সোমবার, ১০ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৬শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

রাজধানী

আদালতের হাজতখানায় দুই আ.লীগ নেতার ‘বেয়াইখানা’

নোয়াখালী জেলা কারাগার থেকে বিভিন্ন মামলায় হাজিরা দিতে এসে নোয়াখালী চিফ জুডিসিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সংবেদনশীল স্থান হাজতখানার ভেতরে পরিবারসহ দুই শীর্ষ আওয়ামী লীগ নেতার ‘বেয়াইখানা’ (বর ও কনের বাবাকে আপ্যায়ন করানো) আয়োজন করা হয়েছে। এ ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

সোমবার (১৯ জানুয়ারি) দুপুরে নারী হাজতখানার ভেতরে দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশের সহযোগিতায় এ ঘটনা ঘটে।

জানা যায়, কোম্পানীগঞ্জ উপজেলা যুবলীগের সভাপতি ও সাবেক উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান আজম পাশা চৌধুরী রুমেল এবং হাতিয়া পৌর আওয়ামী লীগের সভাপতি ও বঙ্গবন্ধু আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদ দীর্ঘদিন ধরে হত্যা ও বিস্ফোরকসহ বিভিন্ন মামলার আসামি হিসেবে নোয়াখালী জেলা কারাগারে রয়েছেন।

সম্প্রতি কারাগারে দুই নেতার কথা-বার্তার পর কোম্পানীগঞ্জের যুবলীগ নেতা আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থির সঙ্গে হাতিয়া আওয়ামী লীগ নেতা অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবের বিয়ে দেওয়া হয়। গত ৩০ ডিসেম্বর পারিবারিকভাবে এ বিয়ে অনুষ্ঠিত হয়।

সোমবার দুই নেতাকে মামলায় হাজিরা দেওয়ার জন্য আদালতে নেওয়া হলে পুলিশের উপস্থিতিতে তাদের পরিবারের সদস্যরা হাজতখানার ভেতরে বেয়াইখানার আয়োজন করেন। এ সময় নারী আসামিদের জন্য সংরক্ষিত ওই হাজতে আজম পাশা রুমেলের স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি, মেয়ে ফালিহা আজম চৌধুরী অর্থি এবং অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবসহ আরও এক যুবক উপস্থিত ছিলেন।

হাজতখানার ঘটনার বিষয়ে জানতে আজম পাশা চৌধুরীর স্ত্রী খোদেজা আক্তার সুমি এবং অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের ছেলে ছাইম উদ্দিন সাকিবকে একাধিকবার ফোন করা হলেও তারা কল রিসিভ করেননি। পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও তারা কোনো উত্তর দেননি।

আদালত সূত্রে জানা যায়, আজম পাশা চৌধুরী রুমেলের নামে কোম্পানীগঞ্জে ইসলামী ছাত্রশিবিরের সাত কর্মীকে গুলি করে হত্যাসহ বিভিন্ন থানায় একাধিক মামলা চলমান রয়েছে।

অন্যদিকে অ্যাডভোকেট ছাইফ উদ্দিন আহমদের নামে হাতিয়া, চরজব্বর ও কবিরহাট থানায় বিস্ফোরকসহ মোট পাঁচটি মামলা রয়েছে।

মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) ঘটনাটির অনুসন্ধানে আদালতে গেলে নারী হাজতখানার ভেতরে সুরক্ষিত ওই কক্ষটি দেখা যায়। এ সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত পুলিশ সদস্যরা জানান, ওই কক্ষটি নারী আসামিদের পোশাক পরিবর্তন, খাওয়া, নামাজ আদায় এবং শিশুদের দুগ্ধপানের কাজে ব্যবহৃত হয়।

আদালতের নথি অনুযায়ী, ঘটনার দিন সোমবার (১৯ জানুয়ারি) পুলিশের সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) জাহেদুল ইসলামের নেতৃত্বে হাজতখানার দায়িত্বে ছিলেন সহকারী শহর উপ-পরিদর্শক (এটিএসআই) কবির আহম্মদ ভুঁইয়া, কনস্টেবল বিল্লাল হোসেন (নম্বর ৬৩৬), মো. হাসান (৩৪০) ও সাইফুল ইসলাম (২২০)।

এ বিষয়ে এটিএসআই জাহেদুল ইসলাম জানান, চিফ জুডিসিয়াল ও জজ আদালতের দুই হাজতখানার দায়িত্বপ্রাপ্তদের ডিউটি বণ্টন করে তিনি ওই সময় আদালতের অন্যান্য কাজে ব্যস্ত ছিলেন। এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটে থাকলে তিনি আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেন।

 

আদালতের পরিদর্শক (কোর্ট ইন্সপেক্টর) মো. সারওয়ার আলম জানান, ঘটনাটি জানার পর সংশ্লিষ্ট সবাইকে ডেকে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে। ভবিষ্যতে যাতে এ ধরনের কোনো অনিয়ম আদালতপাড়ায় না ঘটে, সে বিষয়ে কঠোরভাবে সতর্ক করা হয়েছে।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (প্রশাসন ও অর্থ) আবু তৈয়ব মো. আরিফ হোসেন জানান, আদালতের সুরক্ষিত স্থানে আসামি ছাড়া অন্য কারও প্রবেশের সুযোগ নেই। এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকলে তা গুরুতর অন্যায়। বিষয়টি তদন্ত করে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্যাটাগরি