রবিবার, ৮ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৩শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য সংবাদ

ম্রোদের কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে চিম্বুকজুড়ে পার্বত্যমন্ত্রীর ঐতিহাসিক পরিচ্ছন্নতা অভিযান

সবুজ পাহাড়ের রূপ-লাবণ্য আর পরিবেশ বাঁচাতে চিম্বুকের আঁকাবাঁকা পথে নেমে এলো এক অভাবনীয় চিত্র। ঐতিহ্যবাহী পোশাকে শত শত ম্রো নারী-পুরুষ, সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে ঝাড়ু ও বেলচা হাতে পার্বত্যমন্ত্রী। চিম্বুক রেঞ্জের দীর্ঘ ২৭ কিলোমিটার সড়কজুড়ে চালানো হলো এক অভূতপূর্ব পরিচ্ছন্নতা মেগা-অভিযান।

শনিবার সকাল থেকেই বান্দরবান-থানচি সড়কের ১২ মাইল এলাকায় উৎসবে মাতোয়ারা পরিবেশ তৈরি হয়। জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস এবং দেশব্যাপী চলমান নিয়মিত পরিচ্ছন্নতা কর্মসূচির অংশ হিসেবে পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রী রাজপুত্র সাচিং প্রু জেরীর নেতৃত্বে এ উদ্যোগ নেওয়া হয়।

অভিযানে মন্ত্রী থেকে শুরু করে পাহাড়ের সাধারণ বাসিন্দা—সবাই মিলে সড়কের দুই পাশের ময়লা-আবর্জনা ও লতাপাতা অপসারণ করেন, উন্মুক্ত করেন পানি নিষ্কাশনের বন্ধ নর্দমা। পাহাড়ের বুক চিরে চলে যাওয়া দীর্ঘ রাস্তায় সহস্রাধিক ম্রো নারী-পুরুষের এই স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ স্থানীয়দের তো বটেই, আগত পর্যটকদেরও তাক লাগিয়ে দেয়।

কর্মসূচির উদ্বোধনকালে পার্বত্য মন্ত্রী সাচিং প্রু জেরী বলেন, “প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় প্রতি শনিবার সারা দেশে এ পরিচ্ছন্নতা অভিযান চলছে। তবে চিম্বুকের এ কর্মসূচি কেবল ময়লা সরানোর কাজ নয়; পাহাড়ের প্রাকৃতিক ভারসাম্য ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সচেতনতার বার্তা পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।”

তিনি আরও বলেন, “বান্দরবান দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র। পর্যটকরা যাতে এখানে এসে পরিচ্ছন্ন পরিবেশ পান, তা নিশ্চিত করতে হবে। তবে পাহাড়ের রূপ অক্ষুণ্ন রাখতে হলে সড়কের পাশে যত্রতত্র আবর্জনা ফেলা বন্ধ করতে হবে। পাহাড়ি জনগোষ্ঠী ও পর্যটক—সবার সম্মিলিত প্রয়াসেই তৈরি হবে পরিচ্ছন্ন বান্দরবান।”

স্থানীয়দের মতে, চিম্বুক সড়ক দিয়ে প্রতিদিন হাজারো দেশি-বিদেশি পর্যটক আসা- যাওয়া করেন। পর্যটন কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ বজায় রাখতে এ ধরনের সামাজিক উদ্যোগ বান্দরবানের পর্যটন শিল্পকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিয়ে যাবে।

অনুষ্ঠানে পার্বত্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, স্থানীয় প্রতিনিধি এবং পাহাড়ি সম্প্রদায়ের বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

ক্যাটাগরি