চসিক ৩০ নম্বর ওয়ার্ড (পূর্ব মাদারবাড়ি) দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে প্রার্থী হবেন না কেউ
চট্টগ্রাম সিটি কর্পোরেশনের (চসিক) ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডে আসন্ন সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনকে সামনে রেখে সম্ভাব্য কাউন্সিলর প্রার্থীদের মধ্যে দলীয় সিদ্ধান্ত মেনে চলার বিষয়ে ঐকমত্য দেখা গেছে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা জানিয়েছেন, দলীয় মনোনয়ন ছাড়া কেউ স্বতন্ত্রভাবে প্রার্থী হবেন না।
চট্টগ্রাম-১১ সংসদীয় এলাকার অন্তর্ভুক্ত পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ড নগরীর একটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা। পূর্ব মাদারবাড়ি, নালাপাড়া, সদরঘাট, দক্ষিণ মাদারবাড়ি ও কামাল গেইটসহ বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ এলাকা নিয়ে গঠিত এ ওয়ার্ডে শিক্ষার হার প্রায় ৬৮.১ শতাংশ। এখানে সরকারি সিটি কলেজ, ইসলামিয়া কলেজ, চট্টগ্রাম কলেজিয়েট স্কুল অ্যান্ড কলেজসহ বেশ কয়েকটি স্বনামধন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠান রয়েছে।
সরকারি তথ্য অনুযায়ী, ওয়ার্ডটির মোট জনসংখ্যা প্রায় ৪৫ হাজার ৯২৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ২৪ হাজার ৬৫০ জন এবং নারী ২১ হাজার ২৭৮ জন। মোট পরিবার রয়েছে ৯ হাজার ৬৫১টি। ভোটার সংখ্যা ৩৭ হাজার ৫৯৬ জন, যার মধ্যে পুরুষ ভোটার ১৯ হাজার ২১৫ এবং নারী ভোটার ১৮ হাজার ৩৮১ জন।
নির্বাচন ঘিরে ইতোমধ্যে সম্ভাব্য প্রার্থীরা মাঠ গোছাতে শুরু করেছেন। ঈদ, রমজান, বাংলা নববর্ষসহ বিভিন্ন সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে নিজেদের প্রার্থিতা জানান দিচ্ছেন তারা। বিভিন্ন এলাকায় ব্যানার, পোস্টার, ফেস্টুন ও বিলবোর্ড টানানোর পাশাপাশি অনেকে ইফতার ও ঈদ উপহার বিতরণের মাধ্যমে ভোটারদের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা করছেন।
স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সম্ভাব্য প্রার্থীদের মধ্যে আলোচনায় রয়েছেন চট্টগ্রাম মহানগর বিএনপির সদস্য মশিউল আলম স্বপন, টেরিবাজার ব্যবসায়ী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আবুল মনছুর, সদরঘাট থানা বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক কাউছার হোসেন বাবু এবং মহানগর ছাত্রদলের সাবেক সহ-সভাপতি সাইদুর রহমান সাঈদ।
সম্ভাব্য এসব প্রার্থী একযোগে জানিয়েছেন, দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে কেউ প্রার্থী হবেন না। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তাকেই সবাই সমর্থন করবেন।
এ বিষয়ে বীর মুক্তিযোদ্ধা ইকরাম উদ্দৌলা বলেন, “দেশপ্রেমিক ও দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের জনপ্রতিনিধি হিসেবে নির্বাচিত করা জরুরি। তাহলেই স্বাধীনতার লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য বাস্তবায়ন সম্ভব হবে।”
সদরঘাট থানা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক মোহাম্মদ পারভেজ পারু বলেন, “দীর্ঘদিন কাউন্সিলর না থাকায় ময়লা ও ড্রেন পরিষ্কারের মতো নিয়মিত কার্যক্রমে ভাটা পড়েছে। তবে আমাদের ওয়ার্ডে দলীয় সাংগঠনিক অবস্থান শক্তিশালী।”
সম্ভাব্য প্রার্থী সাইদুর রহমান সাঈদ বলেন, “আমার প্রয়াত পিতা ২০২১ সালে দলীয় প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছিলেন। তাঁর মৃত্যুর পর থেকে আমি এলাকায় সামাজিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছি। এলাকাবাসীর চাহিদার কারণেই নির্বাচনে অংশ নিতে প্রস্তুতি নিচ্ছি।”
ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য সচিব সৈয়দ তসলিমুর রহমান বলেন, “নির্বাচনে যে কেউ প্রার্থী হতে পারে, তবে গ্রহণযোগ্যতাই মূল বিষয়। সামাজিক ও রাজনৈতিকভাবে গ্রহণযোগ্য ব্যক্তিকেই প্রার্থী করা উচিত।”
ওয়ার্ড বিএনপির আহ্বায়ক আজিজুল ইসলাম বাদল বলেন, “দলীয় মনোনয়নের ক্ষেত্রে স্থানীয় ও মহানগর পর্যায়ে আলোচনা করে যোগ্য প্রার্থী নির্ধারণ করা হবে। দল যাকে মনোনয়ন দেবে, তাকেই সবাই মেনে নেবেন।”
এদিকে নাগরিক ফোরামের ব্যানারে সম্ভাব্য প্রার্থী আবুল মনছুর জানান, দীর্ঘদিন ধরে তিনি সামাজিক, ব্যবসায়ী ও সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডের সঙ্গে যুক্ত আছেন এবং এলাকার সাধারণ মানুষের পাশে থেকে কাজ করছেন।
সব মিলিয়ে, চসিকের ৩০ নম্বর পূর্ব মাদারবাড়ি ওয়ার্ডে নির্বাচন ঘিরে রাজনৈতিক তৎপরতা বাড়লেও দলীয় শৃঙ্খলা বজায় রাখার বিষয়ে সম্ভাব্য প্রার্থীদের অভিন্ন অবস্থান স্থানীয় রাজনীতিতে ইতিবাচক বার্তা দিচ্ছে।