মঙ্গলবার, ৬ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২১শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম

বাঁশখালীতে মীমাংসিত বিরোধ নিয়ে ৬ জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা ভুক্তভোগীদের উদ্বেগ, সুষ্ঠু তদন্তের (দাবি)

মোঃ আবু বক্কর সিদ্দিক:স্টাফ (রিপোর্টার)

চট্টগ্রামের বাঁশখালীতে দীর্ঘদিনের জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিরোধ স্থানীয়ভাবে লিখিত শর্তে আপোষ-মীমাংসার পরও একই ঘটনাকে কেন্দ্র করে ছয়জনের বিরুদ্ধে আদালতে মামলা দায়েরের নুর জাহান বেগম এর বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে। মামলায় জড়ানো ব্যক্তিদের দাবি, পূর্বের বিরোধ মীমাংসিত হওয়ার পরও তাদের উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলায় আসামি করে হয়রানি করা হচ্ছে। এ ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের পাশাপাশি ভুক্তভোগীদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, বাঁশখালী উপজেলার ৬ নং ইউপি বাগমারা ৩ নং ওয়ার্ডের বাসিন্দা নুর জাহান বেগম এর। সাথে জায়গা-জমি সংক্রান্ত বিষয় নিয়ে আব্দুর রহিম, মহিম উদ্দিন ও পাখি আক্তার পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলে আসছিল।

পরবর্তীতে স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি ও জনপ্রতিনিধিদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়েএকটি সালিশী বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে উভয় পক্ষের সম্মতিতে লিখিত শর্তের মাধ্যমে বিরোধটি আপোষ-মীমাংসা করা হয় বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।

তবে স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির পরও বাঁশখালী উপজেলায় অবস্থিত বিজ্ঞ সিনিয়র জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে নুর জাহান বেগম বাদী হয়ে ছয়জনকে আসামি করে মামলা দায়ের করেছেন বলে জানা গেছে। মামলায় অভিযুক্তদের অভিযোগ, মীমাংসিত বিষয়কে কেন্দ্র করে তাদের মামলায় জড়ানো হয়েছে এবং এতে তারা সামাজিক ও মানসিকভাবে হয়রানির শিকার হচ্ছেন।

মামলার বাদী নুর জাহান বেগমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি জায়গা-জমি নিয়ে আব্দুর রহিম, মহিম উদ্দিন ও পাখি আক্তারের সঙ্গে বিরোধের কথা জানান। স্থানীয়ভাবে আপোষ-মীমাংসার বিষয়টিও তিনি স্বীকার করেছেন) স্থানীয় বিশ্বস্ত সূত্রগুলো জানিয়েছেন। মামলায় ওই বিরোধের সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ততার অভিযোগ নেই—এমন আরও তিনজনকে কেন আসামি করা হয়েছে, সে বিষয়ে তার বক্তব্য নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

অন্যদিকে মামলায় অভিযুক্ত ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করেন, স্থানীয় মেম্বার আবু তালেবের ইন্ধন ও মদদে তাদের বিরুদ্ধে মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। তাদের দাবি, পূর্বের বিরোধ স্থানীয়ভাবে নিষ্পত্তি হওয়ার পরও একটি পক্ষের প্ররোচনায় তাদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে। তারা মামলাটির নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।

ভুক্তভোগীদের আরও অভিযোগ, মীমাংসার লিখিত শর্ত ও স্থানীয়ভাবে বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয়টি বিবেচনায় না নিয়ে তাদের মামলায় জড়ানো হলে তারা অযথা আইনি হয়রানির শিকার হবেন। তাই আদালত ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে দাবি মামলার প্রকৃত ঘটনা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন তারা।

এ বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য, কোনো ঘটনা স্থানীয়ভাবে মীমাংসিত হলেও পরবর্তীতে আদালতে মামলা দায়েরের ক্ষেত্রে মামলার নথিতে উল্লেখিত অভিযোগ ও প্রমাণের ভিত্তিতেই বিষয়টি বিবেচিত হওয়া প্রয়োজন। একই সঙ্গে নিরপরাধ কেউ যাতে হয়রানির শিকার না হন, সে বিষয়েও যথাযথ তদন্ত জরুরি।

স্থানীয়দের প্রত্যাশা, মামলাটির বিষয়ে নিরপেক্ষ তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটিত হবে এবং দোষী ব্যক্তি ও নিরপরাধ ব্যক্তিদের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

ক্যাটাগরি