সাজেকের আতঙ্ক ভুলে পর্যটকদের ঢল বান্দরবানে, উপচে পড়া ভিড়ে ঠাঁই নেই হোটেল-রিসোর্টে
হাবিবুর রশিদ হিমন,বান্দরবান প্রতিনিধি:
পাহাড়ি কন্যা বান্দরবানে এখন পর্যটকদের উপচে পড়া নজিরবিহীন ভিড় লক্ষ্য করা যাচ্ছে। একদিকে দুর্গাপূজার দীর্ঘ ছুটি ও আগামী ২৬ অক্টোবর থেকে শুরু হতে যাওয়া বৌদ্ধ সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী প্রবারণা পূর্ণিমার রথযাত্রা উৎসব, অন্যদিকে সাজেকে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার কারণে সেখান থেকে চলে আসা হাজারো পর্যটকের আগমন— সব মিলিয়ে বান্দরবানে এখন তিল ধারণের ঠাঁই নেই। রেকর্ড সংখ্যক পর্যটকের পদভারে মুখরিত পাহাড়ি এই জনপদের সার্বিক পরিস্থিতি সামলাতে রীতিমতো হিমশিম খাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার সাজেকে ঘুরতে গিয়ে সন্ত্রাসীদের আকস্মিক হামলার ঘটনায় আটকা পড়েছিলেন ঢাকার পর্যটক দম্পতি আবুল মনসুর ও সুমাইয়া রহমানসহ শত শত মানুষ। পরবর্তীতে সেনাবাহিনীর কড়া নিরাপত্তায় তারা নিরাপদে সেখান থেকে উদ্ধার হয়ে সোজা চলে আসেন বান্দরবানে। শহরের কাছের পর্যটন কেন্দ্র নীলাচলে দেখা হওয়া এই দম্পতি জানান, ঢাকা থেকে বুধবার তারা সাজেক গিয়েছিলেন, কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ায় চরম আতঙ্কের মধ্যে পড়েন। সেনাবাহিনীর সহায়তায় দ্রুত সেখান থেকে বেরিয়ে বান্দরবান এসে অবশেষে তারা স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছেন এবং শান্তিপূর্ণ পরিবেশে প্রকৃতির অপার সৌন্দর্য উপভোগ করছেন। শুধু এই দম্পতিই নন, সাজেক থেকে চলে আসা এমন অসংখ্য পর্যটকের উপস্থিতিতে মুখরিত হয়ে উঠেছে বান্দরবানের প্রতিটি পর্যটন কেন্দ্র।
পর্যটকদের এই আকস্মিক ও বিশাল ঢলে বান্দরবান শহর ও আশপাশের শতাধিক হোটেল, মোটেল ও রিসোর্টে কোনো রুমই এখন খালি নেই। আগে থেকে বুকিং না দিয়ে আসায় তীব্র আবাসন সংকটে পড়ে চরম বিপাকে পড়েছেন হাজারো পর্যটক, যাদের অনেককে বাধ্য হয়ে খোলা আকাশের নিচেও দিনযাপন করতে দেখা গেছে।
চট্টগ্রাম থেকে আসা পর্যটক আব্দুর রহিম জানান, তারা হঠাৎ বান্দরবান চলে আসায় কোনো হোটেল-মোটেলে রুম পাননি, পরে স্থানীয় একজনের মাধ্যমে একটি পাহাড়ি ঘরে রাত্রিযাপন করতে পেরেছেন। কক্সবাজার ও বান্দরবান কাছাকাছি হওয়ায় অনেক পর্যটকই এখন এই দুটি জায়গাকে ভ্রমণের জন্য বেছে নিচ্ছেন।
বান্দরবান হোটেল-মোটেল-রিসোর্ট মালিক সমিতির সভাপতি সিরাজুল ইসলাম জানিয়েছেন, এবার ছুটিতে রেকর্ড সংখ্যক পর্যটক বান্দরবান এসেছেন। শহর ও আশপাশের কোনো রুমই খালি না থাকায় এবং অনেকে আগাম বুকিং ছাড়া চলে আসায় সবকিছু মিলিয়ে তাদের বেশ হিমশিম খেতে হচ্ছে।
আবাসন সংকট সামাল দিতে প্রশাসনের বিকল্প ভাবনার কথা জানিয়ে অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক মো: এস এম হাসান বলেন, পর্যটকদের নিরাপত্তা ও স্বস্তি নিশ্চিতকরণে নজরদারি ও প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। তাছাড়া আসন্ন প্রবারণা পূর্ণিমার রথযাত্রা উৎসবকে কেন্দ্র করে এই পর্যটকমুখর পরিবেশ আরও কিছুদিন অব্যাহত থাকার প্রত্যাশা করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ীরা।