মিথ্যা ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় অবশেষে নির্দোষ প্রমাণিত হল সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন
চট্টগ্রামের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনাল-৪, সাংবাদিক মো. গিয়াস উদ্দিনের বিরুদ্ধে দায়ের করা ধর্ষণ চেষ্টা মামলায় আসামিকে বেকসুর খালাস করে দিয়েছেন। মামলা নং-৩০৬/২০২২ ইং-এর রায়ে গত ৫ মে ২০২৬ইং, মঙ্গলবার আদালত গিয়াস উদ্দিনকে এ খালাস প্রদান করেন।
খালাসপ্রাপ্ত সাংবাদিক মো. গিয়াস উদ্দিন চট্টগ্রামের সাতকানিয়া থানাধীন ১৬ নম্বর সাতকানিয়া সদর ইউনিয়নের বারদোনা গ্রামের ৮নং ওয়ার্ডের খিতামুল্লাহ পাড়ার মৃত আব্দুল মাবুদ ও মমতাজ বেগমের একমাত্র ছেলে।
মামলার বাদী তছলিমা আক্তার একই এলাকার আরেফা বেগমের মেয়ে এবং সোনাকানিয়া ইউনিয়নের ছগিরা পাড়ার বাসিন্দা ইলিয়াছের (স্ত্রী)।
ভুক্তভোগী গিয়াস উদ্দিনের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সাংবাদিকতা পেশার পাশাপাশি পারিবারিক সম্পত্তির ওপর ঘরবাড়ি, দোকানঘর নির্মাণ এবং কৃষিকাজ পরিচালনা করে আসছিলেন। তাহার ভাষ্য অনুযায়ী, ২০২২ইং থেকে আরেফা বেগমগং তাহার সম্পদ ও আর্থিক অবস্থার প্রতি ঈর্ষান্বিত হয়ে জায়গা দখলের ষড়যন্ত্র শুরু করে।
তিনি অভিযোগ করেন, জায়গা দখল ও চাঁদা আদায়ের উদ্দেশ্যে স্থানীয় কিছু অসাধু ব্যক্তিকে সঙ্গে নিয়ে বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হয়। এ ঘটনায় তিনি প্রথমে সাতকানিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতে মামলা দায়ের করেন। যার নং-৪১/২০২২ ইং, তারিখ ৩ ফেব্রুয়ারি ২০২২।
গিয়াস উদ্দিন জানান, মামলা চলমান থাকা অবস্থায় প্রতিপক্ষরা তার মার্কেটের ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধ করে দেয় এবং বাড়িঘরে হামলা চালায়। এসব ঘটনায় তিনি চট্টগ্রাম চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে একাধিক মামলা দায়ের করেন। যার মধ্যে রয়েছে মামলা নং-৩০৮/২০২২, ৩৬৪/২০২২ইং, ৩৮৮/২০২২ ইং, ভায়োলেশন মামলা নং- ৪৮/২০২৩ইং ও ৪১৬/২০২৩ইং।
তাহার অভিযোগ, এসব মামলার প্রতিশোধ নিতে আরেফা বেগমগং তার মেয়ে তছলিমা আক্তারকে দিয়ে নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালে ধর্ষণ চেষ্টা মামলা দায়ের করায়। তবে দীর্ঘ শুনানি শেষে আদালত অভিযোগের সত্যতা না পাওয়ায় মামলাটি খারিজ করে দেন।
গিয়াস উদ্দিন আরও দাবি করেন, প্রতিপক্ষরা সামাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন করতে অপপ্রচার চালানোর পাশাপাশি তার সম্পত্তি দখলের চেষ্টা চালিয়ে যায়। এমনকি বাড়িঘর ভাঙচুর, হামলা, লুটপাট এবং ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে। অপরদিকে, পরবর্তীতে চম্পা আক্তার নামের আরেক নারীও তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ চেষ্টার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলা নং-৬৩/২০২৪ইং, বর্তমানে বিচারাধীন রয়েছে। গিয়াস উদ্দিনের দাবি, এটিও পূর্বের মামলার মতো পরিকল্পিত ও মিথ্যা।
এছাড়া, ২০২২ সালের ৮ অক্টোবর চম্পা আক্তার তার শরীরে ফুটন্ত গরম তেল নিক্ষেপ করে আহত করেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। এ ঘটনায় মামলা নং-৫৩২/২০২২ দায়ের করা হলে আদালত একপর্যায়ে চম্পা আক্তারের জামিন নামঞ্জুর করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। পরে তিনি জামিনে মুক্ত হন।
গিয়াস উদ্দিন বলেন, “আমাকে এলাকা ছাড়া করে জায়গা-সম্পত্তি ও পাওনা টাকা আত্মসাৎ করাই তাদের মূল উদ্দেশ্য। একের পর এক মিথ্যা মামলা ও হামলার কারণে আমি ও আমার পরিবার বর্তমানে মানবেতর জীবনযাপন করছি।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, প্রতিপক্ষরা তার বাড়ির সম্পূর্ণ আসবাবপত্র খুলে নিয়ে গেছে। বর্তমানে খেলার মাঠ। ঐসময় এ বিষয়ে থানায় একাধিক লিখিত অভিযোগ দিলেও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।
সাংবাদিক গিয়াস উদ্দিন মিথ্যা মামলার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি বর্তমানে বিচারাধীন আরেকটি ধর্ষণ চেষ্টা মামলাও নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে খালাস দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।