জামিয়া মোজাহেরুল উলুমে সিরাত প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত
সালাহ উদ্দিন কাদের.চট্টগ্রাম+
আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আল আরাবিয়া মুজাহেরুল উলুমের আত-তাবশীর ভাষা ও সাহিত্যচর্চা বিভাগ-এর উদ্যোগে মহানবী হযরত মুহাম্মদ ﷺ-এর জীবন, আদর্শ ও সুন্নাহর প্রতি শিক্ষার্থীদের ভালোবাসা ও সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সিরাত প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
গতকাল বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬) জামিয়ার মিলনায়তনে এ প্রতিযোগিতা ও আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। এতে জামিয়ার বিপুলসংখ্যক শিক্ষার্থী অংশগ্রহণ করেন। প্রতিযোগিতায় সিরাতবিষয়ক বিভিন্ন বিষয়ের ওপর শিক্ষার্থীরা নিজেদের মেধা, জ্ঞান ও প্রতিভার পরিচয় তুলে ধরেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন আল্লামা কাজী লোকমান হাকিম সাহেব, শাইখুল হাদিস ও মহাপরিচালক, আল জামিয়াতুল ইসলামিয়া আল আরাবিয়া মুজাহেরুল উলুম।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন, আল্লামা ওবায়দুল্লাহ হামজা সাহেব, মহাসচিব, আঞ্জুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ; শাইখুল হাদিস ও প্রতিষ্ঠাতা পরিচালক, জামিয়াতুন নূর আলামিয়া বাংলাদেশ।
প্রধান আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আল্লামা ড. নুরুল আবসার আজহারী সাহেব, মুহাদ্দিস, জামিয়া আহালিয়া দারুল উলুম হাটহাজারী এবং বিশেষ আলোচক হিসেবে উপস্থিত ছিলেন,মাওলানা আফিফ ফোরকান আল মাদানী সাহেব, মুহাদ্দিস, জামিয়া দারুল মারিফ আল ইসলামিয়া।
আলোচকগণ মহানবী ﷺ-এর অনুপম জীবনাদর্শ, তাঁর চারিত্রিক সৌন্দর্য, মানবতার প্রতি তাঁর দয়া ও কল্যাণচিন্তা এবং ব্যক্তি, সমাজ ও রাষ্ট্রজীবনে সুন্নাহর অনুসরণের গুরুত্ব নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা করেন। তাঁরা বলেন, রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর সিরাত কেবল ইতিহাসের একটি অধ্যায় নয়; বরং একজন মুমিনের ব্যক্তিজীবন, পারিবারিক জীবন ও সামাজিক জীবনের জন্য সর্বোত্তম আদর্শ।
বক্তারা শিক্ষার্থীদেরকে রাসুলুল্লাহ ﷺ-এর জীবন ও আদর্শ গভীরভাবে অধ্যয়ন করার পাশাপাশি তাঁর সুন্নাহ নিজেদের জীবনে বাস্তবায়নের আহ্বান জানান। বিশেষ করে তরুণ প্রজন্মকে নৈতিকতা, জ্ঞানচর্চা, আমল ও উত্তম চরিত্র গঠনে মনোযোগী হওয়ার পরামর্শ দেন।
অনুষ্ঠানে আত-তাবশীর ভাষা ও সাহিত্যচর্চা বিভাগের শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও জামিয়ার বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। আলোচনা সভা শেষে সিরাত প্রতিযোগিতায় বিজয়ী শিক্ষার্থীদের মাঝে পুরস্কার ও সম্মাননা প্রদান করা হয়।
আয়োজকরা জানান, শিক্ষার্থীদের মধ্যে নবীজি ﷺ-এর সিরাত ও সুন্নাহর চর্চা বিস্তৃত করা এবং তাঁদের জ্ঞান ও সাহিত্যিক প্রতিভা বিকাশের লক্ষ্যে আত-তাবশীর ভাষা ও সাহিত্যচর্চা বিভাগ নিয়মিতভাবে এ ধরনের শিক্ষামূলক ও সাংস্কৃতিক কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে।