চসিক ২৪ নম্বর ওয়ার্ড (উত্তর আগ্রাবাদ)নীরবে মাঠ গোছানোর তোড়জোড়
এস এম ফরিদুল আলম,নজরুল ইসলাম মিয়াজি,আবদুল মালেক,নজরুল ইসলাম।
চট্টগ্রাম নগরীর সিটি কর্পোরেশনের ২৪ নম্বর ওয়ার্ডটি একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডটি চট্টগ্রাম-১০ সংসদীয় এলাকার অন্তর্ভুক্ত। এ ওয়ার্ডটি সিএমপির ডবলমুরিং থানাধীন। উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের আয়তন ৪.৬৩ বর্গকিলোমিটার।
এ ওয়ার্ডের প্রশাসনিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ডবলমুরিং থানার আওতাধীন। উত্তর আগ্রাবাদ চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের আওতাধীন ২৪ নম্বর ওয়ার্ড। এ ওয়ার্ডের পূর্বাংশের প্রশাসনিক কার্যক্রম চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের ডবলমুরিং থানার এবং পশ্চিমাংশ হালিশহর থানার আওতাধীন।
উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডটি মিস্ত্রি পাড়া, পানওয়ালা পাড়া, হাজী পাড়া, মৌলভী পাড়া, ব্যাপারী পাড়া (আংশিক), দাইয়া পাড়া, মুহুরী পাড়া, গুলবাগ, শান্তিবাগ, আনন্দিপুর, মোল্লাপাড়া, রঙ্গীপাড়া, মুন্সী পাড়া, মনসুরাবাদ, আস্কারাবাদ, পি টি অ্যান্ড টি কলোনি এলাকা নিয়ে গঠিত।
উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডেও শিক্ষিত মানুষের সংখ্যা ৭৩.৫৪%। এ ওয়ার্ডে ৬টি মাধ্যমিক বিদ্যালয় ও ৬টি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে হাতে খড়ি স্কুল অ্যান্ড কলেজ, চট্টগ্রাম, হাউজিং অ্যান্ড সেটেলমেন্ট পাবলিক স্কুল, আল জাবের ইনস্টিটিউট, আলহাজ্ব এম এ সালাম উচ্চ বিদ্যালয়, খান সাহেব আবদুল হাকিম উচ্চ বিদ্যালয়, টি অ্যান্ড টি কলোনী উচ্চ বিদ্যালয়, শাহ আমানত সিটি মডেল স্কুল,সিলভার বেলস বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়, আগ্রাবাদ টি অ্যান্ড টি কলোনী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আনন্দিপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, আলহাজ্ব এম এ সালাম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, খান সাহেব আবদুল হাকিম সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, পোস্ট অফিস সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, রঙ্গীপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়।
(বজল আহমেদ,মঈন উদ্দিন রাশেদ,জয়নাল আবেদীন মানিক)
চসিক-২৪ ওয়ার্ড উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডের জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৮ হাজার ৫১৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ প্রায় ৫৬ হাজার ৬০৬ জন এবং মহিলা প্রায় ৫১ হাজার ৯০৭ জন। এলাকায় ২২ হাজার ৯১২টি পরিবার স্থায়ীভাবে বসবাস করেন।
চসিকের ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীরা আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে কেউ নীরবে, কেউ সরবভাবে মাঠ গোছানোর তোড়জোড় শুরু করে নিজেদের মতো করে আগাম প্রস্তুতি নিচ্ছেন। বিভিন্ন দলের সম্ভাব্য প্রার্থীরা দায়িত্ব নিতে আগ্রহী হয়ে মাঠে সক্রিয় হয়ে উঠেছেন। গত ঈদ, রমজান, বাংলা নববর্ষ, পূজা-পার্বণসহ বিভিন্ন বিয়ে-শাদি, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ক্রীড়া অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে তারা নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন।
ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে এলাকাবাসীকে রঙ-বেরঙের পোস্টারে শুভেচ্ছা জানিয়ে ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড টানিয়ে নির্বাচনে অংশগ্রহণের ঘোষণা দিয়েছেন। অনেকে আবার দলীয় নেতা-কর্মী ও সমর্থকদের বাসা-বাড়িতে গত রমজানে ইফতার ও সেহরির সামগ্রী এবং ঈদের উপহার বিতরণ করে ভোটারদের মন জয় করার চেষ্টা করছেন।
