কাপ্তাই হ্রদে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার সাঁতার প্রতিযোগিতা
মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি :
পাহাড়ঘেরা কাপ্তাই হ্রদের নীল জলরাশিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে সাড়ে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ সুবলং চ্যানেল সাঁতার প্রতিযোগিতা সিজন-২। সাঁতারে নতুন প্রতিভা অন্বেষণ, তরুণ প্রজন্মকে উৎসাহিত করা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে পানিতে সাঁতার কাটার ভীতি দূর করার লক্ষ্যে রাঙামাটি জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে এ ব্যতিক্রমী প্রতিযোগিতার আয়োজন করা হয়।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকালে রাঙামাটি শহরের শহীদ মিনার ঘাট থেকে প্রতিযোগীদের নিয়ে ইঞ্জিনচালিত বোট সুবলং বাজারের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে। সেখানে প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি ও গা গরম শেষে কাপ্তাই হ্রদের পানিতে ঝাঁপিয়ে পড়েন সাঁতারুরা। শুরু হয় সুবলং বাজার থেকে শহীদ মিনার ঘাট পর্যন্ত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার দীর্ঘ পথ পাড়ি দেওয়ার প্রতিযোগিতা।
এবারের প্রতিযোগিতায় দুই নারীসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা মোট ৩২ জন সাঁতারু অংশ নেন। দুই পাশে সুউচ্চ পাহাড়, বিস্তীর্ণ নীল জলরাশি আর প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের মাঝে প্রতিকূলতা উপেক্ষা করে গন্তব্যের দিকে এগিয়ে যান প্রতিযোগীরা। দীর্ঘ এই পথ সাঁতরে পাড়ি দেওয়ার দৃশ্য স্থানীয় বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটকদের মধ্যেও ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করে।
প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া সাঁতারুরা জানান, কাপ্তাই হ্রদের মতো মনোরম প্রাকৃতিক পরিবেশে দীর্ঘ দূরত্বের সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে পেরে তারা আনন্দিত। এ ধরনের আয়োজন নিয়মিত করা হলে সাঁতারের প্রতি মানুষের আগ্রহ বাড়ার পাশাপাশি নতুন নতুন প্রতিভাবান সাঁতারু উঠে আসবে।
আয়োজক সূত্রে জানা গেছে, প্রতিযোগিতায় অংশ নিতে মোট ৪০ জন সাঁতারু নিবন্ধন করেছিলেন। তবে শেষ পর্যন্ত ৩২ জন প্রতিযোগিতায় অংশ নেন। তাদের মধ্যে দুজন ছাড়া বাকি সবাই নির্ধারিত সাড়ে ১৩ কিলোমিটার পথ সফলভাবে পাড়ি দিতে সক্ষম হন।
প্রতিযোগিতা শেষে দুপুরে রাঙামাটি শহরের শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে বিজয়ীদের মধ্যে পুরস্কার বিতরণ করা হয়। এ সময় জেলা প্রশাসক নাজমা আশরাফী বলেন, সাধারণ মানুষের মধ্যে সাঁতার নিয়ে ভীতি দূর করা এবং দেশের বিভিন্ন প্রান্তে ছড়িয়ে থাকা প্রতিভাবান সাঁতারুদের খুঁজে বের করতেই জেলা প্রশাসনের এ উদ্যোগ।
প্রতিযোগিতায় প্রথম স্থান অধিকার করেন রাব্বি, দ্বিতীয় হন মেহেদী এবং তৃতীয় স্থান অর্জন করেন নয়ন। কাপ্তাই হ্রদের বুকে এমন ব্যতিক্রমী আয়োজন রাঙামাটির পর্যটন আকর্ষণেও নতুন মাত্রা যোগ করেছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।