সাজেকে অবরোধের সাত দিন, বন্ধ জীবিকা ,খাদ্য ও ওষুধ সংকটের শঙ্কা
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার সাজেকে সড়ক অবরোধের সাত দিন পার হয়েছে। দীর্ঘ অচলাবস্থায় বন্ধ হয়ে পড়েছে পর্যটনকেন্দ্রিক আয়-রোজগার। অন্যদিকে, কমতে শুরু করেছে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত। খাদ্য ও জরুরি ওষুধের সরবরাহ নিয়ে বাড়ছে উদ্বেগ। যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক না হওয়ায় চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
একসময় পর্যটকদের পদচারণায় মুখর থাকা সাজেক এখন অনেকটাই নীরব। রিসোর্ট-কটেজে নেই অতিথিদের আনাগোনা, রেস্তোরাঁগুলোতে নেই আগের ব্যস্ততা। পর্যটননির্ভর এই জনপদে ব্যবসা-বাণিজ্য স্থবির হয়ে পড়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, শ্রমিক ও পর্যটনসংশ্লিষ্ট পেশার মানুষ।
পর্যটকদের ঘিরেই যাঁদের সংসার চলত, তাঁদের অনেকেরই এখন আয় বন্ধ। রেস্তোরাঁ ব্যবসায়ী আব্দুর রাজ্জাক জানান, তাঁর প্রতিষ্ঠানে আটজন কর্মচারী কাজ করেন। অবরোধের কারণে তাঁদের কাজ বন্ধ হয়ে গেছে। আয়-রোজগার বন্ধ থাকায় কর্মচারীদের পাশাপাশি ব্যবসায়িক কার্যক্রম চালিয়ে নেওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে।
যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকায় নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের সরবরাহেও দেখা দিয়েছে সংকট। স্থানীয় মুদি দোকানি জনসিম চাকমা জানান, তাঁর দোকানে চাল ও চিনি শেষ হয়ে গেছে। আশপাশের দোকানগুলোতেও ডাল, সয়াবিন তেলসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় পণ্যের মজুত কমে আসছে। গত ২১ অক্টোবরের পর থেকে পণ্যবাহী গাড়ি না আসায় পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে উঠেছে।
খাদ্যপণ্যের পাশাপাশি জরুরি ওষুধ ও চিকিৎসাসেবা নিয়েও বাড়ছে উদ্বেগ। অবরোধ দীর্ঘায়িত হলে গুরুতর অসুস্থ রোগী, শিশু ও প্রসূতি নারীদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া কঠিন হয়ে পড়তে পারে। জরুরি চিকিৎসাসেবা ও প্রয়োজনীয় ওষুধের সরবরাহ ব্যাহত হলে পরিস্থিতি আরও সংকটপূর্ণ হয়ে ওঠার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
এদিকে, সংকট নিরসনে গত ২৬ অক্টোবর উজো বাজারে প্রশাসনের প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও অবরোধকারীদের মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে পাঁচ দফা দাবির চারটি বিষয়ে সমঝোতার কথা জানানো হলেও একটি দাবি নিয়ে চূড়ান্ত সমাধান না আসায় অব্যাহত রয়েছে সড়ক অবরোধ। ফলে কবে নাগাদ যোগাযোগব্যবস্থা স্বাভাবিক হবে, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা কাটেনি।
দীর্ঘ এই অচলাবস্থায় স্থানীয়দের দুর্ভোগ কমাতে জরুরি ভিত্তিতে খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ নিশ্চিত করা, অসুস্থ রোগীদের নিরাপদে পরিবহনের ব্যবস্থা করা এবং আয়-রোজগার বন্ধ হয়ে যাওয়া পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়ানো জরুরি হয়ে পড়েছে।