বুধবার, ১২ই আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ২৮শে শ্রাবণ, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার

কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুই সন্তানের জননীকে নিয়ে নিরুদ্দেশ ইউপি মেম্বার মিজান, এলাকায় চাঞ্চল্য

কক্সবাজারের চকরিয়ায় দুই সন্তানের জননীকে নিয়ে নিরুদ্দেশ ইউপি মেম্বার মিজান, এলাকায় চাঞ্চল্য নিজস্ব প্রতিবেদক,চকরিয়া চকরিয়া উপজেলার সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সাত নম্বর ওয়ার্ডের মেম্বার মিজানুর রহমানের বিরুদ্ধে পরকীয়া প্রেমের অভিযোগ উঠেছে। তিন সন্তানের জনক বেরসিক ইউপি মেম্বার সম্প্রতি একই এলাকার সিএনজি চালকের স্ত্রী দুই সন্তানের জননীকে নিয়ে লাপাত্তা হয়েছেন বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইতোমধ্যে তারা নোটারীর মাধ্যমে বিয়ে করে সংসারও শুরু করেছে।

এ ঘটনাটি নিয়ে এলাকার লোকজনের মাঝে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। অন্যদিকে ১৪ বছরের সুখের সংসার ছেড়ে এবং দুই অবুঝ শিশু সন্তানের ভবিষ্যত জীবন অন্ধকারে ফেলে পরকীয়া প্রেমের টানে লম্পট প্রেমিকের হাত ধরে গৃহবধূ হাসনা আক্তার রুমির (২৮) পালিয়ে বিয়ে করার ঘটনায় নিদারুণ কষ্টের মুখোমুখি হয়েছেন স্বামী সিএনজি অটোরিকশা চালক মোঃ ওসমান গনি (৩৮)। পুর্ব সুরাজপুর ৭ নম্বর ওয়ার্ডের কবির আহমদের ছেলে ভুক্তভোগী ওসমান গনি বলেন, ২০১২ সালে কোনধরনের বিনিময় ছাড়া সামাজিক ও ধর্মীয় রীতিতে তিনি বিয়ে করেন চকরিয়া উপজেলার পুর্ববড় ভেওলা ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ড দিয়ারচর এলাকার নুরুল আলমের মেয়ে হাসনা আক্তার রুমিকে। বিয়ের পর দশম শ্রেণিতে পড়ুয়া স্ত্রী রুমিকে নিজখরচে মাস্টার্স পর্যন্ত লেখাপড়া করিয়েছেন ওসমান গনি। দীর্ঘ ১৪ বছরের সংসার জীবনে তাদের কোলজুড়ে আসে দুই সন্তান।

তাঁর মধ্যে ছেলে আবদুল্লাহ আল তামিম (১২) চকরিয়া পৌরশহরের একটি মাদরাসায় লেখাপড়া করছেন। ছোট মেয়ে রুখি (৮) থাকতেন মায়ের সঙ্গে বাড়িতে। ওসমান গনি আক্ষেপ করে বলেন, আমার সংসারে কোনকিছুর অভাব ছিল না। আমি সারাদিন জীবিকার তাগিদে সিএনজি অটোরিকশা চালাতে বাড়ির বাইরে থাকতাম। এ সুযোগে আমার এলাকার বাসিন্দা তিন সন্তানের জনক লম্পট ইউপি মেম্বার মিজানুর রহমান নানাভাবে কুটকৌশল করে আমার স্ত্রী হাসনা আক্তার রুমির সঙ্গে পরকীয়া প্রেমের সম্পর্ক তৈরি করে। তিনি বলেন, কিছুদিন আগে রাতে বাড়ি ফিরে দেখি আমার স্ত্রী রুমি মোবাইলে কার সঙ্গে কথা বলছেন। পরে তাঁর হাত থেকে মোবাইল কেড়ে নিয়ে ফোন নম্বর মিলিয়ে দেখি, সেটি মেম্বার মিজানের। সেইদিন তাঁকে (স্ত্রী রুমিকে) দুই সন্তানের ভবিষ্যত জীবনের কথা স্বরণ করিয়ে দিয়ে এই পথ থেকে সরে আসতে অনুরোধ করি। এরপর কিছুদিন ভালো হয়ে গেছে, এমন বেস ধরলেও পরে সে আগের মতো পরকীয়া প্রেমে জড়িয়ে পড়ে। এরই একপর্যায়ে গত ২৮ এপ্রিল সকালে ছোট শিশু মেয়েকে সাথে নিয়ে আমার স্ত্রী হাসনা আক্তার রুমি লম্পট ইউপি মেম্বার মিজানের সঙ্গে পালিয়ে যায়।

