শনিবার, ৮ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৪শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

এক্সক্লুসিভ

রাঙ্গামাটিতে স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতা ও নারী কারারক্ষীর বিরুদ্ধে পরকীয়ার অভিযোগে আদালতে ফৌজদারি মামলা

রাঙ্গামাটি জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের যুগ্ম আহ্বায়ক খোরশেদ আলম এবং রাঙ্গামাটি জেলা কারাগারের নারী কারারক্ষী জেসমিন আক্তারের বিরুদ্ধে ব্যভিচার, বিবাহবহির্ভূত সম্পর্ক এবং চুরির অভিযোগ এনে কিশোরগঞ্জের আমলি জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-১-এ একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

মামলার বাদী মো. রবিউল আওয়াল আদালতে দাখিল করা অভিযোগপত্রে উল্লেখ করেন, ২০০৮ সালে ইসলামী শরিয়াহ অনুযায়ী জেসমিন আক্তারের সঙ্গে তার বিবাহ হয়। দাম্পত্য জীবনে তাদের দুই পুত্রসন্তান রয়েছে। উভয়েই একসময় কারারক্ষী হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

অভিযোগে বলা হয়, রাঙ্গামাটি জেলা কারাগারে কর্মরত অবস্থায় জেসমিন আক্তারের সঙ্গে খোরশেদ আলমের পরিচয় হয় এবং পরবর্তীতে তাদের মধ্যে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে ওঠে। বিষয়টি জানতে পেরে তিনি স্ত্রীকে তালাক দেন। পরে দুই সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনায় নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদের উদ্যোগে সালিশের মাধ্যমে তাদের পুনরায় একত্রে বসবাসের ব্যবস্থা করা হয়। তবে সেই সিদ্ধান্তের পরও অভিযুক্তদের মধ্যে যোগাযোগ অব্যাহত ছিল বলে বাদীর অভিযোগ।

বাদীর দাবি, মামলার সঙ্গে সংযুক্ত অডিও রেকর্ডে খোরশেদ আলম ও জেসমিন আক্তারের কথোপকথন রয়েছে, যেখানে তাদের দীর্ঘদিনের ব্যক্তিগত সম্পর্কের বিষয় উঠে এসেছে বলে তিনি দাবি করেছেন। এসব অডিও রেকর্ডকে গুরুত্বপূর্ণ আলামত হিসেবে আদালতে দাখিল করা হয়েছে এবং সেগুলোর ফরেনসিক পরীক্ষা ও বিচারিক মূল্যায়নের আবেদনও জানানো হয়েছে।

অভিযোগপত্রে আরও বলা হয়, ঘটনার সময় জেসমিন আক্তার বাসা ত্যাগ করেন। পরে বাদী বাসায় ফিরে তাকে না পেয়ে খোঁজাখুঁজি করেন। একই সঙ্গে বাসা থেকে আনুমানিক তিন ভরি স্বর্ণালংকার, যার বাজারমূল্য প্রায় ৬ লাখ টাকা, এবং ২ লাখ ২০ হাজার টাকা নগদ অর্থ খোয়া যাওয়ার অভিযোগও করা হয়েছে।

বাদী বাংলাদেশ দণ্ডবিধির ৪৯৭, ৪৯৮ ও ৩৮০ ধারায় অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণের আবেদন জানিয়েছেন। মামলার সঙ্গে তালাকনামা, সালিশের কাগজপত্র, কল রেকর্ড, জাতীয় পরিচয়পত্রের অনুলিপিসহ বিভিন্ন নথি সংযুক্ত করা হয়েছে বলে অভিযোগপত্রে উল্লেখ রয়েছে।

এ বিষয়ে আদালত এখনও কোনো রায় দেননি। অভিযুক্তদের পক্ষ থেকেও এ মামলার অভিযোগের বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য প্রকাশ করা হয়নি। তবে খোরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করে তার বক্তব্য জানতে চাওয়া হলে তিনি এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে ইচ্ছুক নন বলে জানান।

ফলে মামলায় উত্থাপিত অভিযোগগুলো আদালতের বিচারিক প্রক্রিয়ায় যাচাই ও নিষ্পত্তির বিষয়।

ক্যাটাগরি