রবিবার, ২০শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ৫ই আশ্বিন, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

সারা দেশ

পানির নিচে রাঙামাটির আইকন ঝুলন্ত সেতু, হতাশ পর্যটকরা।

মেহেদী হাসান, রাঙামাটি প্রতিনিধি :

টানা তিন দিন ধরে কাপ্তাই হ্রদের পানি না কমায় পানির নিচে তলিয়ে আছে রাঙামাটির অন্যতম পর্যটন আকর্ষণ ও জেলার আইকন হিসেবে পরিচিত ঝুলন্ত সেতু। ফলে দূর-দূরান্ত থেকে রাঙামাটিতে ঘুরতে এসে হতাশ হয়ে ফিরছেন অনেক পর্যটক। পর্যটকের আনাগোনা কমে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন হোটেল-রিসোর্ট মালিক, পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ী ও নৌযান সংশ্লিষ্টরা।

পাহাড়ি ঢল ও টানা বৃষ্টিতে কাপ্তাই হ্রদের পানি বাড়তে থাকায় রাঙামাটির বিভিন্ন উপজেলার নিম্নাঞ্চলে পানি ঢুকে পড়েছে। কোথাও কোথাও সড়ক ও বসতবাড়ির আশপাশে পানি জমে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে হ্রদসংলগ্ন নিচু এলাকার মানুষের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

হ্রদের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের স্পিলওয়ের ১৬টি গেইট তিন ফুট করে খুলে দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে অতিরিক্ত পানি নিষ্কাশন করে হ্রদের পানির চাপ নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা চলছে। বর্তমানে কাপ্তাই হ্রদের পানি ১০৬ দশমিক ২৬ ফুট এমএসএল-এ স্থিতিশীল রয়েছে।

তবে পানি স্থিতিশীল থাকলেও এখনো স্বাভাবিক হয়নি পর্যটন পরিস্থিতি। পানির উচ্চতা বেড়ে যাওয়ায় রাঙামাটির অন্যতম আকর্ষণ ঝুলন্ত সেতুটি পানিতে তলিয়ে রয়েছে। ফলে সেতুতে পর্যটকদের চলাচল বন্ধ থাকায় দর্শনার্থীদের আগ্রহেও ভাটা পড়েছে।

দূর-দূরান্ত থেকে আসা পর্যটকদের অনেকেই ঝুলন্ত সেতু দেখতে না পেরে হতাশ হয়ে ফিরে যাচ্ছেন। এতে পর্যটনকেন্দ্রিক ব্যবসায়ও পড়ছে নেতিবাচক প্রভাব। পর্যটক কমে যাওয়ায় হোটেল, রিসোর্ট, রেস্টুরেন্ট, বোট ও অন্যান্য পর্যটন ব্যবসার সঙ্গে জড়িতরা পড়েছেন আর্থিক অনিশ্চয়তায়।

পর্যটন ম্যানেজার সিংক অলক বিকাশ চাকমা,জানান,প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানি বৃদ্ধি রাঙামাটির মানুষের কাছে নতুন কোনো ঘটনা নয়। তবে এবার দীর্ঘ সময় ধরে পানি বেশি থাকায় নিম্নাঞ্চলের বাসিন্দাদের পাশাপাশি পর্যটন খাত নিয়েও নতুন করে শঙ্কা তৈরি হয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হ্রদের পানি পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি নিম্নাঞ্চলের মানুষের নিরাপত্তা, সড়ক যোগাযোগ ও পর্যটনকেন্দ্রগুলোর পরিস্থিতির ওপর নজরদারি বাড়ানো প্রয়োজন। একই সঙ্গে পানি নিয়ন্ত্রণে কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ কেন্দ্রের গেইট খোলার পরবর্তী পরিস্থিতিও নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা জরুরি।

সব মিলিয়ে কাপ্তাই হ্রদের পানি পরিস্থিতি স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত রাঙামাটির পর্যটন খাতের ওপর এর প্রভাব অব্যাহত থাকার আশঙ্কা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।

ক্যাটাগরি