শনিবার, ১০ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৫শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

পার্বত্য সংবাদ

গার্মেন্টস কারখানায় কেএনএফের গোপন অর্ডার! ১.৬২ কোটি টাকার পোশাক কাণ্ডে নাথান বমসহ ৯ আসামি

হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান প্রতিনিধি:

পাহাড়ের নিষিদ্ধ ও সশস্ত্র সংগঠন কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) ৪০ হাজার সেট সামরিক ধাঁচের ইউনিফর্ম তৈরি এবং এর পেছনে ১ কোটি ৬২ লাখ টাকারও বেশি অবৈধ লেনদেনের অভিযোগে মামলা দায়ের করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সন্ত্রাস বিরোধী আইনে দায়ের করা এই মামলায় কেএনএফ প্রধান নাথান বমসহ মোট ৯ জনকে আসামি করা হয়েছে।

সিআইডির সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কেএনএফের জন্য চার রঙের বিশেষ ‘ক্যামোফ্লেজ’ ইউনিফর্ম তৈরি ও অর্থায়নের সুনির্দিষ্ট প্রমাণের ভিত্তিতে এ আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

২০২৫ সালের ১৮ মে গভীর রাতে বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফরনগর আবাসিক এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে পোশাক তৈরির সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি বিশেষ দল। পরবর্তীতে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে নগরীর হালিশহর থানাধীন ছোটপুল এলাকার দুটি ফ্ল্যাটে তল্লাশি চালিয়ে আরও দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। আটককৃতদের জিজ্ঞাসাবাদে বায়েজিদ এলাকার একটি পোশাক কারখানা ও গোডাউনের সন্ধান মেলে, সেখান থেকে মোট ২০ হাজার ৩০০ সেট সম্পন্ন ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে গোডাউন থেকে ১১ হাজার ২০০ সেট এবং গার্মেন্টস কারখানা থেকে ৯ হাজার ১০০ সেট পোশাক জব্দ করে পুলিশ।

মামলার তদন্তে কেএনএফের পোশাক বানানোর নেপথ্যে বিশাল অঙ্কের অর্থের লেনদেন খুঁজে পায় সিআইডি। কেএনএফের প্রতিনিধি মংহলাসিন মারমার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট গার্মেন্টস মালিক ও অর্থ জোগানদাতাদের ব্যাংক হিসাব, চেক ও নগদ টাকার মাধ্যমে মোট ১ কোটি ৬২ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা লেনদেন করা হয়। এর মধ্যে কাপড়ের খরচ বাবদ ৯০ লাখ ৫৯ হাজার ৫০০ টাকা এবং ইউনিফর্ম সেলাইয়ের মজুরি হিসেবে দেওয়া হয়েছিল ৭২ লাখ টাকা।

মামলার প্রধান আসামি করা হয়েছে কেএনএফ প্রধান নাথানা লনচেও ওরফে নাথান বমকে (৪৯)। মামলার অন্য আসামিরা হলেন কেএনএফ প্রতিনিধি মংহলাসিন মারমা ওরফে মং (৩৮), নিয়াজ হায়দার (৩৯), মো. গোলাম আজম (৪৭), সাহেদুল ইসলাম (২৭), মোহাম্মদ কামরুজ্জামান (৫৮), জামালুল ইসলাম (৪৫), মো. তৌহিদুল ইসলাম (৩৮) এবং মো. মতিউর রহমান (৪৩)। সিআইডি জানিয়েছে, পাহাড়ি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে পোশাক ও অর্থ সরবরাহের সঙ্গে যুক্ত পুরো চক্রটিকে শনাক্ত করে কঠোর আইনি আওতায় আনার প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।

ক্যাটাগরি