মঙ্গলবার, ১১ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৭শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

কর্ণফুলীতে ফুল ভাসিয়ে তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘বিষু’ বরণ

‘সংস্কৃতির ঐতিহ্যের শিকড়ের টানে’- এই মূলমন্ত্রকে ধারণ করে রাঙামাটির কাপ্তাইয়ে অত্যন্ত আনন্দঘন ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে উদযাপিত হয়েছে তঞ্চঙ্গ্যা সম্প্রদায়ের প্রধান সামাজিক উৎসব ‘বিষু’। রোববার (১২ এপ্রিল) দিনব্যাপী বর্ণিল কর্মসূচির মাধ্যমে এই উৎসব পালন করা হয়।
কর্ণফুলীতে ফুল ভাসিয়ে তঞ্চঙ্গ্যাদের ‘বিষু’ বরণ
বাংলাদেশ তঞ্চঙ্গ্যা কল্যাণ সংস্থার কাপ্তাই অঞ্চল এবং দেবতাছড়ি-রৈস্যাবিলি অঞ্চল কমিটির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এই উৎসবে মেতে ওঠে পাহাড়ি জনপদ।
ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গেই তঞ্চঙ্গ্যা পল্লীগুলোতে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে। সকাল ৮টায় কর্ণফুলী সরকারি কলেজ সংলগ্ন এলাকায় ঐতিহ্যবাহী রঙ-বেরঙের পোশাকে সেজে জড়ো হন তঞ্চঙ্গ্যা তরুণ-তরুণীরা। পুরোনো বছরের সব দুঃখ-গ্লানি মুছে ফেলে নতুন বছরের মঙ্গল কামনায় তাঁরা কর্ণফুলী নদীর জলে ‘ফুল গছানো’ বা ফুল ভাসানোর মধ্য দিয়ে উৎসবের শুভ সূচনা করেন।

সকাল সাড়ে ৯টায় কাপ্তাই উপজেলা কর্ণফুলী স্টেডিয়াম থেকে একটি বিশাল র‍্যালি বের করা হয়। তঞ্চঙ্গ্যা নারী-পুরুষ ও শিশুরা নিজস্ব কৃষ্টির পোশাকে সজ্জিত হয়ে ঢাক-ঢোল আর বাঁশির সুরে নেচে-গেয়ে র‍্যালিতে অংশ নেন। র‍্যালিটি উপজেলার প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে অফিসার্স ক্লাব চত্বরে এসে শেষ হয়।

র‍্যালি পরবর্তী আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে কাপ্তাই উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মো. রুহুল আমিন বলেন, বিষু উৎসব আজ কেবল একটি নির্দিষ্ট সম্প্রদায়ের নয়, বরং এটি আমাদের সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য প্রতীকে পরিণত হয়েছে। পার্বত্য অঞ্চলের এই সমৃদ্ধ লোকজ ঐতিহ্য একদিন বিশ্ব দরবারে পর্যটকদের প্রধান আকর্ষণে পরিণত হবে।

৫ নম্বর ওয়াগ্গা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান চিরনজীত তঞ্চঙ্গ্যার সভাপতিত্বে সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে কাপ্তাই থানার ওসি শেখ মাহমুদুল হাসান রুবেল, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক পরিচালক নির্মল চন্দ্র তঞ্চঙ্গ্যাসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। বক্তারা নতুন প্রজন্মের কাছে এই প্রাচীন ঐতিহ্যকে তুলে ধরা ও তা সংরক্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন।

বিকালে সাক্রাছড়ি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে তঞ্চঙ্গ্যাদের ঐতিহ্যবাহী খেলাধুলা এবং মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান আয়োজিত হয়। স্থানীয় শিল্পীরা সেখানে তাঁদের নিজস্ব কৃষ্টির বিলুপ্তপ্রায় গান ও নৃত্য পরিবেশন করেন।

ক্যাটাগরি