মঙ্গলবার, ১৩ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

“লামায় জাতীয় কন্যাশিশু দিবস পালিত, ‘শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়”

নজরুল ইসলাম, লামা (বান্দরবান) প্রতিনিধি:

বান্দরবানের লামায় অত্যন্ত উৎসাহ-উদ্দীপনার মধ্য দিয়ে জাতীয় কন্যাশিশু দিবস-২০২৬ পালিত হয়েছে। “শিশু বিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়”— এই প্রতিপাদ্যকে সামনে রেখে সোমবার (১২ অক্টোবর) উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা মহিলা বিষয়ক কর্মকর্তার কার্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য র‍্যালী ও আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।

সকালে উপজেলা চত্বর থেকে একটি র‍্যালী বের হয়ে প্রধান প্রধান সড়ক প্রদক্ষিণ করে। র‍্যালী শেষে আয়োজিত আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা জনাব প্রভুজ বড়ুয়া। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন নুনারবিল মডেল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক জনাব জাহিদ সারোয়ার।

আলোচনা সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা গোপাল কৃষ্ণ চক্রবর্তী এবং লাইনঝিরি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক সাজিদা ইয়াসমিন। অনুষ্ঠানে বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কন্যাশিক্ষার্থী এবং সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে উপজেলা পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা প্রভুজ বড়ুয়া বলেন, “সমাজের সর্বক্ষেত্রে নারী নেতৃত্বের বিকাশ ঘটাতে হবে। মেয়েদের অল্প বয়সে বিয়ে দেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং ভালো-মন্দ বিচার করে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে।” তিনি জাতীয় কন্যাশিশু দিবসের সার্বিক সাফল্য কামনা করে আরও বলেন, “প্রতিটি ঘরের প্রতিটি কন্যাশিশু যেন সম্পদে রূপান্তরিত হয়।”

বিশেষ অতিথির বক্তব্যে উপজেলা পল্লী উন্নয়ন কর্মকর্তা গোপাল কৃষ্ণ চক্রবর্তী বলেন, “আজকের কন্যাসন্তান আগামীর ভবিষ্যৎ। কন্যাশিশুর সঠিক শিক্ষা, অধিকার ও নিরাপদ বেড়ে ওঠা নিশ্চিত করতে হবে।”

সভায় বক্তারা কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং বাল্যবিবাহের মতো সামাজিক ব্যাধি প্রতিরোধে পরিবার, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও প্রশাসনকে সম্মিলিতভাবে কাজ করার আহ্বান জানান। তারা একমত পোষণ করেন যে, কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য দূর করে তাদের মেধা ও যোগ্যতা বিকাশের সুযোগ নিশ্চিত করা গেলে তারাই ভবিষ্যতে পরিবার, সমাজ ও দেশের উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখতে পারবে।

দিবসটির মূল লক্ষ্য ছিল কন্যাশিশুর প্রতি ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি তৈরি, তাদের অধিকার সম্পর্কে সচেতনতা বৃদ্ধি এবং বাল্যবিবাহমুক্ত সমাজ গঠনে সবাইকে উদ্বুদ্ধ করা।

ক্যাটাগরি