বৃহস্পতিবার, ৫ই নভেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২০শে কার্তিক, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য সংবাদ

স্বাধীনতার ৫৫ বছর: বান্দরবানের পদ্মমুখে দেড় হাজার মানুষের ‘বাঁশের সাঁকোই’ ভরসা

দেশ স্বাধীনের সাড়ে পাঁচ দশক পার হলেও উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি বান্দরবানের থানচি উপজেলার দুর্গম পাহাড়ি জনপদ তিন্দু ইউনিয়নের পদ্মমুখ এলাকায়। দীর্ঘ ৫৫ বছরেও এখানে নির্মিত হয়নি কোনো স্থায়ী সেতু। ফলে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে প্রতিদিন চলাচল করতে হচ্ছে ১৫টি গ্রামের প্রায় দেড় হাজার মানুষকে। বর্ষা এলেই চারপাশ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে এই জনপদ, থমকে যায় স্বাভাবিক জীবনযাত্রা।

সরেজমিনে জানা গেছে, পদ্ম ঝিরির খুম পারাপারের পথটি দীর্ঘকাল ধরেই অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। যাতায়াতের বিকল্প কোনো পথ না থাকায় স্থানীয় বাসিন্দারা প্রতিবছর শুকনো মৌসুমে নিজেদের উদ্যোগে বাঁশ সংগ্রহ করে একটি অস্থায়ী সাঁকো তৈরি করেন। তবে পাহাড়ি ঢলে বর্ষার মরসুমে পানির স্রোত বৃদ্ধি পেলে সেই সাঁকোটিও ভেঙে যায় অথবা পারাপার অনুপযোগী হয়ে পড়ে। এতে করে শিক্ষা, জরুরি চিকিৎসা ও কৃষিপণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে চরম ভোগান্তিতে পড়েন নারী, শিশু ও বৃদ্ধসহ হাজারো বাসিন্দা।

স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও তিন্দু ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ভাগ্যচন্দ্র ত্রিপুরা জানান, ইউনিয়ন পরিষদের সীমিত বাজেটের কারণে সেখানে স্থায়ী কোনো সেতু বা টেকসই সাঁকো নির্মাণ করা সম্ভব হচ্ছে না। দুর্গম এই এলাকার দীর্ঘদিনের জনদুর্ভোগ লাঘবে পদ্ম ঝিরির খুমে জরুরি ভিত্তিতে একটি ২৫০ ফুটের স্থায়ী সেতু নির্মাণ করা প্রয়োজন। এ বিষয়ে তিনি উপজেলা প্রশাসন ও সরকারের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের দ্রুত ও কার্যকর হস্তক্ষেপ দাবি করেছেন।

যোগাযোগ করা হলে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) থানচি উপজেলা প্রকৌশলী মো. আবু হানিফ জানান, সেতু নির্মাণের জন্য স্থানীয়দের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক আবেদন করতে বলা হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরেজমিনে এলাকাটি পরিদর্শন করে জনস্বার্থে আগামী প্রকল্প বাজেটের আওতায় এনে সেখানে একটি স্থায়ী সেতু নির্মাণের সর্বোচ্চ চেষ্টা চালানো হবে।

পদ্মমুখ এলাকার বাসিন্দাদের প্রত্যাশা, কর্তৃপক্ষ দ্রুত পদক্ষেপ নিয়ে তাদের এই দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ দশকের দুর্ভোগের অবসান ঘটাবে।

ক্যাটাগরি