আলীকদমে আরণ্যক ফাউন্ডেশনের প্রকল্প পরিচিতি কর্মশালা অনুষ্টিত
হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান জেলা প্রতিনিধি:
বাংলাদেশ ও ভারতের পার্বত্য সীমান্ত অঞ্চলে বিড়ালজাতীয় (Big Cats) বন্যপ্রাণী এবং তাদের প্রাকৃতিক আবাসস্থল সংরক্ষণের লক্ষ্যে বান্দরবানের আলী কদমে এক প্রকল্প পরিচিতি কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
আজ ২ সেপ্টেম্বর (বুধবার) আলী কদম উপজেলা পরিষদ সভা কক্ষে “বিয়ন্ড বর্ডার: সিকিউরিং বিগ ক্যাটস অ্যান্ড দেয়ার হ্যাবিটেটস অ্যাক্রস দ্য চট্টগ্রাম-লুসাই ট্রান্সবাউন্ডারি ল্যান্ডস্কেপ অব বাংলাদেশ অ্যান্ড ইন্ডিয়া” শীর্ষক প্রকল্পের আওতায় এই প্রারম্ভিক কর্মশালার আয়োজন করা হয়।
আরণ্যক ফাউন্ডেশন ও স্থানীয় উন্নয়ন সংস্থা ‘তাজিংডং’-এর যৌথ আয়োজনে পরিচালিত এ প্রকল্পে কারিগরি ও আর্থিক সহযোগিতা দিচ্ছে আন্তর্জাতিক প্রকৃতি সংরক্ষণ সংস্থা (IUCN), জার্মান উন্নয়ন ব্যাংক (KfW) এবং জার্মানি সরকারের (German Cooperation) উন্নয়ন সংস্থা।
সকাল ১০:০০ টায় আরণ্যক ফাউন্ডেশনের সিনিয়র প্রোগ্রাম অ্যাসোসিয়েট জাওয়াদ বিন মোস্তফার সঞ্চালনায় নিবন্ধন ও পরিচিতি পর্বের মাধ্যমে কর্মশালার কার্যক্রম শুরু হয়।
কর্মশালার উদ্বোধনী বক্তব্য ও প্রকল্পের মূল উদ্দেশ্য উপস্থাপন করেন আরণ্যক ফাউন্ডেশনের প্রকল্প ব্যবস্থাপক মোহাম্মদ শামসুদ্দোহা। পরবর্তীতে সহযোগী সংস্থা তাজিংডং-এর প্রতিনিধি এবং স্থানীয় যুব সংরক্ষণ স্বেচ্ছাসেবীদের পক্ষে পারিং প্রো বক্তব্য রাখেন।
কর্মশালায় বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী ও স্থানীয় পর্যায়ের প্রতিনিধিগণ প্রকল্প বাস্তবায়নে নিজ নিজ মতামত ও অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।
বন বিভাগ ও প্রতিরক্ষা বাহিনী: বন বিভাগের প্রতিনিধি হিসেবে রেঞ্জ কর্মকর্তা মোঃ আবুল কাশেম ও মোঃ শাহজাহান চৌধুরী এবং জাতীয় প্রতিরক্ষা/সুরক্ষা বাহিনীর প্রতিনিধিগণ বক্তব্য প্রদান করেন।
সরকারি দপ্তরসমূহ: উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মোঃ সোহেল রানা, উপজেলা ভেটেরিনারি সার্জন মিঠুন কুমার ঘোষ এবং উপজেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আশিষ কুমার ধর নিজ নিজ দপ্তরের সহায়তার বিষয়ে আলোচনা করেন।
স্স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ও মেম্বারবৃন্দ, স্থানীয় হেডম্যান ও কার্বারীগণ এবং অন্যান্য বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থার প্রতিনিধিরা স্থানীয় বাস্তবতার নিরিখে মতামত দেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন আলী কদম উপজেলা নির্বাহী অফিসার মনজুর আলম। এছাড়া আরণ্যক ফাউন্ডেশনের কারিগরি কর্মকর্তা আবুল ফরাহ্ মুহাম্মদ ছালেহু-এর সঞ্চালনায় এক উন্মুক্ত আলোচনা পর্ব অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানের সভাপতি আরণ্যক ফাউন্ডেশনের প্রোগ্রাম পলিসি এডভাইজার ও অ্যাকটিভিটি কোঅর্ডিনেটর ডঃ মোঃ মইনুল আহসান সমাপনী বক্তব্যের মাধ্যমে কর্মশালার ইতি টানেন। পুরো কর্মসূচিটি সার্বিক সমন্বয়ে ছিলেন প্রকল্পের কর্মকর্তা ক্যাপ্রুইচিং তালুকদার।
বন্যপ্রাণী ও পরিবেশ পর্যবেক্ষণ: আন্তঃসীমান্ত বনঞ্চলের বাস্তুতন্ত্র পর্যবেক্ষণ এবং বিড়ালজাতীয় বন্যপ্রাণীর আবাসস্থলের সঠিক তথ্য নিরূপণ।
আবাসস্থল পুনরুদ্ধার ও বিকল্প জীবিকা: বন পুনর্বাসনের মাধ্যমে বন্যপ্রাণীর পরিবেশ উন্নত করা এবং বননির্ভর জনগোষ্ঠীর বিকল্প ও টেকসই জীবিকার সুযোগ সৃষ্টি।
পানি সংকট নিরসন ও অবকাঠামো: পাহাড়ি এলাকায় সুপেয় পানির তীব্র সংকট দূরীকরণে গ্রাভিটি ফ্লো সিস্টেম (GFS) স্থাপন এবং জনকল্যাণমূলক অবকাঠামো নির্মাণ।
অংশীজনদের সমন্বয়: স্থানীয় অভিজ্ঞতা বিনিময়, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি-বেসরকারি সকল দপ্তর ও জনগোষ্ঠীর মধ্যে শক্তিশালী সমন্বয় গড়ে তোলা।
দিনব্যাপী এ কর্মশালা শেষে সকল অংশগ্রহণকারীদের উপস্থিতিতে দলীয় আলোকচিত্র (Group Photo) ও আপ্যায়নের মাধ্যমে কর্মসূচির সমাপ্তি ঘটে।