অধ্যাদেশ বাতিল নয়, সংসদে আইন পাশের দাবি—চট্টগ্রামে অধিকারের সমাবেশে মোহাম্মদ উল্লাহ
বিচার ব্যবস্থার প্রতি জনগণের আস্থা বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশগুলো বাতিল না করে দ্রুত সংসদে আইন হিসেবে পাশ করার দাবি জানিয়েছেন বক্তারা। তারা বলেন, স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা ও আইনের নিরপেক্ষ প্রয়োগ নিশ্চিত করতে এসব অধ্যাদেশ কার্যকর আইন হিসেবে প্রণয়ন জরুরি।
বুধবার (৮ এপ্রিল) সকাল সাড়ে ১০টায় চট্টগ্রাম প্রেসক্লাবের সামনে মানবাধিকার সংগঠন ‘অধিকার, চট্টগ্রাম’-এর উদ্যোগে আয়োজিত সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন বিশিষ্ট সাংবাদিক ও চট্টগ্রাম মহানগর জামায়াতে ইসলামীর এসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি মোহাম্মদ উল্লাহ।
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের আমলে জারি হওয়া অধ্যাদেশগুলোর মেয়াদ আগামী ৩০ এপ্রিল শেষ হতে যাচ্ছে। কিন্তু সংসদ সচল থাকা সত্ত্বেও এগুলো আইন হিসেবে পাশ না করে বাতিলের প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, যা জনস্বার্থবিরোধী। তিনি অবিলম্বে এ প্রক্রিয়া বন্ধ করে অধ্যাদেশগুলোকে আইনে রূপ দেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন অধিকার চট্টগ্রামের ফোকাল পার্সন ওচমান জাহাঙ্গীর এবং সঞ্চালনা করেন এইচআরডি ইমরান সোহেল। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আইনজীবী এড. মোস্তফা নূর, ড. শিব প্রসাদ শূর, গুমের শিকার সা’দুর রশীদ চৌধুরী, এড. আ ন ম জোবায়েরসহ অন্যান্যরা।
বক্তারা বলেন, গুরুত্বপূর্ণ অধ্যাদেশ বাতিলের প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকলে তা বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ক্ষুণ্ন করতে পারে এবং মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে পারে। একটি কার্যকর গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় আইনের শাসন ও বিচার বিভাগের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ণ রাখা অপরিহার্য বলেও তারা উল্লেখ করেন।
সমাবেশে মানবাধিকারকর্মী, আইনজীবী, শিক্ষার্থীসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। কর্মসূচি শেষে অংশগ্রহণকারীরা শান্তিপূর্ণ মানববন্ধন পালন করেন এবং দ্রুত দাবি বাস্তবায়নে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান।
সমাবেশে এইচআরডি লেখক আব্দুল্লাহ মজুমদার অধিকারের স্টেটমেন্ট পাঠ করেন। এছাড়া বক্তব্য রাখেন মো. নজরুল ইসলাম শুকরিয়া, শিক্ষক মো. জিয়া উদ্দিন, নম জোবাইয়র, রাশেল উদ্দিন, জাকের হোসেন, সাংবাদিক মুজিবুল্লাহ তুষার, মীর বরকত হোসেন, শাহ জালাল, জানে আলম, কমল, নুরু মিয়া, মো. বেলাল, বিজয় কুমার, এড. রোকেয়া বেগম, মোরশেদ আলম, মাহফুজুর রহমান, মো. নাসির, তারেক সিদ্দিকী, কবি অভিলাষ মাহমুদ, কবি আসিফ ইকবাল, সালামত উল্লাহ, সমীর পাল, মিজানুর রহমান, রায়হান আবেদিন, সাবেক ছাত্রনেতা নিজাম উদ্দিন প্রমুখ।
ভুক্তভোগী পরিবারের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বলি মনছুরের ছেলে আব্দুর রহিম, জাহিদ হাসানের ভাই মেহেদী হাসান এবং নজরুল ইসলাম বাঁচা চেয়ারম্যানের ছেলে আনিসুল ইসলাম।