বৃহস্পতিবার, ২৭শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১২ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

লামায় FAO-এর পরামর্শমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত

নজরুল ইসলাম, লামা, বান্দরবানঃ

বান্দরবানের লামা উপজেলা পরিষদের হলরুমে জাতিসংঘের খাদ্য ও কৃষি সংস্থা FAO (Food and Agriculture Organization of the United Nations)-এর উদ্যোগে কৃষিখাতে বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০-এর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অ্যাকশন প্ল্যান ও মনিটরিং ফ্রেমওয়ার্ক প্রণয়নের লক্ষ্যে পরামর্শমূলক কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট ২০২৬) লামা উপজেলা পরিষদের হলরুমে এ কর্মশালা অনুষ্ঠিত হয়। কর্মশালার প্রকল্পের নাম “Formulation of an Action Plan and Monitoring Framework aligning with Bangladesh Delta Plan 2100 in Agriculture” এবং প্রকল্প কোড TCP/BGD/4003। FAO-এর বাংলাদেশ প্রকল্প তালিকাতেও TCP/BGD/4003 প্রকল্পটি ২০২৪–২০২৬ মেয়াদের হিসেবে উল্লেখ রয়েছে।

কর্মশালায় কৃষি, কৃষি আবহাওয়া, গবেষণা, স্থানীয় প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন। আলোচনায় জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলা করে কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি, কৃষিতে অভিযোজন সক্ষমতা বাড়ানো, পানি ও প্রাকৃতিক সম্পদের টেকসই ব্যবহার এবং ভবিষ্যৎ কৃষি পরিকল্পনায় স্থানীয় বাস্তবতাকে গুরুত্ব দেওয়ার বিভিন্ন দিক উঠে আসে।

কর্মশালায় উপস্থিত ছিলেন লামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার জনাব মোঃ মঈন উদ্দিন, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রকল্প পরিচালক জনাব আকরাম হোসাঈন চৌধুরী, কৃষি আবহাওয়া বিশেষজ্ঞ জনাব মাজহারুল আজিজ, গাজীপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের সহযোগী অধ্যাপক ড. আসিফ রেজ অনিক, FAO বাংলাদেশের প্রোগ্রাম ম্যানেজার মিস নুজাবা তাহরীন রহমান, বান্দরবানের অতিরিক্ত উপপরিচালক (পিপি) জনাব সুমন কুমার বসাক, লামা উপজেলা কৃষি অফিসার জনাব মোঃ শাহজাহান আলী এবং লামা থানার ওসি (তদন্ত) জনাব নজরুল ইসলামসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।

আলোচনায় বক্তারা বলেন, বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০-এর মূল লক্ষ্যগুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কৃষিখাতকে আরও টেকসই, জলবায়ু সহনশীল ও উৎপাদনশীল করে গড়ে তুলতে দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা প্রয়োজন। বিশেষ করে পাহাড়ি ও দুর্গম অঞ্চলের কৃষকদের বাস্তব সমস্যা, স্থানীয় কৃষি-জলবায়ু, পানির প্রাপ্যতা, মাটির বৈশিষ্ট্য, ফসলের ধরন এবং জলবায়ুজনিত ঝুঁকিকে বিবেচনায় নিয়ে কার্যকর পরিকল্পনা প্রণয়ন করা জরুরি।

কর্মশালায় কৃষি আবহাওয়ার তথ্যকে কৃষকদের কাছে আরও কার্যকরভাবে পৌঁছে দেওয়া, আবহাওয়ার পূর্বাভাসের ভিত্তিতে কৃষি সিদ্ধান্ত গ্রহণ, জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ঝুঁকি কমানো এবং আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও কৃষকের আয় বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।

এছাড়া স্থানীয় পর্যায়ে কৃষি উন্নয়নের বিভিন্ন সমস্যা ও সম্ভাবনা চিহ্নিত করে সেগুলোকে জাতীয় পর্যায়ের দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার সঙ্গে সমন্বয় করার বিষয়েও মতামত নেওয়া হয়। সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের অভিজ্ঞতা ও পরামর্শ ভবিষ্যৎ অ্যাকশন প্ল্যান ও মনিটরিং ফ্রেমওয়ার্ক তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে কর্মশালায় আশাবাদ ব্যক্ত করা হয়।

FAO-এর TCP/BGD/4003 প্রকল্পটি বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০-এর সঙ্গে কৃষিখাতের পরিকল্পনা ও পরিবীক্ষণ কাঠামোকে সামঞ্জস্য করার উদ্দেশ্যে পরিচালিত হচ্ছে। এর মাধ্যমে কৃষি খাতে দীর্ঘমেয়াদি ও জলবায়ু সহনশীল উন্নয়ন পরিকল্পনার জন্য প্রয়োজনীয় কাঠামো তৈরির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।

কর্মশালায় সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা বলেন, শুধু জাতীয় পর্যায়ের পরিকল্পনা নয়, বাস্তবভিত্তিক স্থানীয় তথ্য ও কৃষকদের অভিজ্ঞতাকেও পরিকল্পনা প্রণয়নে অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। এতে পাহাড়ি অঞ্চলসহ দেশের বিভিন্ন কৃষি-ভৌগোলিক এলাকার জন্য অধিক কার্যকর ও বাস্তবসম্মত কৃষি উন্নয়ন পরিকল্পনা গ্রহণ করা সম্ভব হবে।

দিনব্যাপী আয়োজিত এ পরামর্শমূলক কর্মশালায় সংশ্লিষ্টরা কৃষিখাতের ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ, সম্ভাবনা ও করণীয় নিয়ে মতবিনিময় করেন এবং বাংলাদেশ ডেল্টা প্ল্যান-২১০০-এর আলোকে একটি টেকসই ও জলবায়ু সহনশীল কৃষি ব্যবস্থা গড়ে তোলার ওপর গুরুত্বারোপ করেন।

ক্যাটাগরি