রামুতে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস উদযাপন
নিজস্ব প্রতিবেদক, কক্সবাজার:
বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা এবং মেয়েদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করার প্রত্যয়ে কক্সবাজারের রামু উপজেলার জোয়ারিয়ানালা হাজী মোহাম্মদ সাঁচি উচ্চ বিদ্যালয়ে আন্তর্জাতিক কন্যাশিশু দিবস ২০২৬ উদযাপন করা হয়েছে।
রোববার (১১ অক্টোবর) রুম টু রিড বাংলাদেশ-এর জেন্ডার ইক্যুইটি পোর্টফোলিও ও জোয়ারিয়ানালা হাজী মোহাম্মদ সাঁচি উচ্চ বিদ্যালয়ের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত এ অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আজিজুল হক সিকদার।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের পরিচালক অধ্যাপক ড. মীর জাহিদা নাজনীন।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাউশির পরিকল্পনা ও উন্নয়ন উইংয়ের সহকারী পরিচালক মো. মিজানুর রহমান ও মো. খায়েশাদ আলম, কক্সবাজারের জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. গোলাম মোস্তফা এবং মাউশির গবেষণা কর্মকর্তা জিসান আহমেদ।
অনুষ্ঠানের শুরুতে শিক্ষার্থীদের হাতে আঁকা ছবি, শুভেচ্ছা কার্ড ও ফুল দিয়ে অতিথিদের স্বাগত জানানো হয়। স্বাগত বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক ও অনুষ্ঠানের সভাপতি মো. আজিজুল হক সিকদার এবং রুম টু রিড বাংলাদেশের কক্সবাজার অফিসের ম্যানেজার চিত্তপ্রিয় আচার্য।
অনুষ্ঠানে নবম ও দশম শ্রেণির শিক্ষার্থীরা কন্যাশিশুর অধিকার, শিক্ষার গুরুত্ব এবং বাল্যবিবাহের ক্ষতিকর প্রভাব নিয়ে পাওয়ারপয়েন্ট উপস্থাপনা করে। এ সময় অতিথিরা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে সরাসরি মতবিনিময় ও প্রশ্নোত্তর পর্বে অংশ নেন। শিক্ষার্থীরা কন্যাশিশুর অধিকার রক্ষা, শিক্ষার সুযোগ নিশ্চিত করা এবং বাল্যবিবাহ প্রতিরোধের বিভিন্ন বিষয় তুলে ধরে।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে অধ্যাপক ড. মীর জাহিদা নাজনীন বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ, মেয়েদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা বজায় রাখা এবং বিদ্যালয়ে নিরাপদ ও সহায়ক শিক্ষার পরিবেশ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি নিয়মিত অভিভাবক সভা আয়োজন, বাড়ি পরিদর্শন এবং বিদ্যালয়, পরিবার ও সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের মাধ্যমে ঝুঁকিতে থাকা মেয়েদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানান।
বিশেষ অতিথিরাও মেয়েদের শিক্ষাজীবন অব্যাহত রাখা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং নিরাপদ বিদ্যালয় পরিবেশ নিশ্চিত করতে শিক্ষক, অভিভাবক, শিক্ষা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের সম্মিলিত উদ্যোগের ওপর গুরুত্ব দেন।
অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক মো. তালিব উল্লাহ সিদ্দিকী।
আয়োজকেরা কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, বাল্যবিবাহ প্রতিরোধ এবং মেয়েদের শিক্ষার ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, অভিভাবক ও শিক্ষা প্রশাসনের সমন্বিত ভূমিকার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তাঁদের মতে, সম্মিলিত উদ্যোগ ও সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে কন্যাশিশুর জন্য বৈষম্যহীন, নিরাপদ ও সম্ভাবনাময় ভবিষ্যৎ গড়ে তোলা সম্ভব।
“শিশুবিয়ে আর নয়, কন্যা করবে বিশ্বজয়”—এই প্রত্যয়কে সামনে রেখে কন্যাশিশুর শিক্ষা, অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বানের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানটি শেষ হয়।