বান্দরবানের আজিজনগরে পাহাড়ধসে নিহত পরিবারগুলোর মাঝে আমীরে জামায়াতের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী বিতরণ
বান্দরবানের লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নে ভয়াবহ পাহাড়ধসে নিহত দুই পরিবারের স্বজনদের মাঝে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে নগদ অর্থ ও উপহার সামগ্রী বিতরণ করা হয়েছে।
এর আগে জামায়াত নেতৃবৃন্দ পাহাড়ধসে নিহত পাঁচজনের কবর জিয়ারত করেন এবং তাঁদের রূহের মাগফিরাত কামনা করে বিশেষ দোয়া ও মোনাজাতে অংশ নেন। এ সময় তারা শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা প্রদান করেন এবং ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানান।
সোমবার (১৩ জুলাই) সকাল ১০টায় বান্দরবানের লামায় আজিজনগর ইউনিয়ন পরিষদ হল রুমে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে জেলা আমীর এম এস আব্দুচ ছালাম আজাদের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল ও চট্টগ্রাম অঞ্চল পরিচালক মুহাম্মদ শাহজাহান।
উল্লেখ্য, গত বৃহস্পতিবার ভোর আনুমানিক ৪টার দিকে লামা উপজেলার আজিজনগর ইউনিয়নের মিশনপাড়া (পাগলির ঝিরি) এলাকায় পাহাড়ধসে নিজ বসতঘরে ঘুমিয়ে থাকা একই পরিবারের তিন সদস্য নিহত হন। নিহতরা হলেন মো. ইউনুস (৪০), তাঁর স্ত্রী রানু আক্তার (৩৫) এবং তাঁদের ছেলে মো. সোলেমান (৫)।
এর প্রায় দেড় ঘণ্টা পর, ভোর আনুমানিক ৫টা ৪০ মিনিটে একই ইউনিয়নের মিশনপাড়া এলাকায় আরেকটি পাহাড়ধসের ঘটনায় মাটি ও ঘরের দেয়ালের নিচে চাপা পড়ে স্বামী-স্ত্রী মো. জুয়েল (৩৪) ও কুলছুমা আক্তার (২৫) নিহত হন। স্থানীয় লোকজন, ফায়ার সার্ভিস ও পুলিশের সদস্যরা তাঁদের মরদেহ উদ্ধার করেন।
বিতরণকালে প্রধান অতিথির বক্তব্যে মুহাম্মদ শাহজাহান নিহতদের পরিবারের প্রতি গভীর শোক ও সমবেদনা জানিয়ে বলেন, প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের পাশে দাঁড়ানো ইসলামের শিক্ষা এবং মানবিক দায়িত্ব। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সব সময় অসহায়, দুর্গত ও বিপদগ্রস্ত মানুষের পাশে ছিল, আছে এবং ভবিষ্যতেও থাকবে। তিনি পাহাড়ধসে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় ঝুঁকিপূর্ণ বসতি চিহ্নিত করে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ, নিরাপদ পুনর্বাসন নিশ্চিত করা এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তা প্রদানের আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, নিহতদের পরিবারের এই ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়। আমরা মহান আল্লাহর কাছে তাঁদের মাগফিরাত কামনা করছি এবং শোকসন্তপ্ত স্বজনদের ধৈর্য ধারণের তাওফিক কামনা করছি। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে এ ধরনের দুর্ঘটনা প্রতিরোধে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আরও কার্যকর ও দীর্ঘমেয়াদি উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে।
এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন জেলা বারের সাবেক সভাপতি অ্যাডভোকেট আবুল কালাম এবং বান্দরবান জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি আব্দুল আওয়াল।
অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন জেলা কর্মপরিষদ সদস্য হামেদ হাসান, আজিজনগর ইউনিয়ন সভাপতি ডা. ফরিদুল আলম, স্থানীয় ইউনিয়নের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান মোবারক হোসেনসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ।