তেরখাদায় আল-ইহসান স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার নতুন অফিস উদ্বোধন ও কমিটির সভা
খুলনা জেলা প্রতিনিধিঃ
খুলনার তেরখাদা উপজেলার আটলিয়া গ্রামে অসহায়, হতদরিদ্র, প্রতিবন্ধী ও বিধবা মানুষের পাশে দাঁড়ানোর প্রত্যয়ে কাজ করে যাচ্ছে ‘আল-ইহসান স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা’। সংস্থাটির উদ্যোগে নতুন কমিটির সদস্যদের নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। একই সঙ্গে উদ্বোধন করা হয়েছে সংস্থাটির নতুন কার্যালয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) বিকেলে আটলিয়া গ্রামে আয়োজিত এ বৈঠকে সংস্থার কার্যক্রম, ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা এবং গত দেড় বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব নিয়ে আলোচনা করা হয়। এ সময় সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়, প্রতিষ্ঠার পর থেকে এ পর্যন্ত প্রায় এক লাখ টাকারও বেশি আর্থিক সহায়তা প্রদান করা হয়েছে। এতে ৪২ জন প্রতিবন্ধী, দুস্থ, অসহায় ও বিধবা নারীসহ বিভিন্ন অসহায় মানুষ উপকৃত হয়েছেন।
সংস্থাটির মূল লক্ষ্য হলো সমাজের অসহায় ও সুবিধাবঞ্চিত মানুষের পাশে দাঁড়ানো। বিশেষ করে হতদরিদ্র পরিবারের প্রতিবন্ধী ও পঙ্গু ব্যক্তি, অসহায় নারী, বিধবা নারী এবং আর্থিক সংকটের কারণে বিয়ে দিতে না পারা মেয়েদের সহযোগিতা করা।
সভায় বক্তারা বলেন, মানবসেবাকে ইবাদত হিসেবে গ্রহণ করে সম্পূর্ণ স্বেচ্ছাসেবী ও কল্যাণমূলক উদ্দেশ্যে কাজ করছে আল-ইহসান স্বেচ্ছাসেবী সংস্থা। এ কার্যক্রমকে আরও বিস্তৃত করতে সমাজের বিত্তবান, দানশীল ও মানবিক ব্যক্তিদের এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তাঁরা।
এ সময় সংস্থার সঙ্গে যুক্ত হয়ে মানবসেবামূলক কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে আগ্রহীদের সদস্য হওয়ার আহ্বান জানানো হয়। পাশাপাশি অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়াতে আগ্রহী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানকে অনুদান প্রদানের জন্য সংস্থার সঙ্গে যোগাযোগের অনুরোধ করা হয়। অনুদান সরাসরি জমা রসিদের মাধ্যমে অথবা ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, বিকাশ ও নগদের মাধ্যমে প্রদান করা যাবে বলে জানানো হয়।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন সংস্থার সভাপতি সিকদার শহিদুল ইসলাম, মুন্সি ফরিদ আহমাদ, সাবেক চেয়ারম্যান শেখ কাবির আহমাদ, সমাজসেবক সিকদার মিজানুর রহমান, সংস্থার পরিচালক ও উলামা বোর্ডের সদস্য মাওলানা হুমায়ুন কবীর, উলামা পরিষদের সদস্য মাওলানা উচমান গনি, সাবেক মেম্বার ডা. পারভেজ (মিল্টন), উলামা পরিষদের সদস্য মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান এবং সংস্থার হিসাবরক্ষক এস এম মুহাম্মাদ আলীসহ কমিটির অন্যান্য সদস্যরা।
অনুষ্ঠানটি পরিচালনা করেন মাওলানা সাজ্জাদ হোসাইন।
*আল-ইহসান স্বেচ্ছাসেবী সংস্থার পক্ষ থেকে জানানো হয়,* আটলিয়া গ্রামের পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী গ্রামের আগ্রহী ব্যক্তিরাও সংস্থার সদস্য হতে পারবেন এবং সংস্থার নীতিমালা অনুযায়ী অসহায় মানুষের সহায়তা কার্যক্রমের আওতায় আসতে পারবেন।
মানবতার সেবায় সবাইকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানিয়ে সংস্থার পক্ষ থেকে বলা হয়, সম্মিলিত প্রচেষ্টায় অসহায় মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই তাদের মূল অঙ্গীকার।