শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

চট্টগ্রাম

সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবি: দুই দিন পর নিখোঁজ পর্যটক জাওয়াদ-উল ইসলাম মাহিয়ানের মরদেহ উদ্ধার

নজরুল ইসলাম, (বান্দরবান) প্রতিনিধিঃ

বান্দরবানের থানচি উপজেলার সাঙ্গু নদীতে নৌকাডুবির ঘটনায় নিখোঁজ পর্যটক জাওয়াদ-উল ইসলাম মাহিয়ানের মরদেহ দুই দিন পর উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত জাওয়াদ-উল ইসলাম মাহিয়ান ময়মনসিংহ সদর উপজেলার মাসকান্দা গ্রামের হেলাল উদ্দিনের ছেলে।

স্থানীয় সূত্র ও প্রশাসন জানায়, গত শুক্রবার দুপুরে আলীকদম-থানচি সড়কের ২৩ কিলোমিটার এলাকা দিয়ে ১৩ জন পর্যটক তিন্দু বাজারে পৌঁছান। পরে স্থানীয় গাইড গর্জেন ত্রিপুরা তাদের গ্রহণ করেন। বিকেলে তারা তিন্দু ঘাট থেকে দুটি নৌকাযোগে রেমাক্রির উদ্দেশ্যে রওনা দেন। একটি নৌকায় ছয়জন এবং অপরটিতে সাতজন পর্যটক ছিলেন।

রেমাক্রির পথে তিন্দু বড় পাথর (রাজাপাথর) এলাকায় পৌঁছালে সাঙ্গু নদীর তীব্র স্রোতে সাত আরোহী থাকা একটি নৌকা ডুবে যায়। এ সময় ছয়জন সাঁতরে তীরে উঠতে সক্ষম হলেও জাওয়াদ-উল ইসলাম মাহিয়ান নিখোঁজ হন।

দুর্ঘটনার পর ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, বিজিবি ও স্থানীয় বাসিন্দারা টানা দুই দিন যৌথভাবে উদ্ধার অভিযান পরিচালনা করেও তাকে খুঁজে পাননি।

রোববার (২৬ জুলাই) সকাল সাড়ে ৭টার দিকে তিন্দুমুখ ও বড় পাথরের মাঝামাঝি এলাকায় স্থানীয়দের ভাষায় ‘নাইঃ অং’ নামক স্থানে তার মরদেহ ভেসে উঠতে দেখা যায়। পরে স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দিলে বিজিবি, স্থানীয় গাইড ও নৌকার মাঝিদের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়।

তিন্দু ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান মংপ্রু অং মারমা বলেন, “সকাল সাড়ে ৭টার দিকে বড় পাথর ও তিন্দুমুখের মাঝামাঝি স্থানে নিখোঁজ পর্যটকের মরদেহ ভেসে উঠতে দেখে স্থানীয়রা প্রশাসনকে খবর দেয়।”

থানচি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মোহাম্মদ আব্দুল্লাহ-আল-ফয়সাল সাংবাদিকদের বলেন, “মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। ফায়ার সার্ভিসের একটি দল ঘটনাস্থলে রয়েছে। তারা ফিরে এলে উদ্ধার অভিযান ও ঘটনার বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য জানানো হবে।”

এ ঘটনায় এলাকায় শোকের ছায়া নেমে এসেছে। উদ্ধার-পরবর্তী আইনি প্রক্রিয়া শেষে মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে।

ক্যাটাগরি