শনিবার, ১২ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

দুর্গম পাহাড়ে সেনা জোনের উপহার: আলীকদমের পোয়ামুহুরীতে মিটল বিশুদ্ধ পানির দীর্ঘদিনের হাহাকার

হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান:
পাহাড়ের বুক চিরে অবশেষে মেটাল সুপেয় পানির দীর্ঘদিনের আকাল। বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার ৪ নম্বর কুরুকপাতা ইউনিয়নের সবচেয়ে প্রান্তিক ও দুর্গম জনপদ ‘পোয়ামুহুরী’। যুগের পর যুগ বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকটে ভোগা এ পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের মুখে এখন স্বস্তি ও আনন্দের হাসি। স্থানীয়দের কষ্ট লাঘবে সেখানে এক যুগান্তকারী সুপেয় পানির প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী।

আলীকদম সেনা জোনের সৌজন্যে নির্মিত এই প্রজেক্টের ফলক উন্মোচন করে আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করেন আলীকদম জোন কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কর্নেল ফরহাদুর রহমান।

উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে জোন কমান্ডার বলেন, “পার্বত্য অঞ্চলে শান্তি, সংহতি ও নিরাপত্তা বজায় রাখার পাশাপাশি পাহাড়ের মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সবসময় কাজ করে যাচ্ছে। দুর্গম পাহাড়ি এলাকার বাসিন্দাদের সুপেয় পানি ও চিকিৎসাসহ মৌলিক চাহিদাগুলো পূরণ করা আমাদের মানবিক দায়িত্বেরই একটি অংশ। পোয়ামুহুরী গ্রামে সুপেয় পানির এ ব্যবস্থা প্রবর্তনের মাধ্যমে এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের কষ্ট ও দুর্ভোগ চিরতরে দূর হবে বলে আমাদের বিশ্বাস। পাহাড়ি জনপদের যেকোনো প্রয়োজনে সেনাবাহিনী অতীতেও পাশে ছিল, ভবিষ্যতেও পাশে থাকবে।”

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আলীকদম উপজেলার সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান আবুল কালাম এবং ৪ নম্বর কুরুকপাতা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান। এ ছাড়াও অনুষ্ঠানে সেনাবাহিনীর বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা, স্থানীয় কারবারি, জনপ্রতিনিধি ও পোয়ামুহুরী এলাকার বিপুলসংখ্যক অধিবাসী উপস্থিত ছিলেন।

উল্লেখ্য, কুরুকপাতা ইউনিয়নের পোয়ামুহুরী অত্যন্ত দুর্গম একটি পার্বত্য অঞ্চল। সেখানে সুপেয় পানির কোনো স্থায়ী উৎসের ব্যবস্থা না থাকায় বহু বছর ধরে স্থানীয়দের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল। বিশেষ করে শুষ্ক মৌসুম এলেই এক কলস নিরাপদ পানির জন্য মাইলের পর মাইল পাহাড়ি পথ পেরিয়ে ঝিরি বা ছড়ায় যেতে হতো পাহাড়িদের। এতে প্রতিনিয়ত স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ার পাশাপাশি দৈনন্দিন জীবনযাত্রা স্থবির হয়ে পড়ত। সেনাবাহিনীর তাৎপর্যপূর্ণ এই উদ্যোগে এখন এলাকার প্রতিটি পরিবারের কাছে সহজে পৌঁছে যাচ্ছে নিরাপদ পানি।

প্রকল্পটি চালু হওয়ায় সেনা জোনের প্রতি গভীর কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। পাহাড়ের কোল ঘেঁষে বসবাসকারী মানুষের মৌলিক সেবা নিশ্চিত করতে এ ধরনের মহতী উদ্যোগকে তাঁরা সাধুবাদ জানান এবং ভবিষ্যতে পাহাড়ি এলাকার সার্বিক উন্নয়নে সেনাবাহিনীর এ রকম সহযোগিতামূলক পদক্ষেপ অব্যাহত থাকবে বলে আশা প্রকাশ করেন।

ক্যাটাগরি