পাহাড়ি ঢলে ফারুয়া প্লাবিত, পানিবন্দি ১২ হাজার মানুষ।
মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি :
পাহাড়ি ঢল ও টানা অতিবৃষ্টিতে রাঙামাটি জেলার বন্যা পরিস্থিতিতে মিশ্র চিত্র দেখা দিয়েছে। বাঘাইছড়ি উপজেলায় পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করায় পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হলেও, বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়নে বন্যা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে।
বাঘাইছড়ি উপজেলার বিভিন্ন নিচু এলাকা থেকে ধীরগতিতে পানি নামছে। তবে এখনও উপজেলার ১৪টি আশ্রয়কেন্দ্রে কয়েকশ মানুষ অবস্থান করছেন। উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে দুর্গতদের মাঝে খাদ্যসহায়তা বিতরণ অব্যাহত রয়েছে।
অন্যদিকে, ভারতের মিজোরাম থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল এবং রাইংখ্যং নদীর উপচে পড়া পানিতে বিলাইছড়ি উপজেলার দুর্গম ফারুয়া ইউনিয়ন সম্পূর্ণ প্লাবিত হয়েছে। ফারুয়া বাজার, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ অন্তত ১৪টি গ্রাম পানির নিচে তলিয়ে গেছে। এতে প্রায় ১২ হাজার মানুষ পানিবন্দি হয়ে চরম খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকটে পড়েছেন।
রাইংখ্যং নদীতে তীব্র স্রোত থাকায় নৌপথে দুর্গম ফারুয়ায় ত্রাণ পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে। একই সঙ্গে বিদ্যুৎ ও মোবাইল নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন থাকায় এলাকার সার্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। সীমিত সম্পদের মধ্যে স্থানীয় প্রশাসন ও জনপ্রতিনিধিরা দুর্গত মানুষের মাঝে শুকনো খাবার বিতরণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন।
বিলাইছড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জাকির হোসেন বলেন, “পাহাড়ি ঢলের কারণে রাইংখ্যং নদীতে প্রচণ্ড স্রোত রয়েছে। এ কারণে আপাতত নৌপথে ফারুয়ায় পৌঁছানো সম্ভব হচ্ছে না। স্রোত কমলেই বড় পরিসরে ত্রাণসামগ্রী নিয়ে দুর্গত এলাকায় যাওয়া হবে। তবে আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থানরত মানুষের জন্য স্থানীয়ভাবে খাবারের ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
এদিকে, গতকাল রাতে বাঘাইছড়ির আশ্রয়কেন্দ্র পরিদর্শন করেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী এম. ইকবাল হোসেন। এ সময় তিনি বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে সরকার সবসময় থাকবে। যতদিন প্রয়োজন, ততদিন ত্রাণ ও খাদ্যসহায়তা দেওয়া হবে—প্রয়োজনে তিন মাসও।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, পাহাড়ি ধস ও বন্যায় ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত পুনর্বাসনে সরকার কাজ করবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের ঘরবাড়ি মেরামতের জন্য টিন সরবরাহেরও পরিকল্পনা রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পাহাড়ের পাদদেশে ঝুঁকিপূর্ণভাবে বসবাসকারী মানুষকে পরিকল্পিতভাবে নিরাপদ স্থানে পুনর্বাসনের বিষয়টি সরকারের সক্রিয় বিবেচনায় রয়েছে। এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সকলের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।