আলীকদমের ৩২ দুর্গম পাহাড়ি পাড়ায় সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্পের উদ্বোধন
৯.৫ কিলোমিটার পাইপলাইনে ঝিরির পানি পৌঁছাবে ৩২ পাড়ায়, উপকৃত হবেন দুর্গম পাহাড়ের বাসিন্দারা
বান্দরবানের আলীকদম উপজেলার থিংকুপাড়াসহ ৩২টি দুর্গম পাহাড়ি পাড়ার দীর্ঘদিনের পানিসংকট নিরসনে বিশুদ্ধ পানি সরবরাহ প্রকল্প বাস্তবায়ন করেছে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। দুর্গম পাহাড়ি পথ, খাড়া ঢাল ও প্রতিকূল ভৌগোলিক পরিবেশে দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপনের মাধ্যমে বাস্তবায়িত এ প্রকল্পের ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদের জন্য নিরাপদ সুপেয় পানির সহজলভ্যতা তৈরি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) আলীকদম উপজেলার থিংকুপাড়ায় আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রকল্পটির উদ্বোধন করেন ৩৪ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্রিগেডের কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো: শামছুল আলম , এনডিসি, পিএসসি।
বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর ১৭ ইঞ্জিনিয়ার কনস্ট্রাকশন ব্যাটালিয়ন (১৭ ইসিবি) প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করে। প্রকল্পের আওতায় পাহাড়ি ঝিরি থেকে প্রায় ৯.৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পাইপলাইনের মাধ্যমে পানি সংগ্রহ ও সরবরাহের ব্যবস্থা করা হয়েছে। এ জন্য স্থাপন করা হয়েছে আটটি আউটলেট। এর মাধ্যমে থিংকুপাড়াসহ আশপাশের ৩২টি দুর্গম পাহাড়ি পাড়ার বাসিন্দারা পানি সংগ্রহের সুযোগ পাবেন।
দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় এ ধরনের পানি সরবরাহ অবকাঠামো নির্মাণ ছিল যথেষ্ট চ্যালেঞ্জিং। পাহাড়ের উঁচু-নিচু ভূপ্রকৃতি, দুর্গম যোগাযোগব্যবস্থা এবং প্রতিকূল পরিবেশ মোকাবিলা করে সেনাবাহিনীর প্রকৌশল সদস্যরা দীর্ঘ পাইপলাইন স্থাপনের কাজ সম্পন্ন করেন। প্রকল্প বাস্তবায়নে তাঁদের নিরলস পরিশ্রম ও কারিগরি দক্ষতা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের দীর্ঘদিনের অন্যতম সমস্যা ছিল নিরাপদ পানির অভাব। পানির জন্য অনেক ক্ষেত্রে দূরের ঝিরি-ঝরনার ওপর নির্ভর করতে হতো। নতুন এ প্রকল্পের ফলে পানি সংগ্রহে তাঁদের সময় ও শারীরিক শ্রম কমবে বলে আশা করা হচ্ছে। বিশেষ করে নারী ও শিশুদের দৈনন্দিন পানির সংগ্রহের কষ্ট লাঘবে প্রকল্পটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
এ ছাড়া নিরাপদ সুপেয় পানির সহজপ্রাপ্যতা স্থানীয় জনগোষ্ঠীর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে। অনিরাপদ পানি ব্যবহারের কারণে সৃষ্ট পানিবাহিত রোগের ঝুঁকি কমানোর পাশাপাশি শিশু ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যদের জন্য স্বাস্থ্যসম্মত জীবনযাপনের সুযোগ বাড়বে।
সংশ্লিষ্টদের মতে, এ প্রকল্প শুধু ৩২টি পাহাড়ি পাড়ায় পানি সরবরাহের ব্যবস্থা নয়; বরং দুর্গম জনপদের মানুষের মৌলিক চাহিদা পূরণ, জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা এবং জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে একটি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগ। দুর্গম পাহাড়ে প্রকৌশলগত সক্ষমতা কাজে লাগিয়ে মানুষের কাছে নিরাপদ পানি পৌঁছে দেওয়ার এ উদ্যোগ স্থানীয় জনগোষ্ঠীর দৈনন্দিন জীবনে ইতিবাচক পরিবর্তন আনবে বলে আশা করা হচ্ছে।