্যাশা। দেশ স্বাধীন করার ক্ষেত্রে যেমন সবাই সম্মিলিতভাবে কাজ করেছেন, তেমনি রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও সব ধর্মের মানুষের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আগামী দিনে প্রত্যাশিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হলে সব ধর্ম ও মতের মানুষকে একসঙ্গে দেশের জন্য কাজ করতে হবে। পারস্পরিক ঐক্য বজায় রেখে সম্মিলিতভাবে এগিয়ে যেতে পারলেই মানুষের প্রত্যাশা পূরণ করা সম্ভব। এ জন্য সমাজের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের সহযোগিতা ও সমর্থন প্রয়োজন।
রংপুরের উন্নয়নে ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ
রংপুরের উন্নয়ন পরিকল্পনার কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী জানান, রংপুর মহানগরের উন্নয়নে দুই সপ্তাহ আগে অনুষ্ঠিত একটি সভায় ১ হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করা হয়েছে।
এ ছাড়া স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার মাধ্যমে জেলা পরিষদকে কাজে লাগিয়ে রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামের মানুষের প্রয়োজন অনুযায়ী অবকাঠামো নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের।
তিনি বলেন, স্থানীয় মানুষের প্রয়োজন বিবেচনায় ব্রিজ, কালভার্ট, স্কুল-কলেজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পর্যায়ক্রমে নির্মাণ করা হবে। এর মাধ্যমে বিভিন্ন এলাকার মানুষ যেন প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা পান, সে লক্ষ্যে সরকার কাজ করতে চায়। এসব উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়নে সবার সম্মিলিত প্রচেষ্টা ও পারস্পরিক সহযোগিতা জরুরি।
বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ
দেশে জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠার উদ্যোগের পাশাপাশি একটি মহলের বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বলেন, বর্তমান সরকার সবাইকে সঙ্গে নিয়ে চলতে এবং ঐক্য গড়ে তুলতে চায়। কিন্তু কিছুদিন ধরে একটি মহল বিভিন্ন ধরনের বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে।
এ ধরনের কর্মকাণ্ড দেশের মানুষের মধ্যে কাঙ্ক্ষিত ঐক্য প্রতিষ্ঠার পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি। প্রধানমন্ত্রী ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানকে বিতর্কিত না করে কোনো বক্তব্য, দাবি বা মতামত থাকলে তা জাতীয় সংসদে উপস্থাপনের আহ্বান জানান।