প্রশ্নের সুযোগ নেই, ছবি-ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা: রেঞ্জ ডিআইজির মতবিনিময় সভা বর্জন করলেন খুলনার সাংবাদিকরা
ফাহিম ইসলাম,খুলনা প্রতিনিধি:
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হলেও সেখানে প্রশ্ন করার সুযোগ না দেওয়া এবং ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খুলনা রেঞ্জের নবনিযুক্ত ডিআইজি মো. রেজাউল করিমের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়ে সভা বর্জন করেছেন খুলনায় কর্মরত বিভিন্ন স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমের সাংবাদিকরা।
রোববার (১১ অক্টোবর ২০২৬) বিকেল আনুমানিক ৩টার দিকে খুলনা রেঞ্জ ডিআইজি কার্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গত ১৮ সেপ্টেম্বর খুলনা রেঞ্জের ডিআইজি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন মো. রেজাউল করিম। দায়িত্ব নেওয়ার পর খুলনায় কর্মরত সাংবাদিকদের সঙ্গে সৌজন্য পরিচিতি ও মতবিনিময়ের উদ্দেশ্যে রোববার বিকেলে এ সভার আয়োজন করা হয়।
তবে সভায় উপস্থিত সাংবাদিকদের অভিযোগ, মতবিনিময়ের কথা বলা হলেও বাস্তবে তাদের বক্তব্য ও প্রশ্ন উপস্থাপনের পর্যাপ্ত সুযোগ দেওয়া হয়নি। সভায় ছবি তোলা ও ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। খুলনার অপরাধ পরিস্থিতি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অনিয়ম-দুর্নীতির অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন বা বক্তব্য উপস্থাপনের চেষ্টা করলে বাধার মুখে পড়তে হয় বলেও অভিযোগ করেন তারা।
সাংবাদিকদের দাবি, বিভিন্ন জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে প্রশ্ন উত্থাপনের চেষ্টা করা হলে তাদের থামিয়ে দেওয়া হয়। এতে উপস্থিত সাংবাদিকদের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়। একপর্যায়ে প্রতিবাদ জানিয়ে খুলনা প্রেসক্লাবের নেতৃবৃন্দসহ বিভিন্ন গণমাধ্যমের প্রতিনিধিরা সভা বর্জন করে কক্ষ ত্যাগ করেন।
সভা বর্জনকালে একুশে টেলিভিশনের খুলনা ব্যুরোপ্রধান আশরাফুল ইসলাম নুর ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা কোনো ব্যক্তিগত স্বার্থ বা সৌজন্যের জন্য এখানে আসিনি। খুলনাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা ও জনস্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে পুলিশের বক্তব্য জানার অধিকার জনগণের রয়েছে। যদি প্রশ্ন করার সুযোগই না থাকে, তবে এটিকে মতবিনিময় বলা হাস্যকর।”
ঘটনার নিন্দা জানিয়ে খুলনা প্রেসক্লাবের সভাপতি মোস্তফা সারোয়ার বলেন, “সাংবাদিকদের ডেকে এনে প্রশ্ন করতে না দেওয়া এবং ক্যামেরা বা ভিডিও ধারণে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া নজিরবিহীন। সাংবাদিকরা কোন সভায় কী কথা বলবেন বা কীভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, তা কেউ নির্ধারণ করে দিতে পারে না। সরকারি কোনো কর্মকর্তার গণমাধ্যমের মুখোমুখি হতে এমন ভয় বা বিধিনিষেধ অগ্রহণযোগ্য। তাই সম্মান রক্ষার্থেই আমিসহ সবাই সভাটি বর্জন করেছি।”
এদিকে, সভা বর্জনের ঘটনার পর রেঞ্জ ডিআইজি মো. রেজাউল করিমের বক্তব্য জানতে তাঁর সরকারি মোবাইল নম্বরে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁকে পাওয়া যায়নি বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনাকে কেন্দ্র করে খুলনার সাংবাদিক মহলে অসন্তোষ সৃষ্টি হয়েছে। সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রশ্ন করার সুযোগ এবং সংবাদ সংগ্রহের স্বাধীনতা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে।