পেকুয়ার শিলখালীতে পাহাড় কাটার অভিযোগ, ঝুঁকিতে জনপদ
নিজস্ব প্রতিবেদক:কক্সবাজারের পেকুয়া উপজেলার শিলখালী ইউনিয়নে প্রভাবশালী একটি চক্রের বিরুদ্ধে নিয়মিত পাহাড় কেটে মাটি বিক্রির অভিযোগ উঠেছে। এতে পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি হওয়ার পাশাপাশি আসন্ন বর্ষা মৌসুমে ভয়াবহ ভূমিধসের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয়রা।
অভিযোগ রয়েছে, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী মৎস্যজীবী দলের পেকুয়া উপজেলা শাখার সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুর রহমানের তত্ত্বাবধানে একটি চক্র দীর্ঘদিন ধরে এই অবৈধ কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছে। বন বিভাগের নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে শিলখালী, টইটং ও বারবাকিয়া ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ পাহাড়ি এলাকায় নির্বিচারে মাটি কাটা হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, এসব ইউনিয়নে বন বিভাগের অধীনে প্রায় ১৮ হাজার হেক্টরেরও বেশি সরকারি পাহাড় রয়েছে, যার বড় একটি অংশ ইতোমধ্যে ভূমিদস্যুদের দখলে চলে গেছে।
রাতের আঁধারে পাহাড় কাটা
অভিযোগ অনুযায়ী, শিলখালী ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের আলীচান মাতব্বর পাড়া সংলগ্ন বনানী ডেইরি ফার্ম এলাকায় কয়েক সপ্তাহ ধরে নিয়মিত পাহাড় কাটা হচ্ছে। প্রতিদিন রাত ১০টার পর থেকে ভারী যন্ত্র দিয়ে শুরু হয় এই কার্যক্রম।
স্থানীয়দের দাবি, শিলখালী ইউনিয়ন বিএনপির সদস্য মোহাম্মদ কায়সারের নেতৃত্বে একটি চক্র পাহাড় কেটে মাটি বিক্রি করছে। এছাড়া বনানী পল্লীর ব্যবস্থাপনা সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে প্রশাসন ও বন বিভাগকে ‘ম্যানেজ’ করার অভিযোগও রয়েছে।
এ বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক বাসিন্দা জানান, সংশ্লিষ্টরা প্রকাশ্যেই এসব কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন এবং কোনো বাধার তোয়াক্কা করছেন না।
অন্যদিকে স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, বনানী পল্লীর ম্যানেজার ও মৎস্যজীবী দলের নেতা আব্দুর রহমানের তত্ত্বাবধানে এই কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে তার স্বজন ও সহযোগীদের সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে।
ঝুঁকিতে পাহাড়ের বাসিন্দারা
পাহাড়ের ওপরে বসবাসরত বাসিন্দারা বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছেন। স্থানীয়দের আশঙ্কা, বর্ষা মৌসুমে পাহাড় ধসে বড় ধরনের প্রাণহানির ঘটনা ঘটতে পারে।
এলাকাবাসীর মনে এখনো তাজা ২০২৪ সালের ১৭ আগস্টের সেই ভয়াবহ রাত, যখন শিলখালীর জারুল বুনিয়া সেগুনবাগিচা এলাকায় পাহাড় ধসে একই পরিবারের তিনজনের মৃত্যু হয়। একই বছর এর আগেও আরেকটি পাহাড় ধসে প্রাণহানির ঘটনা ঘটে।
নিষ্ক্রিয় বন বিভাগের অভিযোগ
স্থানীয়দের অভিযোগ, বন বিভাগের কর্মকর্তারা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করলেও কার্যকর কোনো ব্যবস্থা নেননি। বরং দ্রুত কাজ শেষ করার পরামর্শ দিয়ে চলে যাওয়ার অভিযোগও উঠেছে।
এদিকে অভিযোগ অস্বীকার করে মোহাম্মদ কায়সার বলেন, “আমি এ ধরনের কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত নই। আমার একটি ছোট এস্কেভেটর থাকলেও তা পাহাড় কাটার উপযোগী নয়। আমাকে হেয় করতে একটি মহল অপপ্রচার চালাচ্ছে।”
তবে আব্দুর রহমানের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
স্থানীয় সচেতন মহল দ্রুত প্রশাসনের হস্তক্ষেপ কামনা করে অবৈধ পাহাড় কাটা বন্ধ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন।