নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে বিজিবির জোড়া সাফল্য: অস্ত্র উদ্ধার, ২০ হাজার ইয়াবাসহ রোহিঙ্গা আটক
হাবিবুর রশিদ হিমন, বান্দরবান প্রতিনিধি:
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্তে পৃথক দুটি সফল অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ মাদক ও অবৈধ আগ্নেয়াস্ত্র উদ্ধার করেছে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবির ৩৪ ব্যাটালিয়ন)। অভিযানের সময় ২০ হাজার পিস মিয়ানমারের তৈরি ইয়াবাসহ এক রোহিঙ্গা যুবককে হাতেনাতে গ্রেপ্তার করা হলেও বিজিবির উপস্থিতি টের পেয়ে অস্ত্র ফেলে মিয়ানমার সীমান্তে পালিয়ে গেছে এক চোরাকারবারি।
শুক্রবার (১১ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় সীমান্তে এই সমন্বিত অভিযান পরিচালনা করে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধীনস্থ ঘুমধুম বিওপির বিশেষ টহলদল।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সীমান্ত পিলার-৩২ থেকে আনুমানিক ২০০ গজ বাংলাদেশের অভ্যন্তরে ‘জামালের ঘের’ এলাকায় মাদকের একটি বড় চালান হস্তান্তরের গোপন সংবাদ পায় বিজিবির বিশেষ টহলদল। তথ্যের ভিত্তিতে টহলদলটি কৌশলগত অবস্থান নিয়ে অভিযান চালায়। এ সময় ২০ হাজার পিস বার্মিজ ইয়াবাসহ নুর মোহাম্মদ (২০) নামে এক রোহিঙ্গা যুবককে হাতেনাতে আটক করা হয়। আটক নুর মোহাম্মদ ১ নম্বর রোহিঙ্গা ক্যাম্পের এফ/১৩ ব্লকের বাসিন্দা অলি আহমদের ছেলে।
একই দিন ও একই এলাকা থেকে একটি অবৈধ বিদেশি পিস্তল উদ্ধার করে বিজিবির অপর একটি দল। বিজিবি টহলদলের উপস্থিতি টের পেয়ে এক অস্ত্র চোরাকারবারি তার সঙ্গে থাকা পিস্তলটি ঘেরের পাশের ঝোপঝাড়ে ছুঁড়ে ফেলে দ্রুত দৌড়ে মিয়ানমার সীমানার দিকে পালিয়ে যায়। পরে বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থলে তল্লাশি চালিয়ে পরিত্যক্ত অবস্থায় বিদেশি পিস্তলটি উদ্ধার করতে সক্ষম হন। তবে সীমান্ত পেরিয়ে যাওয়ায় ওই অস্ত্র পাচারকারীকে আটক করা সম্ভব হয়নি।
অভিযানের বিষয়ে কক্সবাজার ব্যাটালিয়নের (৩৪ বিজিবি) অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এস এম খায়রুল আলম জানান, সীমান্ত সুরক্ষা, অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার, মাদক ও চোরাচালান প্রতিরোধ এবং অনুপ্রবেশ রোধে বিজিবি সবসময় সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব ও জিরো টলারেন্স নীতি নিয়ে কাজ করছে। বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তে যেকোনো ধরনের আন্তঃরাষ্ট্রীয় অপরাধ দমনে বিজিবির এই কঠোর নজরদারি ও অভিযান অব্যাহত থাকবে।