বুধবার, ৭ই অক্টোবর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২২শে আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

উপকাননের দুস্থ মানুষের ভরসা বাংলাদেশ সেনাবাহিনী: প্রথম দিনেই বিনামূল্যে চিকিৎসা ও ওষুধ পেলেন ২০০০ মানুষ

হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান প্রতিনিধি:
পার্বত্য বান্দরবানের দুর্গম ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীর দোরগোড়ায় মানসম্মত স্বাস্থ্যসেবা পৌঁছে দিতে ফের মানবিক উদ্যোগে এগিয়ে এসেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। জেলার ঐতিহ্যবাহী রাজার মাঠে ৬৯ পদাতিক ব্রিগেড ও বান্দরবান রিজিয়নের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় শুরু হওয়া দুদিনব্যাপী ফ্রী মেডিকেল ক্যাম্পের প্রথম দিনেই পাহাড়ি-বাঙালি নির্বিশেষে অন্তত দুই হাজার রোগী চিকিৎসাসেবা ও বিনামূল্যে ওষুধ গ্রহণ করেছেন।

সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া এই বিশেষ চিকিৎসা ক্যাম্পে চক্ষু, চর্ম, নাক-কান-গলা, মেডিসিন, শিশু, গাইনি ও সার্জারি বিভাগের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকরা চিকিৎসা সেবা প্রদান করেন। পাহাড়ের দূর-দূরান্তের গ্রাম থেকে আসা নিম্ন আয়ের ও সাধারণ রোগীরা ক্যাম্পের সুশৃঙ্খল পরিবেশে সেবা পাওয়ার পাশাপাশি তাঁদের প্রয়োজনীয় সব ধরনের ওষুধ সম্পূর্ণ বিনামূল্যে হাতে পেয়ে গভীর সন্তোষ প্রকাশ করেন।

চিকিৎসা নিতে আসা কুহালং ইউনিয়নের ৭০ বছর বয়সী বৃদ্ধ নুরুল ইসলাম জানান, দেড় মাস আগে পা ভেঙে যাওয়ার পর অর্থাভাবে সঠিক চিকিৎসা নিতে পারছিলেন না তিনি। এই ক্যাম্পে এসে অভিজ্ঞ চিকিৎসকের পরামর্শের পাশাপাশি বিনামূল্যে প্রায় এক হাজার টাকার ওষুধ পেয়ে সেনাবাহিনীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। একইভাবে টাইগারপাড়ার ৮০ বছর বয়সী বৃদ্ধা জয় পুরী তঞ্চঙ্গ্যা তাঁর চোখের জটিলতার চিকিৎসা পেয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন এবং বিনামূল্যে পরবর্তী অস্ত্রোপচারের সুযোগের কথা জেনে সেনাবাহিনীর মানবিক উদ্যোগকে সাধুবাদ জানান।

সেবা কার্যক্রম তদারকি কালে চট্টগ্রাম সেনানিবাসের সহকারী পরিচালক (চিকিৎসা) কর্নেল ডা. মোঃ রিয়াজ উদ্দীন খান জানান, ২৪ পদাতিক ডিভিশনের জিওসি-এর নির্দেশনা ও বান্দরবান রিজিয়ন কমান্ডারের প্রত্যক্ষ তত্ত্বাবধানে চট্টগ্রাম সিএমএইচ, ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্স এবং বান্দরবান জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের যৌথ প্রচেষ্টায় এই স্বাস্থ্যসেবা পরিচালিত হচ্ছে। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর সুস্বাস্থ্য নিশ্চিত করতে সেনাবাহিনীর এমন মানবিক কার্যক্রম ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে তিনি আশ্বাস দেন।

ক্যাম্পের সার্বিক পরিকল্পনা নিয়ে ৭ ফিল্ড অ্যাম্বুলেন্সের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মোহাম্মদ সরফরাজ হায়দার উল্লেখ করেন, পার্বত্য অঞ্চলের দুর্গম ভূপ্রকৃতির কারণে অনেকে ইচ্ছে থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা পান না। সে কারণেই বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের সমন্বয়ে এই মেডিকেল টিমের আয়োজন করা হয়েছে। স্থানীয় পাহাড়ি ও বাঙালি সম্প্রদায়ের মানুষ সেনা সদস্যদের এই উদ্যোগকে ব্যাপকভাবে স্বাগত জানান এবং দুর্গম পাহাড় জুড়ে নিয়মিত বিরতিতে এমন বিনামূল্যে চিকিৎসা কার্যক্রম আয়োজনের জোর দাবি জানান। মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত এই ক্যাম্প অব্যাহত থাকবে।

ক্যাটাগরি