বুধবার, ২৬শে আগস্ট, ২০২৬ খ্রিস্টাব্দ ১১ই ভাদ্র, ১৪৩৩ বঙ্গাব্দ

কক্সবাজার

পেকুয়ায় জমি জবরদখল চেষ্টার অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন

পেকুয়া থানার অদূরে রাতের আধারে জমি জবরদখলের চেষ্টা, ভাঙচুর ও গাছপালা নিধনের অভিযোগে সংবাদ সম্মেলন করেছে এক ভুক্তভোগী পরিবার। অভিযোগের তীর ডা. বেলাল হায়দার-এর বিরুদ্ধে।

বৃহস্পতিবার (৯ এপ্রিল) দুপুর ২টায় পেকুয়া থানা রোডস্থ ফিরোজ আহমদ চৌধুরী জামে মসজিদের পাশে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে ভুক্তভোগী নাসির উদ্দিন সিকদার অভিযোগ করেন, বিএস ১১২০ নম্বর খতিয়ানের আওতায় ১৯৯৮ ও ২০০১ সালের দুটি দলিলের মাধ্যমে তিনি ৩০ শতক জমি ক্রয় করে দীর্ঘদিন ধরে ভোগদখলে আছেন।

তিনি জানান, ২০২১ সালে ডা. বেলাল হায়দারের সঙ্গে ১২ শতক জমি ১ কোটি টাকায় বিক্রয়ের বায়নানামা করা হয়। তবে রেজিস্ট্রারকৃত বায়নায় কৌশলে জমির মূল্য ১০ লাখ টাকা উল্লেখ করা হয়। বিষয়টি জানাজানি হলে উভয়ের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি হয় এবং পরবর্তীতে রেজিস্ট্রি আর সম্পন্ন হয়নি।

নাসির উদ্দিন সিকদারের দাবি, ওই সময় এলাকায় ২ শতক জমির বাজারমূল্য ছিল ২০-২৫ লাখ টাকা। মৌখিক চুক্তি ও লিখিত বায়নার মূল্যের মধ্যে বড় ধরনের পার্থক্য থাকায় একাধিক সালিশ বৈঠক হলেও সমাধান হয়নি। পরে ২০২৫ সালে মেয়াদোত্তীর্ণ বায়নার ভিত্তিতে বিষয়টি চকোরিয়া জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-এ মামলা হিসেবে বিচারাধীন রয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে আরও অভিযোগ করা হয়, আদালতের রায় হওয়ার আগেই ডা. বেলাল হায়দার প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলের চেষ্টা ও হুমকি দিয়ে আসছেন। এ অবস্থায় নাসির উদ্দিনের ছেলে আবদুর রহিম সজিব গত ২৫ মার্চ পেকুয়া থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১০৬৪) করেন।

নাসির উদ্দিনের স্ত্রী রেহেনা বেগম অভিযোগ করেন, অসুস্থ স্বামীর সঙ্গে প্রতারণা করে কম মূল্যে বায়না করে নেওয়া হয়েছে এবং এরপর থেকে তাদের বিভিন্নভাবে হয়রানি করা হচ্ছে।

আবদুর রহিম সজিব বলেন, “৮ এপ্রিল দিবাগত রাত প্রায় ১টা ৪৫ মিনিটে সশস্ত্র লোকজন নিয়ে হামলা চালিয়ে ঘেরা ভাঙচুর ও গাছপালা নিধন করা হয়। বর্তমানে আমরা চরম নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে গেলে প্রভাবের কারণে তা গ্রহণ করা হয়নি।

অভিযোগের বিষয়ে যোগাযোগ করা হলে ডা. বেলাল হায়দার বলেন, “ওই জায়গায় কারা হামলা করেছে, তা আমার জানা নেই। তবে জমিটি আমার পক্ষে বৈধভাবে ক্রয় করা এবং এ সংক্রান্ত প্রয়োজনীয় কাগজপত্র রয়েছে।” তিনি দাবি করেন, ২০১৯ সালে তিনি আলী হাসান চৌধুরীর কাছ থেকে জমিটি ক্রয় করেন এবং স্থানীয় বিচারে তার পক্ষে রায়ও রয়েছে। জমির মূল্য বৃদ্ধি পাওয়ায় একটি মহল রেজিস্ট্রি সম্পন্নে বাধা দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

এ বিষয়ে ইমরুল হাসান বলেন, এ ধরনের কোনো অভিযোগ তার জানা নেই। কেউ অভিযোগ নিয়ে এলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ক্যাটাগরি