সরেজমিনে গিয়ে উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ডে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ ওয়ার্ড থেকে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থী হিসেবে সরেজমিনে গিয়ে বিভিন্ন আলোচনায় উঠে আসছে ২৪ নম্বর উত্তর আগ্রাবাদ বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এস এম ফরিদুল আলম, ডবলমুরিং থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক বজল আহমেদ, ডবলমুরিং থানা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মিয়াজী, চট্টগ্রাম মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক সহ-সভাপতি মাঈন উদ্দীন রাশেদ, জামায়াত ইসলাম সমর্থিত ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মালেক ও তরুণ শিল্পপতি আবু জাফর, জুলাই যোদ্ধা জয়নাল আবেদিন মানিক, নগর যুবদলের নেতা ইকবাল হোসেন, মোহাম্মদ লিটন, ওয়ার্ড বিএনপি নেতা মোহাম্মদ আলী, মহানগর যুবদল নেতা আবু সৈয়দ কালু, বিএনপি নেতা রেজাউল করিম মিন্টু, রাজিব চৌধুরীসহ অনেকে নাম আলোচনা উঠে আসছে।
এ ওয়ার্ডে দলীয়ভাবে সিনিয়র জুনিয়র অনেকে প্রার্থী হতে চান, তারা নিজ নিজ অবস্থান থেকে এলাকায় কাজ কর্ম শুরু করেছে। জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আব্দুল মালেকের মোবাইলে একাধিকবার ফোন করা হলেও মোবাইলে পাওয়া না যাওয়াতে বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
এ বিষয়ে চট্টগ্রাম মহানগর যুবদলের সাবেক সহ-সভাপতি মিয়া মোহাম্মদ হারুন বলেন, এলাকায় শুধু নির্বাচন করলে করব, প্রার্থী হবড়নিজে নিজে ঘোষণা দিলে হবে না; সামাজিক ও রাজনৈতিক, পারিবারিক গ্রহণযোগ্যতা থাকতে হবে।
এগুলো না থাকলে কেউ প্রার্থী হওয়ার কথা বলে নিজে নিজেই হালকা হয়ে যাওয়ার কথা। মূলত নির্বাচনের মাঠে মুখোমুখি হবে বিএনপি-জামায়াত মনোনীত প্রার্থীদের মধ্যে। সে ক্ষেত্রে বিএনপির অনেক যোগ্য প্রার্থী রয়েছে, বিএনপি প্রার্থীর বিজয়ী হওয়ার মতো সক্ষমতাও রয়েছে।
ডবলমুরিং থানা যুবদল নেতা আব্দুস শুক্কুর ইমন বলেন, আমাদের ওয়ার্ডে বিএনপির সকল পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে একটি দৃঢ়তার সম্পর্ক আছে। আমরা সবাই মিলে-মিশে দল এবং দলের প্রার্থীর জন্য কাজ করে গেছি, আগামীতেও দল এবং মূল মনোনীত প্রার্থীর জন্য কাজ করে যাব। নির্বাচনের কথা আসলে দলবিরোধী বা দলের ক্ষতি হয়ড়এমন কোনো কর্মকাণ্ডের সঙ্গে আপোষ করব না আমরা।
এ বিষয়ে ডবলমুরিং থানা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক বজল আহমেদ বলেন, প্রার্থী হিসেবে সামাজিক কর্মকাণ্ড করে যাচ্ছি। বিগত ১৭ বছর ধরে জেল-জুলুম, নির্যাতন সহ্য করে রাজনীতি করে আসছি। আমি দল থেকে মনোনয়ন পেলে নির্বাচন করব, দল থেকে মনোনয়ন না পেলে নির্বাচন করার প্রশ্নই আসে না। দলের সিদ্ধান্ত মেনে রাজনীতি করি, সব সময় দলের সিদ্ধান্ত মেনে চলব।
এ বিষয়ে ডবলমুরিং থানা শ্রমিক দলের সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মিয়াজী বলেন, আমি চট্টগ্রাম বিভাগীয় বিদ্যুৎ বিভাগের শ্রমিক সংগঠনের নেতা, পাশাপাশি চট্টগ্রাম শ্রমিক দলের রাজনীতির সঙ্গে বহু বছর ধরে জড়িত আছি। ২৪ নম্বর ওয়ার্ডটি আমার মতে একটি অবহেলিত, উন্নয়নবঞ্চিত এলাকা।
জলাবদ্ধতা, স্যানিটেশন সমস্যা, রাস্তাঘাটের সমস্যাসহ বহু সমস্যায় জর্জরিত এই এলাকা। নেতা অনেক, তবে মেয়র মহোদয়ের কাছে গিয়ে এলাকার জন্য কিছু কাজ নিয়ে আসার মতো কোনো মানুষ নেই। আমাকে যদি দলীয় মনোনয়ন দেওয়া হয়, আমি যারা প্রার্থী হবে সবাইকে নিয়ে বসে ঐক্যবন্ধ হয়ে কাজ করার চেষ্টা করব। দলীয় সিদ্ধান্ত সবাই মেনে নিতে বাধ্য। দলের সিদ্ধান্ত অমান্য করলে কেউ দলের পরিচয় দেওয়ার সুযোগ পাবে না বলে মনে করি।
এ বিষয়ে কাউন্সিলর প্রার্থী জুলাই যোদ্ধা জয়নাল আবেদিন মানিক বলেন, জুলাই আন্দোলনে আমি জীবনের ঝুঁকি নিয়ে রাজপথে ছিলাম। নিউ মার্কেট, ষোলশহরসহ গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে আমি লোকজন নিয়ে অবস্থান নিয়েছিলাম। আমার চোখের সামনে শহীদ ওয়াসিম মারা গেছে। নিউ মার্কেটে আমার চোখের সামনে আওয়ামী সন্ত্রাসীরা আমাদের ওপর গুলি বর্ষণ করেছিল।
জুলাই আন্দোলনে যারা নেতৃত্ব দিয়েছিল, তাদের মধ্যে অনেকে সংসদ পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আমি কাউন্সিলর প্রার্থীড়এটা আমার জন্য বড় কিছু বলে মনে করি না।
FacebookMastodonEmailShare