লামা ফাইতং এলাকায় নির্বিচারে পাহাড় কাটায় পরিবেশ বিপর্যয়ের আশঙ্কা
লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:
বান্দরবানের লামা উপজেলার ফাইতং এলাকায় নির্বিচারে পাহাড় কাটা চলছে বলে অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, উন্নয়নের নামে একের পর এক পাহাড় কেটে প্রকৃতি ধ্বংস করা হচ্ছে, যা সরাসরি পরিবেশ হত্যাকাণ্ডের শামিল। এতে একদিকে যেমন পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, অন্যদিকে মানুষের জীবন ও ভবিষ্যৎও পড়ছে চরম ঝুঁকির মুখে।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ‘নাজু কোম্পানি’ নামের একটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যুক্ত মোক্তার আহম্মেদসহ প্রায় ৩০ জন ব্যক্তি এই পাহাড় কাটার সঙ্গে সরাসরি জড়িত। স্থানীয়দের প্রশ্ন—এই নাজু কোম্পানি আসলে কারা, এবং কে বা কারা তাদের পাহাড় কাটার লাইসেন্স দিয়েছে? এত বড় অপরাধ সংঘটিত হওয়ার পরও কেন এখনো পর্যন্ত জড়িতদের বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি?
এ বিষয়ে পরিবেশ অধিদপ্তর, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরবতা নিয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। তাদের মতে, এই নীরবতাই কি অপরাধীদের প্রশ্রয় দিচ্ছে না—এ প্রশ্ন এখন সর্বমহলে আলোচিত।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, পাহাড় কাটা মানেই শুধু মাটি অপসারণ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে ভূমিধসের ভয়াবহ ঝুঁকি, প্রাকৃতিক জলাধার ধ্বংস, জীববৈচিত্র্যের বিলুপ্তি এবং মানুষের জীবনহানির আশঙ্কা।এই পরিস্থিতিতে এলাকাবাসী ও পরিবেশ সচেতন মহল জোরালোভাবে দাবি জানিয়েছেন—
▶ অবিলম্বে পাহাড় কাটা বন্ধ করতে হবে
▶ জড়িত দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা নিতে হবে
▶ পাহাড় কাটার অনুমতি প্রদানকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে
তারা সতর্ক করে বলেন, আজ যদি সবাই নীরব থাকে, তাহলে আগামী দিনে প্রকৃতির প্রতিশোধ থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে না।পাহাড় বাঁচাও, পরিবেশ বাঁচাও—এই আহ্বানেই এখন সোচ্চার লামা ফাইতং এলাকার মানুষ।