আলীকদমে ভোটার তালিকায় রোহিঙ্গাদের নাম অন্তর্ভুক্তির অভিযোগ, তদন্তে প্রশাসন
হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ২ নম্বর চৈক্ষ্যং ইউনিয়নের কয়েকটিতে ওয়ার্ডে রোহিঙ্গা নাগরিকদের ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করার গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। ২০১৫ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রমে সংশ্লিষ্টদের যোগসাজশ ও মোটা অঙ্কের আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে ১৫ জনেরও বেশি রোহিঙ্গা ভোটার তালিকায় নাম তুলিয়েছেন বলে দাবি করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিকরা। ঘটনাটি খতিয়ে দেখতে উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তাকে প্রধান করে তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করছে উপজেলা প্রশাসন।
অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, ভুয়া জন্মনিবন্ধন ও জাতীয়তা সনদ তৈরি করে এসব রোহিঙ্গাকে ভোটার করা হয়েছে। অভিযুক্তদের কেউ কেউ এর আগে একাধিকবার ভোটার হওয়ার চেষ্টা করে ব্যর্থ হলেও এবারের হালনাগাদে তারা সফল হন। আবেদনপত্র ও জন্মনিবন্ধনের নথি অনলাইনে যাচাই করা হলে বাবা-মায়ের পরিচয় এবং ঠিকানাসংক্রান্ত বড় ধরনের অসংগতি বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন স্থানীয়রা। লিখিত আবেদনের সঙ্গে সন্দেহভাজন ১৫ জনের একটি তালিকা এবং দুজনের অনলাইন জন্মনিবন্ধনের অনুলিপি যুক্ত করে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কাছে পেশ করা হয়েছে।
এদিকে প্রভাবশালী অসাধু চক্রের জড়িত থাকার আশঙ্কায় নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগে রয়েছেন অভিযোগকারীরা। তথ্য প্রকাশ পেলে হামলা বা হয়রানির শিকার হতে পারেন এমন শঙ্কা থেকে সর্বোচ্চ গোপনীয়তা রক্ষা করে তদন্ত পরিচালনার আবেদন জানিয়েছেন তারা। আবেদনের অনুলিপি বান্দরবান জেলা প্রশাসক, জেলা নির্বাচন অফিস, চট্টগ্রাম আঞ্চলিক নির্বাচন কার্যালয় এবং নির্বাচন কমিশন সচিবালয়েও পাঠানো হয়েছে।
রোহিঙ্গা শনাক্তকরণের বিষয়ে ২ নম্বর চৈক্ষ্যং ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদীন জানান, ওয়ার্ড মেম্বারদের শনাক্তকরণের ওপর ভিত্তি করেই জাতীয়তা সনদ ও জন্মনিবন্ধন দেওয়া হয়েছে। তবে অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে এবং সত্যতা প্রমাণিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। অন্যদিকে উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা নাহিদ শাহরিয়ার জানান, প্রাথমিক পর্যায়ে ভোটার হতে আসা ব্যক্তি রোহিঙ্গা কি না তা শনাক্তের মূল দায়িত্ব সংশ্লিষ্ট ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের। কারো বিরুদ্ধে জালিয়াতির প্রমাণ মিললে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ব্লক করে দেওয়া হবে এবং অভিযুক্ত জনপ্রতিনিধিদের বিরুদ্ধে স্থানীয় সরকার বিভাগ ব্যবস্থা নেবে।
অভিযোগটি পাওয়ার কথা নিশ্চিত করে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা জানান, ইতিপূর্বেও রোহিঙ্গাদের ভোটার বানানোর ঘটনায় সত্যতা পাওয়া গিয়েছিল। কিন্তু নির্বাচন অফিস আসামিদের বিরুদ্ধে কঠোর মামলা না করে ছোটখাটো শাস্তি দেওয়ার কারণে এই অপতৎপরতা থামছে না। এবার তদন্তে অনিয়মের প্রমাণ মিললে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।