সোমবার, ১২ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৭শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার

ময়মনসিংহ সদর সাব রেজিস্ট্রি অফিসের রেকর্ড কিপার মিজানুরকে ঘিরে নানা অভিযোগ

রনি বসু-ময়মনসিংহ জেলা প্রতিনিধি

ময়মনসিংহ সদর রেজিস্ট্রি মহাফেজখানায় সরকারি রেকর্ড ও গুরুত্বপূর্ণ দলিলের তল্লাশি সেবা নিতে এসে চরম ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন সাধারণ মানুষ। নির্ধারিত নকল ফি ৩৫০ থেকে ৪৫০ টাকা হলেও কোনো কোনো ক্ষেত্রে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। একই সঙ্গে পুরোনো নথি তল্লাশিতে দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত সময় লাগা, গুরুত্বপূর্ণ রেকর্ড একজন কর্মচারীর নিয়ন্ত্রণে রাখা এবং অফিস সময়ের পরও দীর্ঘক্ষণ অবস্থানের অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির কার্যক্রম নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। এসব অভিযোগের কেন্দ্রে রয়েছেন সদর রেজিস্ট্রি মহাফেজখানার রেকর্ড কিপার মিজানুর রহমান। অভিযোগ উঠেছে , দীর্ঘদিন ধরে একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালন করায় মহাফেজখানার রেকর্ড, তল্লাশি কারক বই ও নথিপত্রের ওপর তাঁর প্রভাব তৈরি হয়েছে।নকল ফিতে ‘বাড়তি টাকা’ কেন?

সেবাগ্রহীতাদের অভিযোগ, সরকারি নির্ধারিত নকল ফি ৩৫০–৪৫০ টাকার মধ্যে হলেও বিভিন্ন ক্ষেত্রে ১ হাজার থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা পর্যন্ত দাবি বা আদায় করা হচ্ছে। অতিরিক্ত অর্থের কোনো সরকারি খাত বা বৈধ রসিদ রয়েছে কি না—তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন ভুক্তভোগীরা।দুই বছরের নথি পেতে দুই মাস! ভুক্তভোগীদের দাবি, দুই-তিন বছরের পুরোনো কোনো নথির তল্লাশি চাইলে অনেক সময় দেড় থেকে দুই মাস পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয়। পর্যাপ্ত তল্লাশি কারক বই না থাকা এবং পুরোনো রেকর্ড খুঁজে বের করার কাজে সংশ্লিষ্ট কর্মীদের যথাযথভাবে ব্যবহার না করাকেই এর অন্যতম কারণ হিসেবে দেখছেন তারা।

রাত ৮টা পর্যন্ত অফিসে, গেট বন্ধ
অভিযোগ রয়েছে, অফিস সময় শেষ হওয়ার পরও মিজানুর রহমান দীর্ঘ সময় মহাফেজখানায় অবস্থান করেন। কোনো কোনো দিন রাত ৮টা পর্যন্ত অফিসে থেকে বহিরাগত লোকজনের সঙ্গে অবস্থান ও আড্ডা দেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।
সংশ্লিষ্টদের প্রশ্ন, সরকারি অফিসে নির্ধারিত সময়ের পর এত দীর্ঘ সময় অবস্থানের কারণ কী? এ সময় কী ধরনের কার্যক্রম চলে? কেন অফিসের কেচি গেট বন্ধ করে ভেতরে অবস্থান করা হয়?

জমি-জমা ও ফ্ল্যাটের মালিকানা নিয়েও প্রশ্ন
মিজানুর রহমানের জমি-জমা ও ফ্ল্যাটের মালিকানা বা সম্পদ অর্জন নিয়েও বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ও আলোচনা রয়েছে বলে দাবি করেছেন অভিযোগকারীরা। তাঁর চাকরিজীবনের আয়, দৃশ্যমান সম্পদ এবং সম্পদ অর্জনের সময়কাল ও উৎসের মধ্যে সামঞ্জস্য রয়েছে কি না—তা যাচাইয়ের দাবি উঠেছে।

নির্ভরশীল সুত্রে জানা যায়, সম্পদ বিবরণী, ভূমি রেকর্ড, দলিলপত্র ও অন্যান্য প্রাসঙ্গিক নথি যাচাই করা প্রয়োজন। এর আগে
গফরগাঁওয়ের দায়িত্ব নিয়েও অভিযোগ
মিজানুর রহমান এর আগে গফরগাঁওয়ে দায়িত্ব পালনকালে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে বলেও দাবি করেছেন সংশ্লিষ্ট কয়েকজন। পূর্ববর্তী কর্মস্থলের নথিপত্র যাচাই প্রয়োজন।

কর্তৃপক্ষের নজরদারি কোথায়?
সরকারি গুরুত্বপূর্ণ নথি সংরক্ষণ ও তল্লাশির মতো স্পর্শকাতর দায়িত্বে একজন কর্মচারী দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে থাকলে প্রশাসনিক নজরদারি কতটা কার্যকর—এ প্রশ্নও সামনে এসেছে।

সেবাগ্রহীতাদের দাবি, সদর রেজিস্ট্রি মহাফেজখানায় জরুরি প্রশাসনিক তদন্ত চালানো হোক। নির্ধারিত ফি বনাম আদায়কৃত অর্থের হিসাব, রসিদ, তল্লাশি কারক বই, পুরোনো নথি ব্যবস্থাপনা, অফিস সময়ের পর অবস্থান, বহিরাগতদের উপস্থিতি এবং সংশ্লিষ্টদের সম্পদ—সবকিছু খতিয়ে দেখা হোক।

প্রশ্ন এখন একটাই—সরকারি নথি ও দলিলের তল্লাশি সেবা নিতে সাধারণ মানুষকে কেন বাড়তি টাকা দিতে হবে, আর একই সঙ্গে দায়িত্বশীল একজন কর্মচারীর জমি-জমা ও ফ্ল্যাটসহ সম্পদের উৎস নিয়েই বা কেন প্রশ্ন উঠবে

ক্যাটাগরি