বছরের পর বছর আন্দোলন, তবুও মিলেনি ন্যায্য দাম—মে দিবসে পেকুয়ার লবণ চাষিদের চোখে শুধু হতাশার জল!”
জাতীয় শ্রমিক দিবসে যখন শ্রমজীবী মানুষের অধিকার ও মর্যাদার কথা উচ্চারিত হচ্ছে, তখন উপকূলীয় জনপদ পেকুয়া ও কক্সবাজার-এর লবণ চাষিদের দীর্ঘদিনের বঞ্চনার গল্প আবারও সামনে এসেছে।
বছরের পর বছর ধরে ন্যায্য দামের দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন লবণ চাষিরা। কখনো মানববন্ধন, কখনো সড়ক অবরোধ, আবার কখনো প্রতীকী প্রতিবাদ—সবই করেছেন তারা। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আজও তাদের সেই দাবি পূরণ হয়নি।
চলতি মৌসুমে রেকর্ড উৎপাদন হলেও চাষিরা মাঠ পর্যায়ে প্রতি মণ লবণ মাত্র ২০০-২৫০ টাকায় বিক্রি করতে বাধ্য হচ্ছেন, যেখানে উৎপাদন খরচই পড়ছে প্রায় সাড়ে ৪০০ টাকা। প্রতি কেজি লবণ ৪-৫ টাকায় বিক্রি হলেও বাজারে সেটি ৪০-৪৫ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। মাঝখানে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্যে চাষিরা বঞ্চিত হচ্ছেন তাদের ন্যায্য প্রাপ্য থেকে।
লবণ চাষিদের অভিযোগ, বারবার দাবি জানানো সত্ত্বেও কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেয়া হয়নি। বরং প্রতি বছরই একই চিত্র—লোকসান, ঋণের বোঝা আর অনিশ্চিত ভবিষ্যৎ।
এরই মধ্যে সাম্প্রতিক ঝড়-বৃষ্টিতে লবণ মাঠের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। অনেক জায়গায় লোনা পানি মিষ্টি হয়ে যাওয়ায় নতুন করে উৎপাদনে অতিরিক্ত খরচ গুনতে হচ্ছে। পেকুয়ার কিছু এলাকায় স্লুইসগেট ভেঙে যাওয়ায় পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ আকার ধারণ করেছে।
পেকুয়ার ১০ হাজারেরও বেশি লবণ চাষি পরিবার এখন চরম অর্থনৈতিক সংকটে। কেউ ঋণ শোধ করতে পারছেন না, কেউ আবার পরিবার চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন। অনেকেই হতাশ হয়ে বলছেন—এভাবে চলতে থাকলে তারা এই পেশা ছেড়ে দিতে বাধ্য হবেন।
এই লবণ চাষিরাই তপ্ত রোদে দাঁড়িয়ে, লোনা পানিতে দিন কাটিয়ে দেশের মানুষের জন্য লবণ উৎপাদন করেন। অথচ তাদের নিজেদের জীবনে নেই কোনো স্বস্তি, নেই ন্যায্য মূল্য পাওয়ার নিশ্চয়তা।