ভুক্তভোগী স্বামী ওসমান গনি অভিযোগ করে বলেন, পরকীয়া প্রেমিক নারী লোভী মেম্বার মিজানের সঙ্গে পালিয়ে যাবার সময় হাসনা আক্তার রুমি আমার বাড়ি থেকে নগদ সাড়ে চার লাখ টাকা এবং সাড়ে তিন ভরি স্বর্ণ নিয়ে গেছে। ঘটনাটি আমার শশুর বাড়িতে গিয়ে সবাইকে জানিয়েছি, কিন্তু তাঁরা পালিয়ে যাওয়া আমার স্ত্রীকে ফেরাতে পারেনি। এখন শুনেছি, তাঁরা নোটারির মাধ্যমে বিয়ে করে চকরিয়া পৌরসভার সবুজবাগ এলাকায় ভাড়া বাসায় সংসার শুরু করেছে। ওসমান গনি বলেন, আমার স্ত্রীকে ফুসলিয়ে নিয়ে গিয়ে লম্পট ইউপি মেম্বার মিজান বিয়ে করার ঘটনাটি এলাকার সকলস্থরের গন্যমান্য লোকজন জানেন। অনেকে আমাকে এব্যাপারে আইনের আশ্রয় নিতে পরামর্শ দিয়েছেন। এ ঘটনা শুনে ইউপি মেম্বার মিজানুর রহমান এখন আমাকে বিভিন্ন মারফতে হুমকি ধমকি দিচ্ছে।

ঘটনা নিয়ে প্রশাসন কিংবা থানা আদালতে কোনধরনের অভিযোগ করলে আমাকে সন্ত্রাসী ভাড়া করে অপহরণ করবে,প্রাণে হত্যা করবে বলে শাসাচ্ছে। এ অবস্থায় আমি নিজের নিরাপত্তার পাশাপাশি নারী লোভী মেম্বার মিজানের বিরুদ্ধে উপযুক্ত শাস্তির ব্যবস্থা গ্রহনে চকরিয়া পেকুয়াবাসির অভিভাবক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চকরিয়া উপজেলা প্রশাসন এবং থানা পুলিশ প্রশাসনের কাছে জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করছি। স্থানীয় এলাকাবাসী জানান, ইউপি মেম্বার মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে নারীদের নিয়ে নানাধরণের স্ক্যান্ডালে জড়িত।

বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদ থেকে ভিজিডি, ভিজিএফ কার্ড এবং সরকারি সেবা পাইয়ে দেবার অজুহাতে নারীদের সঙ্গে সখ্যতা গড়ে তুলে নানাবিধ অপকর্ম করে এসেছে। অভিযোগ বিষয়ে জানতে মোবাইল ফোনে বেশকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়,কিন্তু মেম্বার মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনের সংযোগ বন্ধ থাকায় তাঁর বক্তব্য জানা সম্ভব হয়নি। তবে বিষয়টি প্রসঙ্গে সুরাজপুর মানিকপুর ইউনিয়ন পরিষদের প্রশাসক ও চকরিয়া উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) রুপায়ন দেব বলেন, কেউ দ্বিতীয় বিয়ে করলে নিকাহ রেজিস্ট্রার আইন অনুযায়ী প্রথম স্ত্রীর অনুমতি নিতে হবে। সেক্ষেত্রে ইউপি মেম্বার সেটি প্রতিপালন করেছে কীনা জানিনা।

তিনি বলেন, তবে এবিষয়ে তাঁর আগের স্ত্রী, বা ভুক্তভোগী অন্য কেউ লিখিত অভিযোগ করলে সেটির আলোকে অভিযুক্ত ইউপি মেম্বারের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহনের জন্য স্থানীয় সরকার বিভাগ কক্সবাজারের উপপরিচালকের কাছে সুপারিশ করা হবে।

ক্যাটাগরি