প্রকল্পের টাকায় পকেট ভারী, শেষমেশ ঠাঁই জেলহাজতে: বরখাস্ত পিআইও মিল্টন দস্তিদার
হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান প্রতিনিধি’:
দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা মামলায় শেষ রক্ষা হলো না বান্দরবান ও রোয়াংছড়ি উপজেলার দায়িত্বে থাকা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (পিআইও) মিল্টন দস্তিদারের। পরোয়ানাভুক্ত আসামি হিসেবে গ্রেপ্তারের পর আদালত তাঁকে কারাগারে পাঠালে এবার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তর থেকে এল সাময়িক বরখাস্তের আদেশ।
গত ৬ সেপ্টেম্বর দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক রেজওয়ানুর রহমান স্বাক্ষরিত এক অফিস আদেশে মিল্টন দস্তিদারকে চাকরি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করার এই সিদ্ধান্ত জানানো হয়।
অফিস আদেশ সূত্রে জানা যায়, মিল্টন দস্তিদার বর্তমানে বান্দরবান সদর ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় পিআইও হিসেবে দায়িত্বে থাকলেও এর আগে তিনি চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জ উপজেলায় কর্মরত ছিলেন। সেখানে দায়িত্বে থাকাকালে তাঁর বিরুদ্ধে কোটি টাকার অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে। এর পরিপ্রক্ষিতে ২০২৪ সালের ১০ সেপ্টেম্বর দুদকের চাঁদপুর জেলা কার্যালয়ে দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪-এর ২৬(২) ও ২৭(১) ধারায় একটি মামলা দায়ের করা হয়।
পরবর্তীতে ওই মামলায় আদালত থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হলে পুলিশ তাঁকে গ্রেপ্তার করে। গত ২৩ জুলাই ২০২৬ তাঁকে চাঁদপুর জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। বর্তমানে তিনি ওই কারাগারেই আটক রয়েছেন।
সরকারি চাকরি বিধিমালা অনুযায়ী, কারাগারে আটক থাকায় তাঁকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তিনি বিধি অনুযায়ী কেবল খোরপোষ ভাতা পাবেন। এছাড়া মামলাটি চূড়ান্ত নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত তিনি বর্তমান কর্মস্থলে কিংবা অন্য কোনো পদে যোগ দিতে পারবেন না বলেও আদেশে স্পষ্ট করা হয়েছে।
মাঠপর্যায়ে প্রশাসনিক স্থবিরতা এড়াতে ইতিমধ্যে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন বান্দরবান সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মারুফা সুলতানা খান হীরামণি। তিনি জানান, “দুদকের মামলায় গ্রেপ্তার হয়ে পিআইও মিল্টন দস্তিদার কারাগারে থাকায় অধিদপ্তর তাঁকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে। সেই নির্দেশনা মোতাবেক উপজেলা প্রশাসন তাঁর সকল প্রশাসনিক কার্যক্রম স্থগিত করেছে এবং উক্ত পদে নতুন একজন কর্মকর্তাকে স্থলাভিষিক্ত করা হয়েছে।”
উল্লেখ্য, চাঁদপুর ফরিদগঞ্জের অপরাধের জন্য তিনি জেলে গেলেও বান্দরবান সদর ও রোয়াংছড়ি উপজেলায় পিআইও হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময়ও তাঁর বিরুদ্ধে বিভিন্ন সরকারি প্রকল্পের অর্থ আত্মসাৎ ও নানা অনিয়মের বিস্তর অভিযোগ রয়েছে।